সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯

নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা: সরকারী দুই হাসপাতালেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ

সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ২১:৩৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নগরের দুইটি সরকারি হাসপাতাল। ৩০০ শয্যা হাসপাতাল ও ১০০ শয্যা ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল। হাসপাতাল দুটিতে প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসা সেবা নেয়। হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য সেবা পেলেও বর্তমানে হাসপাতালের পরিবেশ সংকটাপন্ন। যা রোগীর স্বাস্থ্য সেবাতেও সমস্যার সৃষ্টি করছে।

হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হাসপাতালের কোন নতুন সমস্যা নয়, তবে বর্তমানে এক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে বর্জ্য ফেলে রাখা হয়। আবার এক হাসপাতালের ময়লা ফেলার ডাম্পিং পয়েন্ট থাকলেও ডাম্পিং পয়েন্টের বাহিরেও ময়লা ফেলে রাখা হয়। নগরের ১০০ শয্যা হাসপাতালে প্রধান ফটকের সাথে হাসপাতালের পিছন দিকের ময়লা আর হাসপাতালের ময়লা এনে জমাট করে রাখা হয়েছে। চারিদিকে ময়লা আবর্জনার গন্ধে এক অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ময়লার ডাম্পিং পয়েন্ট থাকলেও ময়লা ভর্তি হয়ে গেছে। ময়লা জমে ডাম্পিং পয়েন্ট উপচে বাহিরেও পড়ে থাকে।

হাসপাতালের চারপাশের পরিবেশ মনোমুগ্ধকর হলেও হাসপাতলের এক অংশ অপরিষ্কার আর বিশ্রী দূগর্ন্ধ। হাসপাতালের বহি.বিভাগের সাথেই লাগানো হয়েছে কিছু ঔষধি গাছ। যা হাসপাতালের জন্য প্রশংসনীয়। কিন্তু ঔষধি চারাগাছ বাগানের বিপরীতেই ময়লার স্তুপ, যা পুরো ব্যবস্থার একটি বিপরীত মুখী অবস্থা। ১৪ ও ১৫ অক্টোবর সরজমিনে দুটি হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের এই দৃশ্য দেখা যায়।

১০০ শয্যা হাসপাতালের বহি.বিভাগের ডাক্তার কক্ষের পাশেই ময়লা স্তুপ। ময়লা পড়ে থাকার কারণে সেখানে একজন সুস্থ্য মানুষের দাড়িয়ে থাকা দায়। অথচ একজন অসুস্থ্য মানুষ এই ময়লার সামনে দাড়িয়ে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। নাকে-মুখে কাপড় দিয়ে দাড়িয়ে থাকে রোগী ও তাদের স্বজনরা। দূগর্ন্ধে নাকে-মুখে শাড়ির আচঁল পেচিয়ে রেখেছেন ৪২ বছর বয়সী মহিলা রিতা রানী। রোগীদের সিরিয়ালের লাইনে নিজের মেয়েকে রেখে তিনি দূরে গিয়ে বসেছেন। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আর পারতাছিলাম না ওইখানে দাড়িয়ে থাকতে। আমার গ্যাস্টিকের সমস্যা আছে। ওই ডাক্তার দেখাইতেই আইছি। আমার বমি আইতাছে। এইটা কি সরকারি হাসপাতালে ফ্রিতে ডাক্তার দেখাই তার ফল? এমনে কিভাবে হাসপাতালে ময়লা পড়ে থাকে। হাসপাতালের গেটে ময়লা কেমনে ফেলে রাখে?

৩০০ শয্যা হাসপাতালে বহি.বিভাগ থেকে কিছুটা দূরে ময়লা ফেলার ডাম্পিং পয়েন্ট। কিন্তু ময়লায় পয়েন্টটি ভরে যাওয়ার পর বাহিরে ময়লা ফেলে রাখা হয়। হাসপাতালটির রোগীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষ সকালে ও বিকালে হাঁটাহাঁটি করে থাকে এখানে। ময়লা ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হোসনে আরা বাবালী হঠাৎ করে হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। হাসপাতালের সকল ব্যবস্থাপনায় প্রশংসা করলেও হাসপাতালের ময়লার এরূপ বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থাপনায় তিনি প্রশ্ন তুলেন। হাসপাতালের তত্তাবধায়ক আব্দুর মোতালেব মিয়া পরের দিন সিটি কর্পোরেশনকে জানালে ময়লা কিছুটা তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু হাসপাতালে পরবর্তী একই অবস্থা দেখা যায়।

৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্তাবধায়ক আব্দুল মোতালেব মিয়া বলেন, হাসপাতালে ময়লা জমে থাকে। সিটি কর্পোরেশনকে ফোন দেওয়া হলে তারা হাসপাতালের ময়লার স্তুপ থেকে ময়লা নিয়ে যায়। নিয়মিত সময়ে ময়লা নিয়ে যায় না। একারনেই অনেক সময় অতিরিক্ত মাত্রায় বর্জ্য জমে থাকে।

১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের হাসপাতালের ময়লা সিটিকর্পোরেশনের নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এই ময়লা অনেক সময় পড়ে থাকে কয়েকদিন। আমরা একটি ময়লা ফেলার স্থান তৈরি করছি। তৈরি হয়ে গেলে এভাবে ময়লা পড়ে থাকবে না।

সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হিরন হাসপাতালের ময়লা অপসারণ সংক্রান্ত বিষয়ে বলেন, হাসপাতালের ময়লা অপসারনের দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তারপরও হাসপাতাল যেহেতু জনস্বার্থমুখী একটি প্রতিষ্ঠান। তাই হাসপাতালের বর্জ্য প্রতিদিন না হলেও প্রায় হাসপাতালের ময়লার অপসারণ করা হয়।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ