শনিবার ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

ধর্ষণের শিকার মেয়ে, অভিযোগ দিতে বোরকা পড়ে ব়্যাবের কাছে বাবা

বুধবার, ৭ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৫৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ঘন ঘন দুঃস্বপ্ন দেখে প্রতিরাতেই কান্নাকাটি করতো মেয়ে। সন্তানের কষ্ট লাঘবের জন্য আট বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদের ইমামের কাছে নিয়ে যান বাবা। ভেবেছিলেন ইমামের ঝাড়ফুঁক ও পানি পড়ায় আরোগ্য লাভ করবে তার সন্তান। কিন্তু তার আর হলো না। অসহায় বাবা ভাবতেও পারেনি ঝাড়ফুঁকের পরিবর্তে তার ছোট্ট মেয়েটির সঙ্গে ঘটবে ধর্ষণের মত ঘটনা। যা তার সন্তানকে ঠেলে দিবে মৃত্যুর মুখে। সে বাবা এও বুঝতে পারেনি মেয়ের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার চাইতে গিয়ে হেনস্থা ও মৃত্যুর হুমকির শিকার হতে হবে তার পুরো পরিবারকে। এতটাই অসহায় হয়ে পড়বে সে পিতা যে, বোরকা পরে লুকিয়ে র‌্যাবের কাছে সাহায্য যাইতে হয় তার।

ফতুল্লা উত্তর চাষাঢ়া এলাকার একটি পরিবারের সঙ্গে ঘটে এ ঘটনা।

সন্তানের দুঃস্বপ্ন দেখা বন্ধের লক্ষ্যে আট বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে বায়তুল হাফেজ জামে মসজিদের ইমাম মো. ফজলুর রহমানের কাছে যান বাবা। চারবার চেষ্টার পরও আরোগ্যলাভ না করায় আবার ইমামের কাছে সাহায্য চাইলে ইমাম মো. ফজলুর রহমান শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে আসতে বলেন। ইমামের কথা মতো সকালে মেয়েকে নিয়ে মসজিদের ৩য় তলায় ইমাম মো. ফজলুর রহমানের কক্ষে যান বাবা। এ সময় আগরবাতি ও মোমবাতি আনার জন্য বলেন ইমাম। ভোরে কোনো দোকান খোলা না পেয়ে এসব কিনতে তাকে দূর যেতে হয়। অন্যদিকে সুযোগ পেয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে ইমাম। শিশুটি অসুস্থ্য হয়ে পরলে তাকে পরিষ্কার করে এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে বাবা আসলে মেয়েকে তার কাছে বুঝিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে শিশুটি বাসায় গিয়ে তার বাবা মাকে সবকিছু খুলে বলে। ধীরে ধীরে শিশুটির শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়া শুরুকরলে ভূক্তভোগী পরিবারটি তাকে নিয়ে মসজিদ কমিটির কাছে বিচার চাইলে কমিটি ও ইমামের কিছু ভক্ত মিলে তাদের হেনস্থা করে। এমনটি থানা বা হাসপাপতালে না যেতে বাধ্য করে। কিন্তু শিশুটির অবস্থা আরো খারাপ হলে চুপি চুপি তাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে ভর্তি করে তার বাবা। সেখানেও গিয়ে উপস্থিত হয় ধর্ষক ইমাম ও তার অনুসারিরা। তারা হাসপাতালের এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যে, শিশুটিকে নিয়ে দীর্ঘসময় হাসপাতালে লুকিয়ে থাকতে হয় বাবা মাকে। হাসপাতালের টয়লেট ও বেডের নিচে লুকিয়ে থাকার এক পর্যায়ে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাতে শিশুটির বাবা একজন নার্সের বোরখা পড়ে সেখান থেকে পালিয়ে র‌্যাব অফিসে যান এবং র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ প্রথমত হাসপাতালে উপস্থিত হয়। ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত করে ভুক্তভোগীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এরপর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে।

বুধবার (৭ আগস্ট) সকাল ৬টায় উত্তর চাষাড়া চাঁদমারী এলাকা থেকে অভিযুক্ত ইমাম মো. ফজলুর রহমানসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা নেত্রকোণা কেন্দুয়া থানার মৃত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে ইমাম মো. ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলাম। বাকিরা হলেন, উত্তর চাষাড়া চাঁদমারী এলাকা মো. রমজান আলী, মো. গিয়াস উদ্দিন, হাবিব এ এলাহী ওরফে হবি, মো. মোতাহার হোসেন ও মো. শরিফ হোসেন।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ