বুধবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৮

না.গঞ্জের প্রধান তিনটি কলেজে ফল বিপর্যয়ের নেপথ্যে

শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:২০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: শহরের প্রধান কলেজগুলোর নাম বলতে গেলে শুরুতেই আসে সরকারি তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মহিলা কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের নাম। শহরের প্রাণ কেন্দ্রেই কলেজগুলোর অবস্থান। কিন্তু গত কয়েক বছর যাবৎ কলেজগুলো ভূগছে ফল বিপর্যয়ে। প্রতিটি কলেজেই পাশের হার কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। সেই সাথে কমেছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা। এমতাবস্থায় অনেকেই দায়ী করেন শিক্ষার্থীদের কলেজ ফাঁকির বিষয়কে। কলেজ ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার, রেল ষ্টেশন ও বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টে আড্ডা দেয়। এছাড়া অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি তো আছেই। রাত জেগে মোবাইল অপারেট আর দিনের বেলা ঘুম। ফলে কলেজে উপস্থিতি খুবই কম। তাছাড়া অনেক শিক্ষার্থী আবার কোচিং নির্ভর হয়ে পড়েছে। নিয়মিত কোচিং করলেও কলেজে গড় হাজির থাকছেন তারা। কারণ অনুপস্থিতির বিষয়ে কলেজে কোন প্রকার জাবাবদিহিতা নেই। তার উপর শিক্ষকরাও ঠিকমত ক্লাস নেন না। এমনকি ক্লাশে অনুপস্থিতির বিয়য়েও কড়াকড়ি নেই। তাই শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকদের মতো উদাসীন। এমন অভিযোগ অভিভাবক মহলের।

প্রতিদিন সকাল হলেই চোখে পড়বে শহীদ মিনারে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর আগমন। চাষাড়া রেল ষ্টেশনে থাকা চায়ের দোকানগুলোও হয়ে ওঠে আড্ডার অন্যতম স্থান। সেই সাথে কলেজ রোডে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গড়ে ওঠা রেষ্টুরেন্টগুলোতে কলেজগুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের আড্ডার পরিমান রেষ্টুরেন্টের দেয়ালের আড়ালেই গোপন থেকে যায়। হিসাব করে দেখা যায় কলেজ রোড থেকে আদর্শ গার্লস স্কুল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে ৩০টি রেষ্টুরেন্ট আছে। রাস্তার ভিতরে ও আশেপাশে আরো কি পরিমান রেষ্টুরেন্ট আছে তার হিসেব তো কারো কাছেই নাই। মূলত রেষ্টুরেন্টগুলো কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের টার্গেট করেই বানানো হয়েছে। কলেজ ফাঁকি দিয়ে অবাধে যেমন চলে আড্ডা তেমনি শহীদ মিনারের মত পবিত্র জায়গায় অবাধে চলে ধূমপান। পুলিশ থাকলেও তারা যেন নিরব দর্শক। প্রতিবাদ তো দুরের কথা, কোনো কথাই তারা বলেন না।

কলেজের ফলাফল বিপর্যয়ে সব থেকে বেশি ভয়াবহ অবস্থায় আছে সরকারি তোলামার কলেজ। তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কলেজের ব্যবস্থাপনার কিছু ত্রুটির কথা। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জানা যায় কলেজে প্রবেশে কিংবা বাহির হওয়ার ক্ষেত্রে নেই কোনো বিধি নিষেধ। ছাত্র-ছাত্রীরা যখন খুশি তখন কলেজে প্রবেশ করে এবং যখন খুশি তখন বেরিয়ে যায়। এছাড়াও কলেজটিতে উপস্থিতি কিংবা বাধ্যতামূলক ক্লাস করার কোনো বিধি বিধান নেই। এই সুযোগের সঠিক ব্যবহার করতে বিন্দুমাত্র পিছুপা হয় না ছাত্র-ছাত্রীরা। সকাল বেলা কলেজের নাম দিয়ে বাসা থেকে বের হলেও ছাত্র-ছাত্রীদের ঠিকানা হয় চাষাড়া শহীদ মিনার কিংবা বিভিন্ন রেষ্টুরেন্ট অথবা চায়ের দোকান। একই অবস্থা দেখা যায় সরকারি মহিলা কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের ফলাফল। তবে এবার নারায়ণগঞ্জ কলেজে পাশের হার বাড়লেও বাড়েনি জিপিএ-৫। মোটকথা আশানূরূপ ফলাফল করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জের প্রধান তিনটি কলেজ। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে আরো ভয়াবহ ফলাফল হতে পারে কলেজগুলোর।

তোলারাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ইমনের সাথে কথা হলে সে জানায়, ‘কলেজে প্রতিদিন আসি। কিন্তু ক্লাস করা হয় না। প্রথম কয়েকদিন ক্লাস করলেও এখন তো ক্লাস করাই হয় না। অধিকাংশ সময় শহীদ মিনারে আড্ডা দিয়েই চলে যায়। প্রায় সময় ট্রেনে করে ঘুরতে যাওয়া হয়। এইভাবেই চলছে কলেজ লাইফ।’ পড়ালেখার কথা বলতেই সে বলে, কোচিংয়ে পড়ছিতো। প্রতিদিন দুইটা কোচিংয়ে পড়ি, তাই কলেজে যাই না।

অভিভাবকদের সাথে কথা হলে তারা হতাশা প্রকাশ করেন। তাদের অনেকেই নিজেদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। সন্তানের খোঁজ খবর রাখা অভিভাবকদের দায়িত্ব হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা তা করে উঠতে পারেন না। যেহেতু কলেজগুলো সর্বদা শিক্ষার্থীদের নজরে রাখে তাই তাদের সন্তানের উপস্থিতি সম্পর্কে যাতে তাদের জানানো হয় এ ব্যাপারে তাদের অবগত করার কথাও তারা জানান। প্রয়োজনে কলেজগুলোকে কঠোর হতে বলেন। ক্লাস চলাকালীন সময় কোনো ছাত্র-ছাত্রী যাতে কলেজের বাইরে যেতে না পারে তার উপর কড়াকড়ি আনা উচিত বলে মনে করেন অভিভাবকরা।

এদিকে মহিলা কলেজে প্রবেশ এবং বাহিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ থাকলেও ক্লাসে অনুপস্থিতির বিষয়ে কোন জবাবদিহিতা নেই।

সরকারী তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ বেলা রানী সিংহ বলেন, বিগত বছরের রেজাল্ট সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারছি না। গত বছরের রেজাল্ট তেমন ভাল ছিল না। এবারও কিছুটা খারাপ হয়েছে। তবে আগামীতে কলেজের রেজাল্ট ভাল হবে আমি আশাবাদী।

মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বেদোয়ারা বিনতে হাবীব তাদের কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বলেন, আমদের কলেজে নিয়ম-কানুনে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়। অভিভাবকদের মিটিং এ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। অভিভাবকদের তাদের সন্তানের লেখাপড়ার উপর যত্নশীল হওয়ার কথা বলা হয়। শিক্ষার্থীরা কলেজে না এসে বাহিরে ঘোরাফেরা করে। এই বিষয়ে তাদের জানানো হয়। তবে কলেজের এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন বলে জানান। কলেজের রেজাল্ট আরও ভালো করার চেষ্টা করা হবে।

সব খবর
শিক্ষাঙ্গন বিভাগের সর্বশেষ