বুধবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৮

নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে বাবুরাইল খাল

সোমবার, ১ অক্টোবর ২০১৮, ২০:০৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে মন্ডলপাড়া থেকে চর কাশিপুর পর্যন্ত খালটি সংস্কার করা হচ্ছে। কয়েক বছর যাবত এই খালটি অকেজো অবস্থায় পড়ে ছিল। ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল খালটি। ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই খালটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক)। আর নাসিককে সহযোগিতা করছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা। খালটি সংস্কার হলে শহরের সৌন্দর্য অনেকটা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন নাগরিক মহল। খাল সংস্কারের এই উদ্যোগের জন্য নাসিককে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী ও নাগরিক মহল।

জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর মেয়াদী খাল সংস্কারের এই প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। মন্ডলপাড়া থেকে চর কাশিপুর পর্যন্ত খালটির সংস্কারের মোট ব্যয় হবে ১৭০ কোটি টাকা। চলতি মাসের শেষের দিকে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘের খাল সংষ্কারের এই প্রকল্পের সময় দেয়া হয়েছে ১৫ মাস। খাল সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে খালের জায়গা দখল করে থাকা দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। দুই দফায় মন্ডলপাড়ার জিমখানায় রাস্তার দুই পাশে থাকা মদিনা মার্কেটের সকল দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে নাসিক। এছাড়া জানা গেছে, খালের জায়গাতে যেসব স্থাপনা রয়েছে সব উচ্ছেদ করা হবে। এদিকে খালের জায়গায় যেসব স্থাপনা রয়েছে সেকল ইতিমধ্যে নাসিক থেকে সকলকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যেন তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়া হয়।

জানা গেছে, এই খালটি সংস্কার হলে শীতলক্ষ্যা নদী ও বুড়িগঙ্গার শাখা নদী যেটি চরকাশিপুর এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে সেই শাখার সাথে একটি সংযোগ তৈরি হবে। এদিকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি সংস্কার করা হলে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। এই খালে কোন প্রকারের ময়লা পানি কিংবা ড্রেনের পানি ফেলা হবে না। কেবলই বৃষ্টি ও ভূগর্ভের পানিতে পরিপূর্ণ থাকবে খালটি। খালের দুই পাশে থাকবে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে। ওয়াকওয়েতে থাকবে সবুজের সমারোহ। রাতের সৌন্দর্যের খাতিরে ওয়াকওয়েতে লাগানো এলইডি লাইট। এছাড়া খালের দুই পাশে রাস্তা হবে। রাস্তার দুই পাশে থাকবে ড্রেন। অনেকটা রাজধানীর হাতির ঝিল লেকের আদলে নির্মিত হবে এই খালটি। শহরের সৌন্দর্য বর্ধনে এই উদ্যোগ নিয়েছে নাসিক।

এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এফ এম এহ্তেশামূল হক বলেন, ‘নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্যই এই প্রকল্প ৷ ইতিমধ্যে এর কার্যক্রম চলছে ৷ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে তাঁর সুফল ভোগ করবে নগরবাসী ৷’

এদিকে নাসিকের খাল সংস্কারের এমন উদ্যোগের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছে নাগরিক মহল। তাদের মতে, একটি খাল উদ্ধার মানে শহরের প্রাণ ফিরিয়ে আনা। এই কাজটি সিটি কর্পোরেশন করছে বলে মেয়রকে এর জন্য ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানাই। নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, শহরে রাসেল পার্কটি এখনো সম্পন্ন হয়নি। কিন্তু যতোটুকু কাজ হয়েছে এর মধ্যেই শহরের রূপটি পরিবর্তিত হয়ে গেছে। তেমনি এই খালটি শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী নদীর সাথে একটি সংযোগ তৈরি করবে। যে প্রকল্পের কথা শুনেছি সে অনুযায়ী, এই খালটি উদ্ধার ও সংস্কারের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সম্পূর্ণ রূপটাই পরিবর্তন হয়ে যাবে। এবং এটা যে হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। নারায়ণগঞ্জের মানুষ এক টুকরো স্বস্তি খুজে পাবে এই খালের ওয়াকওয়েগুলোতে।

তিনি আরো বলেন, আমরা এই খালটি উদ্ধার করার জন্য আমরাই প্রথম নাগরিক কমিটি থেকে কথা বলেছি, আন্দোলন করেছি। এই প্রকল্পটা বাস্তবায়নের জন্য আমি নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে মেয়রকে সাধুবাদ জানাই।

এই প্রকল্পের ঠিকাদারি পাওয়া রত্না এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘এই প্রকল্পটিকে ৮টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি পেয়েছে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাঁর মধ্যে আমার আছে ৪ অংশ। আরেকজনের রয়েছে ৩ অংশ এবং বাকি ১ অংশের দায়িত্বে রয়েছে আরেকটি প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে ১৭০ কোটি টাকার প্রকল্প এটি। সময় ১৫ মাস রয়েছে, সময়টা যদিও খুব অল্পো। তবে এর মধ্যেই শেষ করতে পারবো বলে মনে করি। কাজ শুরু হয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস বলেন, ‘ভাই আমার নামে ফতুল্লা থানায় আবার মামলা হয়েছে, আমি সেটা নিয়ে দৌড়ের উপরে আছি। আমি এই মুহুর্তে ওই স্থানে না গিয়ে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’

যদিও খালটির সম্পূর্ণ এলাকা নাসিকের আওতাধীন নয়। খালের কিছু অংশ রয়েছে কাশিপুর ইউনিয়নের আওতাধীন। কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এম সাইফুল্লাহ বাদল বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ