রবিবার ১৮ আগস্ট, ২০১৯

ধরাছোঁয়ার বাইরে গোলাম হোসেন

সোমবার, ৫ আগস্ট ২০১৯, ২০:৪৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বন্দরের নবীগঞ্জ ঘাট সংলগ্ন বেবী, টেম্পু ও সিএনজি স্ট্যান্ডের ইজারাদার হাজী গোলাম হোসেন। ২০১৯ সালের মে মাসে সিটি কর্পোরেশন থেকে এক বছরের জন্য ইজারা নেন তিনি। স্ট্যান্ডে পার্কিং বাবদ দৈনিক ১৫ টাকা টোল নির্ধারণ করে দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু অধিক মুনাফার লোভে অবৈধভাবে সিটি কর্পোরেশনের নামে রসিদ তৈরি করে রাস্তায় চলাচলরত বাস, মাইক্রো ও কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে চাঁদা আদায় করেন ইজারাদার গোলাম হোসেনের সহযোগিরা। র‌্যাবের পরপর দুই বারের অভিযানে গোলাম হোসেনের হয়ে চাঁদাবাজি করার সময় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ইতিপূর্বে দুইজন আটকের ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা হলেও গ্রেফতার হননি গোলাম হোসেন। এবারও তার সহযোগিরা আটক হলেও নেপথ্যের কারিগর গোলাম হোসেন রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

নিয়ম অনুযায়ী স্ট্যান্ড বাবদ বেবী, টেম্পু ও সিএনজি হতে ১৫ টাকা করে টোল নেওয়ার কথা। কিন্তু তা মানছেন না ইজারাদার গোলাম হোসেন। নিজের মতো করে রসিদ বানিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। এমনকি তালিকায় উল্লেখ্য যানবাহন ছাড়াও সড়কে চলাচলকারী ছোট-বড় সকল যান থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে তার লোকজন। তাছাড়া দিনে একবার শুধুমাত্র স্ট্যান্ডের নির্দিষ্ট যানবাহন থেকে টাকা তোলার কথা থাকলেও একাধিকবার টাকা তোলা হয়।

এ বিষয়ে বিগত সময়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জুলাই নবীগঞ্জ স্ট্যান্ডে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় আসিফ ও সাদ্দাম নামে দুই ব্যক্তিকে চাঁদাবাজির সময় হাতে-নাতে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তারা ইজারাদার গোলাম হোসেনের হয়ে চাঁদাবাজি করতো বলে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাবের এই অভিযানের পরেও থেমে থাকেনি বেপরোয়া গোলাম হোসেন। চালিয়ে গেছেন তার চাঁদাবাজি। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টার থাকার কারণে এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামি হয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে সে। এদিকে সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেলে একই স্থানে অভিযান চালিয়ে গোলাম হোসেনের হয়ে চাঁদাবাজি করার সময় মনির হোসেন ও সাব্বির হোসেন নামে আরো দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

এদিকে র‌্যাব জানায়, একটি চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নবীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তায় চলাচলরত বাস, ট্রাক, সিএনজি, অটোরিক্সা চালকদের কাছ থেকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক গাড়ি প্রতি ৫০ থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে আসছিল। কোন বাস, ট্রাক, সিএনজি ও অটোরিক্সা চালক চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের মারধরসহ জীবন নাশের হুমকি প্রদান করতো।

র‌্যাব আরো জানায়, মো. গোলাম হোসেন নামক স্থানীয় এক ব্যক্তি ২০১৯ সালের মে মাসে সিটি কর্পোরেশন থেকে নবীগঞ্জ বেবী, টেম্পু স্ট্যান্ডের ইজারা নেয়। সিটি কর্পোরেশনের ইজারার তালিকায় নবীগঞ্জ স্ট্যান্ডটি মূলত বেবী, টেম্পু স্ট্যান্ড হিসেবে উল্লেখ আছে। সিটি কর্পোরেশনের উক্ত ইজারায় ১২নং শর্তে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে বেবী, টেম্পু, টেক্সী পার্কিং ফি দৈনিক ১৫ টাকা। কিন্তু একটি চাঁদাবাজ চক্র এই ইজারাদারের ছত্রছায়ায় রাস্তায় চলাচলরত বাস, মাইক্রো ও কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে জোরপূর্বক ভয়ভীতি এমনকি মারধর করে ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে আসছিল যা স্থানীয় মিডিয়ায় একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে। চাঁদাবাজি সংক্রান্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা গোলাম হোসেনের হয়ে চাঁদা আদায় করতো।

এদিকে এই চাঁদাবাজির নেপথ্যের কারিগর গোলাম হোসেনকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় না আনতে পারলে নবীগঞ্জ সড়কে এই চাঁদাবাজি কোনমতেই ঠেকানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন এলাকাবাসী। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্দরের বিভিন্ন সড়কেই টোলের নামে এমন চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এর আগে অভিযোগ পেয়ে আমরা অভিযান চালাই। তখন দুইজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং গোলাম হোসেনকে পলাতক আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এরপরও চাঁদাবাজি না থামায় আবারো অভিযান চালিয়ে আরো দুইজনকে গ্রেফতার করি। এবারো গোলাম হোসেন পলাতক রয়েছেন। তবে গোলাম হোসেনকে গ্রেফতারের জন্য আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ