শনিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮

দেড় বছরেও হয়নি জেলা ও মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি

বৃহস্পতিবার, ৯ আগস্ট ২০১৮, ২১:২২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: দেড় বছরেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। আংশিক কমিটি দিয়েই চলছে দলের কার্যক্রম। এদিকে জেলা ও মহানগর কমিটি পূর্নাঙ্গ রূপ না পাওয়াতে উপজেলা ও থানা কমিটির কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে সেখানকার দলীয় কর্মকান্ড।

যদিও দেড় বছর আগে কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা ও মহানগরের আংশিক কমিটি ঘোষণার পর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতাকর্মীদের কমিটি পূরণের দায়িত্ব দেন। উভয় কমিটিকেই ৩০ দিনের মধ্যে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে রূপদানের জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশনাও দেয়া হয়। কিন্তু দেড় বছরেও কমিটি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রমতে, প্রায় ৮ বছর পর গত বছরের ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। যেখানে বিগত কমিটির সেক্রেটারী কাজী মনিরুজ্জামানকে করা হয় সভাপতি। এবং সাধারণ সম্পাদক জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে। পরের দিন ২৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

মজার বিষয় হলো ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয় সম্মেলন করে। সেখানে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার সভাপতি, কাজী মনিরুজ্জামান সেক্রেটারী ও মো. শাহআলম হন সহ সভাপতি। ওই কমিটিও পুর্ণাঙ্গ হতে পারেনি ৭ বছরেও। পরে ৮ বছরের মাথায় এবার যে আংশিক কমিটি করা হয়েছে তারও ইতিমধ্যে দেড় বছর পার করেছে। শেষ পর্যন্ত এই কমিটিও পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

অন্যদিকে গত বছর একই দিনে ঘোষণা করা হয় মহানগর বিএনপির ২৩ সদস্যের আংশিক কমিটি। যেখানে সাবেক এমপি এড. আবুল কালামকে সভাপতি, এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে সিনিয়র সহ সভাপতি ও এ টি এম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এই কমিটি গঠনের দেড় বছর পূরণ হয়ে গেছে কিন্তু কমিটির পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।

এদিকে আবার সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল চিকিৎসার অজুহাতে আমেরিকায় অবস্থান করার কারণে সাধারণ সম্পাদকের পদও রয়েছে শূণ্য। কিন্তু সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান তার বলয়ের নেতা সহ-সভাপতি এড. সরকার হূমায়ূনকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ঘোষণা করলেও সভাপতিসহ একাধিক নেতাকর্মী এর দ্বিমত পোষণ করেছেন। এ নিয়ে কেন্দ্রেও অভিযোগ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী বলা যায়, সাধারণ সম্পাদকের পদটিও রয়েছে শূণ্য। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কোন প্রকারের উদ্যোগ নেই নেতাকর্মীদের মধ্যে। সহসাই কোন কার্যকরী সভাও হচ্ছে না যাতে এ নিয়ে আলোচনা করা যায়।

তবে অনেক নেতাকর্মী মনে করছেন আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে বিএনপির জন্য একটি প্লাস পয়েন্ট হিসেবে কাজ করতো। তৃণমূলের অনেক পরিশ্রমী নেতাকর্মী আছেন যারা কমিটিতে নতুন করে জায়গা পেলে কাজের উদ্যোমও বেড়ে যেতো বলে মেন করেন তারা। নেত্রীর মুক্তির লড়াইতেও নেতাদের হাতও শক্ত হতো তাতে। অন্যদিকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের লড়াইতেও ভূমিকা থাকতো অন্যরকম। কিন্তু সেটা করতে পারছেন না জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা। পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে ব্যর্থ সিনিয়র নেতারা।

কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘এই নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। কোন সভাও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে হচ্ছে না।’

এদিকে মহানগরের সভাপতি এড. আবুল কালামও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নেত্রীর মুক্তির দিকেই ফোকাসটা রাখছি। পূর্ণাঙ্গ কমিটির ব্যাপারে কোন আলোচনা হয়নি।’

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ