শুক্রবার ১৬ নভেম্বর, ২০১৮

দুুই প্যানেল আমার দুই চোখ: ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী

বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:০০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: রাত পোহালেই (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) নারায়ণগঞ্জ শাখার নির্বাচন। নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছেন। তবে দুটি প্যানেলে নির্বাচন হলেও ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী স্বতন্ত্র ভাবে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যিনি দীর্ঘদিন বিএমএ নারায়ণগঞ্জ শাখার নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু কোন প্যানেলে তিনি অন্তভুক্ত না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তকে নিয়ে নানা হিসেব নিকেষ করছেন উভয় প্যানেল। এমনকি সাধারণ ভোটারাও। স্বতন্ত্র প্রার্থীর রহস্য খুঁজতে গিয়ে প্রেস নারায়ণগঞ্জ কথা বলেছে ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরীর সঙ্গে। আলোচনায় উঠে এসেছে নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয় ও বিএমএর সদস্যদের নিয়ে তার পরিকল্পনা।

প্রশ্ন: নির্বাচনী পরিবেশ কেমন?

শাহনেয়াজ চৌধুরী: নির্বাচনী পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভাল। এবং আমি আশা করি শেষ পর্যন্ত ভালই থাকবে। যেহেতু আমরা যারা ভোটার এখানে এবং প্রার্থী তারা সবাই চিকিৎসক, শিক্ষিত লোক বলে আমরা নিজেদের দাবী করি।

প্রশ্ন: ভোটারদের মাঝে আমেজ বা উচ্ছ্বাস কেমন?

শাহনেয়াজ চৌধুরী: ভোটারদের মাঝে সবসময় তো একটা আমেজ থাকেই। এখানেও আছে।

প্রশ্ন: আর ১দিন বাকী নির্বাচনের, ভোটারদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

শাহনেয়াজ চৌধুরী: আমি নির্বাচনী প্রচারনায় অন্যদের মতো এসএমএস দিয়ে সদস্যদের বিরক্ত করিনি। তো যখনি অনেকে শুনেছে নির্বাচন হচ্ছে, আমার খবর পেয়েছে, সম্মানিত ভোটারদের সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। আমি আশা করি তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্তই গ্রহণ করবেন।

প্রশ্ন: নতুন করে নির্বাচিত হলে বিএমএ’র সদস্যদের জন্য আপনার পরিকল্পনা কি?

শাহনেয়াজ চৌধুরী: বিএমএ’র সদস্যরা সবাই ডাক্তার। ন্যায় সংগত কারণে তাদের সুখে দুঃখে পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। সেটা আমরা দীর্ঘদিন যাবত করে আসছি। কিন্তু বিএমএ’র কর্তব্য সরকারের যে স্বাস্থ্যনীতির কাজ তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা। জনগন যাতে স্বাস্থ্যসেবা পায় সেদিকে দৃষ্টি রাখা এবং আমাদের কর্মক্ষেত্রে সরকারী দেওয়া সকল সুযোগ সুবিধা যেন রোগী সাধারণদের দেই সেটার দিকে নজর দেয়া।

প্রশ্ন: ২টি প্যানেলে নির্বাচন হচ্ছে কিন্তু আপনি তার বাহিরে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন কেন?

শাহনেয়াজ চৌধুরী: আমি সব সময় চেষ্টা করি সবাইকে নিয়ে কাজ করার জন্য। এবং তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমি এবার প্রচেষ্টা করেছি আমাদের যে দুটো প্যানেল দাঁড়িয়েছে তাদেরকে নিয়ে বসতে। এবং তাদেরকে নিয়ে কথা বলে কিভাবে গতিশীল নেতৃত্ব আনা যায়, ভাল লোকদের আনা যায়, বিএমএ’রর সকল ডাক্তারদের নিয়ে এ প্রচেষ্টা ছিল। সব দলের ডাক্তারদের নিয়ে কিভাবে আমরা বিএমএকে চালাতে পারি। এ নিয়ে আমি সবসময় চেষ্টা করে যাই, পদক্ষেপ নেই। এবং যখন দেখলাম যে আমি পারিনি বসাতে দুটো প্যানেলকে। তখন আমি আমার শুভাকাংখীদের অনুরোধে, চিকিৎসকদের অনুরোধে, সিনিয়র ডাক্তারদের অনুরোধে, কখনো কখনো জুনিয়র ডাক্তারদের অনুরোধে আমি শেষ পর্যন্ত প্রার্থীতা জমা দিয়েছি।

প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় আপনি বিএমএ’র নেতৃত্ব দিয়েছেন, এর মাঝে আপনার অসমাপ্ত কাজগুলো কি কি?

শাহনেয়াজ চৌধুরী: আমার অসমাপ্ত কাজ যেটা সেটা ইদানিং প্রকোট হয়ে উঠছে এবং সেটা আমাকে অনেক বেদনা দিচ্ছে, যন্ত্রনা দিচ্ছে। সেটা হলো পরমত সহিষনূতাা। সেটা আমাদের মাঝে দিন দিন সড়ে যাচ্ছে। আমরা সব সময় যেটা চাই সেটা হলো, সবসময় চিকিৎসকদের যেন আমরা একসাথে বসতে পারি, কথা বলতে পারি। আরেকজন যে কথা টা বলে সেটা শুনি, তারটা যদি গ্রহণ যোগ্য হয় তাহলে তার কথাটা যেন মেনে নেই। কিন্তু এটার বড় অভাব দেখছি। আরেকটা ব্যাপার যেটা, আছে সেটা হলো, নারায়ণগঞ্জে বিএমএ’র কোন অফিসের জায়গা নেই। নারায়ণগঞ্জে ভেরি কষ্টলি স্পেস। এখানে জায়গাটা কিনাটাও কিন্তু খুব ব্যয় সাধ্যের ব্যাপার। তবুও আমরা জায়গা খুঁজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। আমরা আশা করবো যারাই নির্বাচিত হবেন তারাই এই কাজটা করবেন। এবং আমি যদি পুনঃনির্বাচিত হই তাহলে সবাই সহযোগিতা করবেন।

প্রশ্ন: ভোটারদের কাছে আপনার নির্বাচন এজেন্ডা কি ছিল?

শাহনেয়াজ চৌধুরী: আমি এটা বিশ্বাস করি বিএমএ’র নির্বাচনে আপনারা কখনো নেতা নির্বাচন করেন নি। আপনারা আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। আমাকে যদি পুনরায় নির্বাচিত করেন আমি আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবেই থাকবো। আমি কখনো আপনাদের নেতা হতে চাই না। কারণ নেতা হওয়ার যোগ্যতা আপনাদের প্রতিজন ভোটারের আছে। আমাদের নারায়ণগঞ্জে যেসব ডাক্তারগন আছেন তারা অত্যন্ত মেধাবী। সকলের প্রতি আমি সম্মান রেখে বলবো, এখানে নারায়ণগঞ্জে বিএমএ’র নেতৃত্ব দেয়ার জন্য, বিএমএ’র সভাপতি হওয়ার জন্য প্রচুর যোগ্য চিকিৎসক আছেন। সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলবো আমি কিন্তু কারো নেতা না। আমি প্রতিনিধি হিসেবেই থাকবো। এবং যতদিন তারা চাইবে ততদিনই প্রতিনিধি হিসেবে থাকবো, যখন চাইবে না তখন আমি খুশি মনে মেনে নিবো। কখনো বলবো না নির্বাচন সুষ্ঠ হয়নি। এটা আমার কমিটমেন্ট সম্মানিত ভোটারদের প্রতি।

প্রশ্ন: এবারই প্রথম সরাসরি ভোটে নির্বাচনে লড়ছেন, বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

শাহনেয়াজ চৌধুরী: এই কথাটা ঠিক নয়। শুনেছি ২৫ বছর যাবত নাকি নির্বাচন হচ্ছে না। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। এক সময় সিভিল সার্জনের সাথে আমার নির্বাচন হয়েছে। ২৫ বছর নির্বাচন হয় না এই তথ্য যারা দিয়েছেন একমাত্র তারাই বলতে পারবেন কিভাবে দিয়েছেন। সরাসরি ৩বার নির্বাচন হয়েছে ভোটের মাধ্যমে। আর বাকীদিন যেটা হয়েছে সেটা হলো দুটো প্যানেল, কখনো কখনো তিনটা প্যানেলও জমা হয়েছে। পরবর্তীতে তারা নির্বাচন বয়কট করেছে। নারায়ণগঞ্জ বিএমএ কখনো অনিয়ম করে নি। কখনো কোন ইলেকশনকে প্রতিহত করে নি। এ নির্বাচন আরো তিন বছর আগে হওয়ার কথা ছিল। তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তো আজকে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারাই অনেকে বলেছেন দেশের অবস্থা ভাল না বিধায় নির্বাচন স্থগিত রাখা হোক। কিন্তু আমি শাহনেয়াজ চৌধুরী দৃঢ় কন্ঠে বলতে পারি সভাপতি হিসেবে নির্ধারিত সময়ে একটি কমিশন গঠন করে কার্যকরী পরিষদের সর্ব সম্মতিতে, সিদ্ধান্তে আমরা নির্বাচনের সিডিউল আরো দুই বছর আগে দিয়েছিলাম। এবং সেটা বন্ধ আমি শাহনেয়াজ চৌধুরী করি নি। আজকে তারা প্রপাগান্ডা করছে ২৫ বছর নির্বাচন হয়নি। তাদের কাছে আপনারা দয়া করে প্রশ্ন করেন তারা কেন এটা বলছেন!

প্রশ্ন: আলোচনায় আছে ডা: আতিকুজ্জামান সোহেল ও ডা: নিজামউদ্দিন আলীর প্যানেলের সাথে আপনার একটি সমঝোতা হয়েছে- তারাই আপনাকে সমর্থন করবেন, তাই তারা সভাপতি দেয় নি। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

শাহনেয়াজ চৌধুরী: নির্বাচনের আগে নির্বাচনের সময়ে অনেক কথা হয়। আমার সংগে দুই প্যানেলের আমার প্রিয়জনদের সাথে কথা হয়েছে। দুই প্যানেলেই কিন্তু ভাল ভাল লোক আছেন। আমি কোন প্যানেলকে ছোট করে দেখছি না। তো আমি যখন নির্বাচনের আগে দুটো প্যানেলকে বসতে বললাম। আমি চাই ইয়াং জেনারেশন আসুক। আমি বললাম, আমি প্রয়োজনে পদত্যাগ করবো। আমি চাই, আমি অনেকদিন চালিয়েছি এবার আপনারা চালান। পরবর্তীতে সেভাবে বসা হয় নি। সেটা নারায়ণগঞ্জবিএমএ’র জন্য দুর্ভাগ্য। এই ব্যর্থতা আমার যে, দুটো প্যানেলকে একসাথে বসাতে পারি নি। সবাই আমার প্রিয়জন, সবাই আমার কাছের মানুষ। দুই প্যানেলেই এমন এমন লোক আছে যাদের নারায়ণগঞ্জের বিএমএতে দরকার। স্বাভাবিক ভাবেই সঙ্গত ভাবেই একটি প্যানেলে যেহেতু সভাপতি প্রার্থী নেই সুতরাং একটি সমঝোতা হয়েছে। এই দুই প্যানেলে এমন কেউ নাই যে তাদের সাথে আমার দূরত্ব আছে। দুই প্যানেলের সবাই আমার খুব কাছের। এবং বলতে পারেন একটা ডান চোখ, একটা বাম চোখ।

প্রশ্ন: বিএমএর সদস্যদের জন্য আপনার কোন বার্তা?

শাহনেয়াজ চৌধুরী: দুই প্যানেলের প্রতি আমার অনেক অনেক ভালবাসা। এবং তাদের সবার জন্য শুভকামনা। এবং যারা যোগ্য তারাই যেন সম্মানিত ভোটারদের ভোটে জয়ী হয়ে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন। নারায়ণগঞ্জের সকল চিকিৎসকদের আপনার মাধ্যমে আমার সালাম। এবং আমি অনুরোধ করবো, আপনারা এমন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করুন যাতে বিএমএ হবে সকল চিকিৎসকদের আশ্রয়স্থল।

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: আপনাকে ধন্যবাদ সময় দেয়ার জন্য।

শাহনেয়াজ চৌধুরী: আপনাকেও ধন্যবাদ।

সব খবর
সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বশেষ