বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯

দুই ঘন্টার আল্টিমেটামে নারায়ণগঞ্জ বন্ধ করে দেওয়ার হুশিয়ারি

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:০৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: দুই ঘন্টার আল্টিমেটামে নারায়ণগঞ্জ অচল করে দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ। ভোলায় পুলিশের সাথে ‘তৌহিদী জনতার’ সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এ হুশিয়ারি দেন।

সোমবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় শহরের ডিআইটি মসজিদের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের ব্যানারে কয়েকশ’ মুসুল্লির জমায়েত হয় এই সমাবেশে।

ওলামা পরিষদের এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সমাবেশ শুরুর কয়েক ঘন্টা পূর্ব থেকেই ঘটনাস্থলে বিপুল পরিমাণ র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ অঞ্চল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, র‌্যাব-১১ এর কালীবাজার ক্যাম্পের ইনচার্জ সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামানও উপস্থিত ছিলেন।

ভোলায় সংঘটিত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘আমরা আর এক ঘন্টা থাকলে নারায়ণগঞ্জ অচল হয়ে যাবে। আগামীকাল হরতাল বললে একটা সাইকেলও চলবে না। আমরা নারায়ণগঞ্জে সেই ক্ষমতা রাখি। দুই ঘন্টার আল্টিমেটামে নারায়ণগঞ্জ অচল হয়ে যাবে। আমার ভাইয়ের উপর গুলি চালায়, ভোলার প্রশাসন এত বড় সাহস কোত্থেকে পায়?

সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের সভাপতি এবং ডিআইটি মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘দুঃখ, ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে আজকে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। ভোলার রাজপথ মুসলমানের রাজপথ রক্তাক্ত। যাদের গুলি মুসলমানের সিনায় পড়েছে সেই পুলিশ ভাইরা তো মুসলমানই ছিল। কাদের ইশারায় এই তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে এতোগুলো মুসলমানকে শহীদ করা হলো। প্রধানমন্ত্রীসহ সবাইকে আমার প্রশ্ন, ভিন্নখাতে নিবেন সেটা পরের কথা কিন্তু এই লোকগুলির প্রতিবাদ করার হক কি বাংলাদেশের জমিনে নাই? সাধারণ একটা ব্যাপার নিয়েও তো মানুষ প্রতিবাদ করে। সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর ইজ্জতের উপর আঘাত হানলে মুসলমান তো ঘরে বসে থাকতে পারে না।’

তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ভোলায় যারা এই ঘটনা ঘটাইছে তাদের উপযুক্ত বিচার দেশবাসী দেখতে চায়, মুসলমানরা দেখতে চায়। যে নাস্তিক, যে হিন্দু, যে ইসকনের সদস্য এই কান্ড ঘটাইছে তার ফাঁসির মাধ্যমে নবী প্রেমিকদের অন্তরকে ঠান্ডা করতে চাই। পুনরায় মাঠে নেমে যেন উত্তপ্ত করতে না হয়। এই সুযোগটা আমাদের দেবেন না। এই ঘটনার ভালো তদন্ত মোতাবেক তার বিচার না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’

ভোলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, ‘রসুলের শত্রুদের পক্ষ নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার নিজের কপালে আগুন লাগায়ে দিছেন। এই আগুন জ্বালাবেন নাকি নেভাবেন সে সিদ্ধান্ত আপনিই নেবেন। আপনি যদি ওই ৯২ পার্সেন্ট মুসলমানদের দাবিকে যদি আপনি না মানের তাহলে এই মুসলমানদের হৃদয়ে যে আগুন জ্বলছে সে আগুন আপনার মসনদ ধ্বংস করে ছেড়ে দিবে। বিচার না করলে সারা বাংলাদেশের নদীর পানি দিয়েও এই আগুন নেভাতে পারবেন না।’ এ সময় বিক্ষুব্দরা প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেন।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের সহ সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদির, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কাসেমী, দারুল উলুম দেওভোগ মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি সিরাজুল মামুন, মহানগর খেলাফত মজলিসের সভাপতি ডা. এসএম মোসাদ্দেক, বন্দর থানা ওলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি কবির হোসেন, মুফতি রহমতউল্লাহ বুখারী, মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমী, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, মাওলানা ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ