শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

দেড় বছরেও শহীদ নগরের দুটি ব্রিজের দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি, ভোগান্তি

বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:০৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের শহীদ নগর, আলামীন নগর ও নারায়ণগঞ্জ মূল শহরের সঙ্গে সংযোগকারী দু’টি ব্রিজ দীর্ঘ ১ বছর যাবত ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। আর এই দীর্ঘ ১ বছর যাবত মানবেতর জীবন যাপন করছেন দু’ই অঞ্চলের এলাকাবাসী। এ বছর রমজানের (জুন মাস) আগে ব্রিজ দুটি পূণ নিমাণের কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু তার কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন অযুহাতে ব্রিজের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। ব্রিজ পুণনিমার্ণের ৬ মাস আগে এলাকাবাসীর যাতায়েতের জন্য ব্রিজ দু’টির পাশে অস্থায়ী সাকো ও রাস্তা নির্মান করা হয়। কিন্তু ঝুকিপূর্ণ অস্থায়ী সাকো পার হতে গিয়ে হারমেশা ঘটছে নানা অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটানা।

শহীদ নগরের ভোটার সংখ্যা ৭ হাজার ২০০ জন। এছাড়া এ অঞ্চলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো মানুষ অস্থায়ীভাবে বসবাস করে। অন্যদিকে এই শহীদ নগর দিয়ে বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ শহরে যাতায়াত করেন। যাদের সুবিধার্থে ২০১৭ সালে ৯ মার্চ শহীদ নগর ব্রিজটি পূণনির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রধান মেয়র সেলিনা হায়াত আইভি। ২০১৭ সালে ভিত্তিপ্রস্তর করা হলেও কাজ ধরা হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। কিন্তু এর কিছুদিনের মধ্যেই ব্রিজ নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। দীর্ঘ দিন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে খালের পানিতে পরে থাকা নির্মাণ সামগ্রী।

মঙ্গলবার ও বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) ১৬নং ওয়ার্ডের শহীদ নগর ও কদমতলী ব্রিজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, শহীদ নগন ও কদমতলী ব্রিজ পুরো ভাঙা। খালের পানিতে নষ্ট হচ্ছে নির্মাণ সামগ্রী। ব্রিজের পাশের অস্থায়ী নড়বড়ে সাকো দিয়ে খাল পাড় হচ্ছে এলাকাবাসী। সাকো দিয়ে একসঙ্গে কিছু মানুষ পাড় হতে গেলে নড়বড় করে সাঁকো। এমতাবস্থায় বেকায়দায় পরেন নারী ও শিশুরা। নুসরাত জাহান একজন গৃহিনী। তার ২ বছর বয়সী ছোট একটি মেয়ে আছে। মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলেন ডাক্টারের কাছে। নুসরাত সাঁকো পাড় হতে খুব ভয় পায়। তবু নুসরাত একহাতে তার মেয়েকে কোলে নিয়ে অন্যহাতে সাঁকো ধরে ধরে এগুচ্ছেন। মেয়েকে কোলে নিয়েই নড়বড়ে সাঁকোটি পার হতে হচ্ছে তাকে। নুসরাত জাহান বলেন, ‘এটা সাঁকো না মরন ফাঁদ। সাঁকো পার হতে খুব ভয় করে তার উপর ভিশন নড়বড়ে। সাঁকোর বাঁশগুলোও ফাঁকা ফাঁকা, কখন যেনো ফাঁকা স্থান দিয়ে পা ঢোকে যায়। কি করবো? এ সাঁকো ছাড়া অন্য পথও নেই। গোপচর দিয়ে যেতে হলে অনেকটা ঘুরে যেতে হয়। ভাড়াও লাগে প্রচুর।’

জানা যায়, ‘ব্রিজ ভাঙার এক বছর আগে বাশেঁর সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। সে অনুযায়ী সাঁকোটির বয়স দেড় বছর। আর এই দেড় বছরে সাঁকোর অধিকাংশ বাঁশে পচন ধরেছে। যার ফলে প্রতি নিয়ত ঘটে যাচ্ছে নানা অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা।

এমনই এক দুর্ঘটনার শিকার হন শহীদ নগর বাসিন্দা রাজু। রাজু বলেন, ‘১১/১২ দিন আগে আমার মামী স্টোক করেন। তাকে তৎক্ষণাত হাসপাতালে নিয়ে যাব কিন্তু শহরে যাবার ব্রিজ ভাঙা। উপায় না পেয়ে কয়েকজন মিলে ধারাধরি করে বাঁশের পুল দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। এমন সময় বাশেরঁ ফাকা দিয়ে আমার পা ঢোকে যায়। আরেকটুর জন্য মামীকে সহ পানিতে পরে যাচ্ছিলাম। কিন্তু বাকি সবাই মামীকে ধরে ফেলেন। বাকি সবাই যদি না ধরতো তাহলে মামীকে আর বাচাঁনো যেত না। ’

ব্রিজের অপর পাড়ের স্থানীয় এক দোকানী বলেন, ‘ শহর থেকে মালামাল নিয়ে আসি ও বিক্রি করি। আগে শহর থেকে মাল নিয়ে আসতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা লাগতো। কিন্তু ভাড়ার পাশাপশি সাকো দিয়ে মাল পাড় করার জন্য অতিরিক্ত টাকা লাগে। যা দিয়ে আমাদের লাভাংশ আর থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এলাকাবাসী বলেন, ‘বর্ষার পানি হচ্ছে শুধুই একটি অজুহাত। কেন অন্যান্য ব্রিজগুলো তো পানির উপর দিয়েই হয়। একটা ব্রিজ দুইটি হলে ক্ষতি কি? আমাদের কাউন্সিলর তো ব্রিজের এ পাড় থাকেন না। যদি থাকতেন তাহলে বুঝতেন আমরা কতো কষ্টে আছি।’

১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসেন প্রেস নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘সিটি কর্পোরেশন বা কাউন্সিলর কোনো কাজ করে সুনামের জন্য। দুর্নামের জন্য নয়। আমরা চাই না আমাদের দুর্নাম হোক। বর্ষার পানির কারণেই মূলত কাজ আটকে রয়েছে। কাজ শুরু করা বা ঘোষণা দেয়া আমাদের হাতে না। এটা ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে। জনদূর্ভোগ কমানোর জন্য ও চলাচলের জন্য আমরা বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছি। কিছুদিন আগেও বাঁশের সাঁকোটি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ঠিক করিয়েছি। পদ্মা সেতু কবে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু এখনো তো হয়ে উঠতে পারেনি। প্রকল্প যত বড়, সময় ততো বেশী তো লাগবেই আর এ প্রকল্প দুটিও খুব বড় ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প। ভালো কিছুর জন্য কিছুটা দুর্ভোগ তো পুহাতেই হবে।’

শহীদ নগর ও কদমতলী ব্রিজ নির্মাণের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. জাফর বলেন, ‘ব্রিজ নির্মাণের কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। যার ফলে পানিতে থাকা সত্ত্বেও ব্রিজ নির্মাণ করা যায়। কিন্তু শহীদ নগর ও কদমতলী ব্রিজ নির্মাণের প্রথম থেকে ওই পদ্ধতিতে কাজ করা হয়নি। যার ফলে এখন বর্ষার পানির কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ব্রিজ দুটি নির্মাণের মেয়াদ আগামী বছর পর্যন্ত রয়েছে। আশা করা যায় মেয়াদের আগেই নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী এফ এম এহতেশামুল হক বলেন, শহীদ নগর ও কলমতলি ব্রীজের কাজ চলছে। বাইরের একটি কন্ট্রাক্টার সিটি কর্পোরেশনের একাধিক প্রকল্পের কাজ নিয়েছে যার ফলে কাজে বিলম্ব হচ্ছে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি কাজ চালিয়ে যাবার জন্য। বিদেশি সংস্থা যে সকল শর্ত দিয়েছে সে অনুযায়ী কন্ট্রাক্টার আসতে পারেনি। যার ফলে একটি সংস্থাই একাধিক প্রকল্পে কাজ করছে।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ