শুক্রবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮

নবীগঞ্জ ফেরীঘাট, যেখানে একটু প্রশান্তি

বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৩৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

আফসানা মুন (প্রেস নারায়ণগঞ্জ): ইটপাথরের এই নগরীতে কোলাহলমুক্ত বা মুক্তপরিবেশে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যাবে এমন স্থান খুবই কম। বিশেষ করে শহরের ভিতর এমন স্থান নেই বললেই চলে। শত ব্যস্ততার মাঝে, হাজারো কাজের ফাঁকে মানুষ চায় একটু প্রশান্তি। মন ছুটে যেতে চায় দূর দূরান্তে। চোখ মেলে দেখতে ইচ্ছে করে প্রকৃতিতে একটু খোলা-মেলা নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও নান্দনিক পরিবেশ। নাগরিরক জীবনের কর্মব্যস্ততায় হাপিয়ে ওঠা মানুষগুলো দিন শেষে বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সুযোগ খোঁজে একটু ভিন্নতায় নিজেকে ও পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে। নারায়ণগঞ্জ শহরে এমনই একটি স্থান হিসেবে খুব অল্প সময়ে মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে উঠেছে নবীগঞ্জ ফেরীঘাট সংলগ্ন শীতলক্ষ্যার পাড়।

চাষাড়া থেকে রিকশা বা ল্যাগুনায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটেই পৌছানো যাবে স্থানটিতে। সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের রসনা ও দৃষ্টির সুখের চাহিদা মেটাতে, পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে মনোরম পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটানোর জন্য সকল বয়সের মানুষ ভিড় করে এখানে। নদীর পাশেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক তৈরী করা আছে বসার স্থান। এবং তারই আশেপাশে বিভিন্ন ফুল গাছের চারাও লাগানো রয়েছে।

নদী পাড়ের নির্মল বাতাশ ও নদী,আকাশে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আকৃষ্ট করে সকলকে। তাই প্রতিদিন স্থানটিতে ভিড় করে শতাধিক মানুষ। প্রিয়জন, বন্ধুবান্ধব, স্বজন, পরিবারের সদস্য দের নিয়ে রোজ বিকেলে ভিড় করেন ভ্রমণ পিপাসুরা।

বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) নবীগঞ্জ ফেরী ঘুরে দেখা যায়, ঘাটের পাশ্ববর্তী বসার স্থানটি মানুষে ভড়া। ছোট ছোট শিশুরা খেলাধুলা করছে। অনেকে নদীর পানিতে পা ভিজিয়ে বসে আছে। তার একপাশে কিছু ছেলেমেয়ে একজোট হয়ে আড্ডা দিচ্ছে। অনেকে পাশ্ববর্তী দোকানে বসে খাবার খাচ্ছেন ও গল্প করছেন। আড্ডা ও গল্পের সঙ্গে উপভোগ করছেন পড়ন্ত বিকেলের মনমুগ্ধকর প্রকৃতি ও নদী পাড়ের স্নিগ্ধ বাতাশ।

এ সময় কথা হয় সিরাজের সঙ্গে। সিরাজ দিনাজপুরের একজন বাসিন্দা। প্রথমবার নারায়ণগঞ্জ ছোট খালার বাসায় বেড়াতে এসেছে। দু`দিন ঘরে থাকার পর আজ দুই খালাতো বোন ও খালার সঙ্গে নদীর পাড়ে বেড়েতে এসেছেন। সিরাজ বলেন, `শহরের মধ্যে এমন একটা জায়গা ভাবাই যায় না। দু`দিন ঘরে থেকে দমবন্ধ হয়ে আসছিল। এখন খোলমেলা জায়গায় আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সুন্দর নারায়ণগঞ্জের এই দৃশ্যটাও দেখা হলো।`

সাজ্জাদ হোসেন একজন কর্মজীবী। বাড়ি পাঠানতলি। তার দেড় বছরের ছেলে সাকিলকে নিয়ে প্রতিদিন বিকেলে নদী পাড়ে বেড়াতে আসেন। সাজ্জাদ হোসেন বলেন, `বাচ্চাদের সারাক্ষণ ঘরমুখো করে রাখা উচিত নয়। আমি তাই প্রতিদিন ছেলেকে নিয়ে নদীর পাড়ে চলে আসি। ছেলেটাও অভ্যাস হয়ে গেছে। ব্যবস্ততার কারণে একদিন নিয়ে আসা না হলে ছেলে আমার রাগ করে থাকে৷ হাজার ডাকলেও কোলে আসে না। সত্যি বলতে এখানে না আসতে পারলে আমারো ভালো লাগে না। এখানে এসে নদীর দিকে তাকালে আমার সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। ছেলের সঙ্গে সময়ও কাটানো হয়।`

রুবেল, ফেরীঘাটের পাশেই বাস করেন। অবকাশের সময় ফেরীঘটে বসে বসে কফি বিক্রি করেন। রুবেল বলেন, `ছোট্টএকটা চাকরী করি আর অবকাশের সময় এখানে কফি বিক্রি করি। এখানে প্রতিদিন বিকেলে অনেক মানুষ ভিড় করে। অনেকে আবার হাটতে হাটতে এসে এখানেই বসে। ছেলেমেয়েরা আড্ডা দেয় কফি খায়। তাই আমার বিক্রি ভালো হয়। এতে আমার চলে যায়।`

নবীগঞ্জ ফেরীঘাটের পাশেই রয়েছে ছোট্ট একটি মার্কেট। যেখানে গৃহস্থলির অনেক কিছুই পাওয়া যায়। মানুষের ভিড় লক্ষ করে এখানে গড়ে ওঠেছে বিভিন্ন খাবারের দোকান। ফাস্টফুড, ফুচকা, চটপটি, চা, কফির মতো পাওয়া যায় আরো বিভিন্ন খাবার। তার পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ফেরীকরা পণ্য।

এছাড়াও ঘাটের পাশেই রয়েছে সারিসারি নৌকা। যে কেউ চাইলেই টাকার বিনিময়ে ঘন্টা অনুযায়ী নৌকা ভাড়া করে পরিবার, স্বজনদের সঙ্গে নদীর বুকে কাটাতে পারে স্মরণীয় কিছু মুহুর্ত।

সব খবর