সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

দেড় বছর পর যে ভাবে ধরা পড়ল শাকিলের খুনীরা

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২০, ১৮:৩৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ইজিবাইক চালক শাকিল হত্যার দেড় বছর পর আটক করা হয়েছে হত্যাকান্ডে জড়িত ৩ আসামিকে। নিহত শাকিল নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার বালিয়া পাড়ার আবু বকরের ছেলে। ইজিবাইক ছিনতাই করতে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১২টায় পিবিআই জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম।

২০১৮ সালের ১১ বা ১২ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে যে কোন সময় অজ্ঞাত কয়েকজন শাকিলকে ফোনে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করার জন্য সাদিপুর ইউনিয়নের গজারিয়া পাড়া কবরস্থানের পাশে ফাঁকা জায়গায় ফেলে যায়। সেই সময় হত্যাকারীরা শাকিলের মোবাইল ফোন ও ইজিবাইক নিয়ে যায়। এই ঘটনায় নিহতের ভাই মো. সজিব বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সাংবাদিক সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের ভাই সজিব এজাহারে উল্লেখ করেন, হত্যাকরীরা শাকিলের মোবাইল ও ইজিবাইক নিয়ে গেছে। সে তথ্যমতে, তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রকে কাজে লাগিয়ে প্রথমে মোবাইল উদ্ধার করা হয়। পরে ব্যবহারকারীর তথ্যমতে, গতকাল (১৯ আগস্ট) মোবাইল বিক্রেতা মো. আমিনুল ইসলামকে রূপগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। আমিনুলের তথ্যমতে একইদিন মো. আরিফ চৌধুরীকে রূপগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আমিনুল ও আরিফের তথ্যমতে, মো. আরব আলীর কাছ থেকে শাকিলের ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়। এবং আরব আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হত্যার ৭/৮ দিন আগে সোনারগাঁ গাউছিয়া স্ট্যান্ডে শাকিলের সাথে তাদের পরিচয় হয়। এ সময় তারা শাকিলের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। শাকিলের সাথে তারা মাঝে মধ্যেই মোবাইলে কথা বলত। আরিফ প্রেম করে বিয়ে করেছিল তাই তার পরিবারের লোকজন তাকে বাসা হতে বের করে দেয় এবং সে আর্থিক সংকটে পরে। আমিনুল শাকিলের ইজিবাইক দেখে লোভে পরে যায়। পরে তারা শাকিলের ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন আরিফ তার মোবাইল থেকে শাকিলকে ফোন করে গাউছিয়া আসতে বলে। শাকিল তার ইজিবাইক নিয়ে সন্ধ্যায় গাউছিয়া আসার পর তারা দুইজন যাত্রীবেশে শাকিলের ইজিবাইকে উঠে তাকে নিয়ে সোনারগাঁ তাজমহল এলাকায় যাওয়ার কথা বলে রওয়ানা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে গেলে তারা শাকিলকে ইজিবাইকে থেকে নামিয়ে গলার মাফলার পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ ও নাকে মুখে আঘাত করে তাকে হত্যা করে। হত্যা নিশ্চিত করার জন্য তারা শাকিলের দুই চোখে রক্তাক্ত আঘাত করে। এ সময় তারা শাকিলের পকেটে থাকা টাকা, মোবাইল এবং ইজিবাইকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। আমিনুল ইসলামের চাচাতো ভগ্নিপতি আরব আলী চোরাই ইজিবাইক ক্রয়-বিক্রয় করে। তাই তারা শাকিলের ইজিবাইক আরব আলীর কাছে বিক্রি করে। আরব আলী শাকিলের ইজিবাইক অন্যত্র বিক্রি না করে নিজেই ব্যবহার করতে থাকে। অন্যদিকে আমিনুল শাকিলের মোবাইলটি তার পার্শ্বের কক্ষের ভাড়াটিয়া সানির মা সোহানার কাছে বিক্রি করে দেয়।’

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ