বৃহস্পতিবার ২২ এপ্রিল, ২০২১

থেমে নেই সনু রানি, কাজ করছেন নারী উন্নয়নে

বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১, ১২:২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ভাষার জন্য শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ দলিত সম্প্রদায়ের প্রথম গ্র্যাজুয়েট সনু রানি দাস। পিছিয়ে পড়া ও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে উঠেনি তাঁর। শিক্ষক হতে পারেনি সনু। তবে দমে যাননি তিনি। নিজের সম্প্রদায়ের জন্য, দলিত নারীদের এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ শুরু করেছেন ‘দলিত নারী ফোরাম’ নামে একটি বেসরকারি সংগঠনে। যেখানে সনু কাজ করেন নারী উন্নয়নে।

শহরের টানবাজার সুইপার কলোনিতে ফার্স্ট গ্র্যাজুয়েট (প্রথম স্নাতক) সনু রানী দাস। পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের হওয়া সত্ত্বেও হাজার বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে স্কুল থেকে কলেজ ও কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পৌছেছিলেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করেছেন বিভিন্ন এনজিও’র সঙ্গে। এক সময় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে পাড়ি জমান সুদূর বিদেশে। প্রথমে স্কটল্যান্ডে গ্লে¬াবাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেন তিনি। বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ডের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ঐ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সনু সেখানে ছিলেন তিন মাস। এরপর তিনি জেনেভায় যান হিউম্যান রাইটসের এক সম্মেলনে অংশ নিতে। সেখানে ৭ মিনিটের এক ভাষণে তুলে ধরেন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দলিত সম্প্রদায়ে নারীদের অবস্থান।

টানবাজার সুইপার কলোনির ফার্স্ট গ্র্যাজুয়েট (প্রথম স্নাতক) সনু রানী দাস। পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের হওয়া সত্ত্বেও হাজার বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে স্কুল থেকে কলেজ ও কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পৌছেছিলেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করেছেন বিভিন্ন এনজিও’র সঙ্গে। এক সময় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে পাড়ি জমান সুদূর বিদেশে। প্রথমে স্কটল্যান্ডে গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেন তিনি। বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ডের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ঐ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সনু সেখানে ছিলেন তিন মাস। এরপর তিনি জেনেভায় যান হিউম্যান রাইটসের এক সম্মেলনে অংশ নিতে। সেখানে ৭ মিনিটের এক ভাষণে তুলে ধরেন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দলিত সম্প্রদায়ে নারীদের অবস্থান। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে তার সাফল্যগাঁথা। দেশবাসীর কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন একজন আদর্শ নারী হিসেবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিও তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এক সময় ব্যাপক আলোচনায় ও সবার মধ্যমণি হয়ে থাকা সনু রানী ধীরে ধীরে আলোচনার বাইরে চলে যান। তবে ভাষার জন্য শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন তার সঙ্গ ছাড়ে না। স্বপ্নকে আকড়ে ধরে ২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৭ জনের মধ্যে একজন হিসেবে পরীক্ষা দেন তিনি। তবে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ৫৫ হাজার ২৯৫ জনের মধ্যে তার নাম আসেনি। ফলে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন, রাতের অন্ধকারে দেখা হাজার স্বপ্নের মতো মিলিয়ে যায়।

সনু রানি বলেন, ‘দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর যখন শিক্ষক হতে পারলাম না, তখন অনেকটা হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে ভাবলাম, আমি পারিনি তো কি হয়েছে আমি সেই ঢাল হবো, সেই পথ হবো যা আমার মত অন্যান্যদের স্বপ্নপূরণে সহযোগিতা করবে। তাই আমার পুরনো সংগঠনে প্রোগাম অফিসার হিসেবে যুক্ত হলাম।’

তিনি জানান, বাংলাদেশে দলিত নারীদের অধিকার রক্ষা আন্দোলনের জাতীয় প্লাটফর্ম ‘বাংলাদেশ দলিত এক্সপ্লোডেড রাইট মুভমেন্ট (ডিডিইআরএম)’। এরই একটি শাখা দলিত নারী ফোরাম। এ সংগঠনটি দলিত সম্প্রদায়ের মানবিক, নাগরিক ও রাষ্ট্রীয় অধিকার নিয়ে কাজ করে, সচেতন করে, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা লাভে সহযোগিতা করেন। একই সঙ্গে দলিত নারীদের উন্নয়নে কাজ করে।

সংগঠনটির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে সনু বলেন, ‘এই সংগঠনের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমি অনেকের সহযোগিতা পেয়েছি। তবে একজনকে নিয়ে বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। যাকে দেখে আমি অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছি এবং এ কাজটাকে ভালোবাসতে শুরু করেছি। সে হচ্ছে দুই নম্বর ঢাকেশ্বরীর দলিত সম্প্রদায়ের মেয়ে তমা। তমা শারীরিক প্রতিবন্ধী, হাঁটতে পারে না। যেখানে আমাদের সম্প্রদায়ের শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই পড়াশোনা করতে পারে না সেখানে তমা তার প্রতিবন্ধকতা নিয়েই পড়াশোনা করেছে এবং এইচএসসি পাশ করেছে। তমা, তার বাবা-মা কতটা কষ্ট, পরিশ্রম করেই না এ পর্যায়ে এসেছে। সে অনুযায়ী আমি কিছুই করিনি। তমার পরিশ্রমের কাছে, তার অধ্যাবসায়ের কাছে আমার পরিশ্রম, অধ্যাবসায় খুব তুচ্ছ মনে হয়েছে। সম্প্রতি তমার আগামী পড়াশোনার জন্য এই সংগঠনের মাধ্যমে স্কলাশীপের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’

সনু আক্ষেপ করে বলেন, ‘তমার মত এমন আরো অনেকের সাহায্য আমরা করতে চাই কিন্তু পারছি না। কারণ এই সংগঠনটির সে রকম ফান্ড নেই। সহযোগিতা আসে, তবে তা এর কার্যক্রম ও নারীদের উন্নয়নের জন্য পর্যপ্ত না। তবু কাজ করছি, কাজ করবো। নিজের যতটুকু সম্ভব তা দিয়ে আমার সম্প্রদায় ও নারী উন্নয়নে কাজ করে যাবো।’

সব খবর
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ বিভাগের সর্বশেষ