বুধবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

নতুন প্রাণ পেলো ড্রেজার স্কুল

সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৩৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ৩৩ বছরের পুরনো ড্রেজার জুনিয়র হাইস্কুলটি ড্রেজার পরিদপ্তরের প্রকৌশলীর মৌখিক নির্দেশনায় বন্ধ ঘোষণার পর স্কুলটি ফের চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানও স্কুলটি চালু করার ব্যাপারে ড্রেজার পরিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুদ্দীন আহমদের সাথে আলোচনা করেন এবং স্কুলটি পনুরায় চালু করার নির্দেশ দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্কুলটির তালা খুলে দেন ড্রেজার পরিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুদ্দীন আহমদ। এ সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনেই স্কুলটির ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

৩৩ বছর পুরনো স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করায় শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছিল স্কুলটির শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে। নানা দৌড়ঝাপের পর স্কুলটি পুনরায় চালু করাতে তাদের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত আড়াইশ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হচ্ছে না। সকলেই কয়েকদিনের এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এই খুশিতে স্কুল প্রাঙ্গণে মিষ্টিমুখও করান একে অপরকে।

কথা হয় স্কুলটির সহকারী শিক্ষিকা পারভীন আক্তার মালার সাথে। যিনি স্কুলটি পুনরায় চালুর করার ব্যাপারে সবার অগ্রে কাজ করেছেন। তিনি প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘৩৩ বছরের পুরনো এই স্কুলটি পুনরায় প্রাণ ফিরে পেলো। বাচ্চা ছেলে-মেয়েগুলো আবার তাদের পড়াশোনার সুযোগ পাবে, এর চেয়ে খুশির কিছু নেই। এর জন্য এমপি সেলিম ওসমান ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে কৃতজ্ঞতা জানাই।’

তিনি আরো বলেন, স্কুলটির পুনরায় চালুর করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সাংবাদিকরা। আমি তাদেরকেও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

এদিকে স্কুলটি চালু করার বিষয়ে ড্রেজার পরিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুদ্দীন আহমদ বলেন, স্কুলটির বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও ড্রেজার অধিদপ্তরের গতকাল আলোচনা হয়েছে। এছাড়া এমপি সেলিম ওসমান সাহেবের সাথেও আলোচনা হয়েছে। তাদের নির্দেশেই স্কুলটি পুনরায় চালু ঘোষণা করা হলো।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালে ড্রেজার পরিদপ্তরের নিজস্ব খরচেই ‘ড্রেজার জুনিয়র হাইস্কুল’টি প্রতিষ্ঠিত হয়। গত ২০১৬ সাল পর্যন্ত ড্রেজার পরিদপ্তরের নিজস্ব অর্থায়নে চলতো স্কুলটি। ২০১৭ সালে ড্রেজার পরিদপ্তর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ণ বোর্ডের নীট বেইস সেট আপে অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু সেখানে এই স্কুলটি অন্তর্ভুক্ত না করায় ড্রেজার পরিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুদ্দীন আহমদের মৌখিক নির্দেশনায় ৩৩ বছর পুরোনো ‘ড্রেজার জুনিয়র হাইস্কুল’টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে ড্রেজার জুনিয়র হাই স্কুল বন্ধের কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ও ড্রেজার অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীকে এ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের এই নির্দেশ আমলে নিয়ে রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্কুলটি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়। এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের সাথে আলোচনা করা হলে তিনিও স্কুলটি চালু করার নির্দেশ দেন।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ