শুক্রবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮

দুবাই গিয়েও বাঁচতে পারেনি ইভা

বুধবার, ১০ অক্টোবর ২০১৮, ২২:১০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নিজের ভাগ্য ফেরাতে বছর খানেক আগে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন ইভা। চেয়েছিলেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকবেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস। ভাগ্য তার সঙ্গ দেয়নি। শূণ্য হাতে চারমাস আগে দেশে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু বিদেশ জীবনে নির্যাতন আর কস্ট তাকে মানকসিকভাবে বিপর্যস্থ করে তোলে। নতুন করে বাঁচার স্বপ্নে দিনরাত নিজের সাথে যুদ্ধ করেছেন ইভা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানসিক যন্ত্রনার কাছে পরাজিত হয়ে ভাতের বদলে মুখে তুলে নিয়েছেন কীটনাশক। চলে গেলেন না ফেরার দেশে। মঙ্গলবার সকালে ইভার এমন মৃত্যতে কিংকর্তব্যবিমুঢ় পুরো পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিহত ইভা নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নেহাল সর্দার বাগ এলাকার মোস্তফা ভূঁইয়ার মেয়ে। তবে মোস্তফা ভূঁইয়ার কাছে তার মেয়ের আত্মহত্যা কেবলই স্বেচ্ছা মৃত্যু নয়। তাইতো মেয়ের মৃত্যু মানতে না পেরে নিজে বাদী হয়ে বন্দর থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।

নিহতের পরিবার বলছে, প্রবাসে জীবন যাপনের সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসেন ইভা। দেশে ফিরে আসলেও নির্যাতনের যন্ত্রণা মুক্তি দেয়নি তাকে। মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরেন তিনি। গত মঙ্গলবার সকালে সকলের অজান্তেই মুখে তুলে নেন কীটনাশক। বাড়ীর লোকজন মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে নিয়ে যায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে। বাঁচানো যায়নি ইভাকে। কীটের জীবন নিয়ে বাঁচতে না চাওয়া ইভা সেদিন বিকেলেই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান।

বন্দর থানা জানিয়েছে ইভার বাবার দায়েরকৃত মামলার এজাহারে কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেনি। একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে।

ইভার বাবা জানে না সন্তানের মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী। তিনি শুধু জানেন ইভার মৃত্যুর জন্য কেউ না কেউ দায়ী। তাইতো মেয়ে হারানোর বিচারের দাবিতে তিনি মামলা দায়ের করেছেন। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কাছে প্রত্যাশা করছেন একদিন ময়না তদন্ত প্রতিবেদন আসবে। সেখানে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারন উল্লেখ করা হবে। সে কারন ধরে হয়তো অপরাধীরা বিচারের আওতায় আসবে।

কিংবা শারীরিক যন্ত্রনা পরিমাপক ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ধরা পড়বে না ইভার মানসিক যন্ত্রণার চিহ্ন। ময়নাতদন্ত বলবে এটি নিছকই আত্মহত্যা। ইভাদের বাঁচিয়ে রাখতে না পারার দায় থেকে মুক্তি পাবে ইভাকে দুবাইয়ে পাঠানো প্রতিষ্ঠান, ইভাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং ইভাকে নির্যাতনকারীরা।

সব খবর