সোমবার ১৮ নভেম্বর, ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জে ১০০ কোটি টাকার নকল প্রসাধনী ও ইলেকট্রনিক পণ্য জব্দ

বুধবার, ২ অক্টোবর ২০১৯, ২৩:১৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শিমরাইল এলাকায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শিমরাইল এলাকায় নকল প্রসাধনী ও নকল স্টিকার লাগানো ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে এই অভিযান শুরু হয়। প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী ও নকল স্টিকার লাগানো ইলেকট্রনিক পণ্য জব্দ করেছে পুলিশ। 

নারায়ণঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করছে। মুনস্টার মার্কেটিং প্রাইভেট লিমিটেড ও ম্যাক্স ইলেকট্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক বেলায়েত হোসোন পলাতক থাকলেও স্টাফসহ আটজনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন- অহিদুল ইসলাম (৩৫), সিরাজুম ইসরাম (১৮), সোহাগ (২৪), আমিনুল ইসলাম (৩২), রাজীব (১৮), মাইনুল ইসলাম (৩২), মেহেদী হাসান (১৮) ও একাউন্ট অফিসার সাইফুল ইসলাম (৩৫)।

পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ জানান, ‘মুনস্টার মার্কেটিং প্রাইভেট লিমিটেড ও ম্যাক্স ইলেকট্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে দুই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নকল প্রসাধনী ও ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরি করে আসছিল। ধানমন্ডির বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন নামে এক ব্যক্তি সিদ্ধিরগঞ্জের একটি জায়গায় নকল প্রসাধনী তৈরি করেন এবং বাজারজাত করেন৷ আমরা খবর পাওয়ার পর রাত ১১টায় অভিযান চালাই৷ জাপান, ইন্ডিয়া, চায়না, লন্ডন, আমেরিকা, ফ্রান্সহসহ বিভিন্ন দেশের নামে ময়লা পানি, রং ও সেন্ট দিয়ে এসব বানাচ্ছিল তারা৷ কুবরা, ফগ, রয়েল, এয়ার ফ্রেশনারের মতো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে এসব তারা বাজারজাত করতো৷’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে আরেকটি গোডাউনে গিয়ে দেখি ৬৫ ইঞ্চি, ৭০ ইঞ্চির টিভি বানাচ্ছেন তারা৷ সনি, স্যামসাং, এলজি, প্যানাসনিকসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের টিভি ও মাইক্রো-ওভেন তৈরি করছেন৷ বিভিন্ন ব্রান্ডের নাম থাকলেও এগুলো সব ভুয়া৷ আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ এদের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছে৷ এ সকল প্রতারক চক্র বিশাল বড় গোডাউনে এসব তৈরি করছে এবং সরকারের বিশাল অঙ্কের ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছে৷’

এসপি বলেন, ‘তারা ৫০-৬০ কোটি টাকার প্রায় লক্ষ লক্ষ টিভি তারা বানিয়েছে৷ আমরা অভিযান না চালালে এগুলা তারা বাজারজাত করতো৷ তাদের সেন্ট ও প্রসাধনীগুলো খুবই বাজে৷ মানুষ এসব ব্যবহার করলে তাদের চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে৷ ক্যান্সার রোগ হবারও সম্ভবনা রয়েছে৷’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষকে যে প্রতারিত করছে সে আইনে আমরা মামলা নেবো৷ মূল হোতাকেও আইনের আওতায় আনা হবে৷ জব্দ করা পণ্য সামগ্রীর মূল্য আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা বলেও জানান পুলিশ সুপার।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ