রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নগরীতে অবৈধ রিকশার দাপট, নাকাল নগরবাসী

রবিবার, ২৩ মে ২০২১, ১১:৫৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ শহরে যানজট যেন নিত্যদিনের সমস্যা। এই যানজটের অন্যতম কারণ শহরের ভেতর অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল। শহরের মূল সড়কগুলোতে এই যানের প্রবেশ নিষেধ হলেও ট্রাফিক পুলিশের উদাসীনতার কারণে শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা। মাঝে মাঝে বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক করে জরিমানা করা হলেও সেই সংখ্যাও দিন দিন কমে এসেছে। রহস্যজনক কারণে ঈদের কয়েকদিন পূর্ব থেকে শুরু করে এখন অবাধে শহরে চলাচল করছে অবৈধ এই যান। তবে করোনা পরিস্থিতিতে মানবিক কারণে গণহারে ব্যাটারিচালিত রিকশা জরিমানা করছেন না বলে জানাচ্ছে জেলা ট্রাফিক বিভাগ। তবে নগরবাসী বলছে, ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচলের পেছনে রয়েছে নিয়মিত চাঁদা।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, সিটি এলাকায় প্যাডেলচালিত রিকশার অনুমোদন রয়েছে। ব্যাটারিচালিত রিকশা শহরে চলাচলের অনুমোদন নেই। অনুমোদনহীন এই যানটি এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহর। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়ক, শায়েস্তা খাঁ সড়ক, নবাব সলিমুল্লাহ রোড, নবাব সিরাজউদ্দোল্লা সড়ক, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, নিষেধ থাকলেও শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা, মিশুক, অংশুক, ইজিবাইক বা অটোগাড়ি চলছে অবাধে। শহরে চলাচল করা যানগুলোর মধ্যে এখন প্রায় ৭৫ ভাগই অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাইক। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ব্যাটারিচালিত রিকশার জটলা পাকিয়ে যাত্রী নেওয়াতে এবং যত্রতত্র রিকশা পার্কিং করাতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। যার কারণে পথচারীসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল বেগ পেতে হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশেষ নিষেধাজ্ঞায় আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তারপরও সড়কগুলোর নিত্য যানজট লেগে থাকে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচলকে দায়ি করছেন নগরবাসী। দীর্ঘ যানজটের কারণে ১০ মিনিটের পথ যেতে আধ ঘন্টা, কখনও আবার পৌনে এক ঘন্টা সময়ও লাগছে যাত্রীদের। তীব্র গরম ও যানজটে পড়ে নাকাল নগরবাসী।

কয়েকজন রিকশাচালকের সাথে কথা হলে তারা জানান, প্যাডেলচালিত রিকশার একবেলা জমা হিসেবে গ্যারেজ মালিককে দিতে হয় ১২০ টাকা, ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য ৩০০ টাকা, মিশুকের জন্য ৪০০ টাকা ও ইজিবাইকের জন্য গুণতে হয় ৬০০ টাকা। তবে দ্রুততার কারণে প্যাডেলের রিকশার চেয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশার চাহিদা বেশি।

সরেজমিনে দেখা যায় ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক দিয়ে পঞ্চবটি থেকে, লিংক রোড দিয়ে শিবু মার্কেট হয়ে, সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীবাড়ি থেকে কিল্লারপুল, ঈশা খাঁ সড়ক হয়ে মেট্রো হল দিয়ে কালিরবাজার ও নবাব সলিমুল্লাহ সড়ক হয়ে নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাড়ায় প্রবেশ করে। কাশীপুর, খিলমার্কেট, দেওভোগ দিয়ে নগরীর ২নং রেলগেট হয়ে শহরে ঢুকছে। শহরের এইসব প্রবেশ পথগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের টহল থাকলেও ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রবেশে বাধা দিতে দেখা যায়নি। তবে চাষাঢ়া পুলিশ ফাঁড়িতে কিছু ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক রাখতে দেখা যায়। সেখানে রিকাশাচালকদের জরিমানাও করা হয়।

জরিমানার বিষয়ে চাষাঢ়া ফাঁড়ির ডাম্পিংয়ের দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন ১৪-১৬টার মত ব্যাটারিচালিত রিকশা জরিমানা করে থাকি। সরকারি নিয়মানুযায়ী সকল ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে ১৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। সবাই তো আর ১৫০০ দিতে পারে না তাই আমরা জরিমানা ৬০০-১০০০ টাকা পর্যন্তও করে থাকি। নগরীতে প্রবেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের নিরুৎসাহিত করতে জরিমানা করে থাকি। যাতে করে তারা নগরীতে প্রবেশ না করে।’

তবে রিকশাচালকরা বললেন ভিন্ন কথা। তারা জানান, শহরের প্রবেশপথগুলোতে লাইনম্যান হিসেবে কিছু ব্যক্তি থাকনে। নিয়মিত লাইনম্যানকে চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদার একটি অংশ পুলিশ পায় বলেও দাবি রিকশাচালকদের। চাঁদা দেওয়া ব্যক্তিরা ট্রাফিক পুলিশের হাতে আটক হন না। আটক হলেও তদবিরে জরিমানা ছাড়াই ছুটে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রিকশাচালক বলেন, কিছু বিশেষ পেশার ব্যক্তিও তদবির করে ট্রাফিকের জরিমানা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের রক্ষা করেন। চাঁদার ভাগ তাদের কাছেও যায়।

শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে ও যানজট নিরসনে ট্রাফিকের ভূমিকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সালেহ উদ্দিন আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার সরকারি মুঠোফোনের নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। যোগাযোগ করা হলে ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) কামরুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে আমরা ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো নিয়ন্ত্রণ ও শহরে প্রবেশ যাতে করতে না পারে সে বিষয়ে জোর দিতে পারছি না। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে জোরালোভাবে মাঠে নামবো।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ