শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

দলে ঘাপটি মেরে থাকা খন্দকার মোশতাকরা অপপ্রচার চালায়: ভিপি বাদল

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল বলেছেন, ‘যারা দুর্নীতিবাজ, দলের অভ্যন্তরে খন্দকার মোশতাক, ডালিম চক্রের মতো লুকিয়ে আছে তারা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এসব বিভ্রান্তকর তথ্য ছড়ায়।’

বিপুল পরিমাণ টাকা ও এফডিআরসহ আটক বিতর্কিত ব্যবসায়ী জিকে শামীমকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি পদে প্রস্তাবনা করা হয়েছিল। এমন গুঞ্জনের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি প্রেস নারায়ণগঞ্জকে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এই ছেলের নাম নিয়ে কোন আলোচনাই হয়নি। এগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। যারা দলের ভেতরে লুকিয়ে থাকে, যারা দলের শৃঙ্খলা, ব্যকরণ মানে না, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার হীনচক্রে প্রতিনিয়তই লেগে থাকে তারাই এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের কাজই দলের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। এ ধরণের কথা যারা বলে তারা কোন কাজ করে নাকি!’

জিকে শামীমের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির এক সভায় শূণ্য থাকা সহ সভাপতির পদটিতে জিকে শামীমের নাম প্রস্তাব করেছিলেন সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। এ নিয়ে ওই সভায় হই হট্টগোলের মতো ঘটনাও ঘটে। পরে কমিটির নেতৃবৃন্দের তোপের মুখে প্রস্তাবনাটি আর সিদ্ধান্তে রূপ নিতে পারেনি। যদিও জিকে শামীমের নামের প্রস্তাবনার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

নাম প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি বলেন, ‘আমাদের বর্ধিত সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড কমিটিগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া রূপগঞ্জ, আড়াইহাজারের কনফারেন্সের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। জিকে শামীমের বিষয়ে কোন আলাপই হয় নাই। যারা দুর্নীতিবাজ তারা বিভ্রান্তকর তথ্য দেয়। চোর চোরেরে চিনে। যে চুরি করে সে আরেকটা চোরকে চিনে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিকে শামীমের ব্যাপারে যা হয়েছে সেটা আইন আইনের গতিতে চলছে। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের মহাসড়কে দেশকে নিয়ে গেছেন। এখন এখানে বিশাল বিশাল ষড়যন্ত্র চলছে। বড় দলের মধ্যে অনেকেই অনেক রকম কথা বলতে পারে। বিষয়টা সঠিক কিনা সেটা আগে যাচাই করতে হবে। যে দুর্নীতিবাজ, চেয়ারে বইসা থাইকা দুর্নীতি করে তার কাজই কিন্তু উল্টা-পাল্টা কথা বলা। নিজে দুর্নীতি করে অভ্যস্ত বলে অন্যকে নিয়েও এভাবে কথা বলে।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে শামীমের জিকেবি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের অফিসে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযান চলাকালে জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ টাকা, গুলি ও মাদক। এছাড়া অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। এ সময় জিকে শামীমের সাত দেহরক্ষীকেও আটক করা হয়।

র‌্যাব সূত্র জানায়, শামীমের অফিসের ভেতর থেকে নগদ এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর (স্থায়ী আমানত) চেক ও ১শ’ কোটি টাকার চেক উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৪০ কোটি টাকার এফডিআর তার মায়ের নামে, বাকি ২৫ কোটি টাকা তার নামে। এছাড়া মার্কিন ডলারও উদ্ধার করা হয়।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ