শনিবার ২০ জুলাই, ২০১৯

থানায় ঢুকে পুলিশকে মেরে ফেলার হুমকি ছাত্রলীগের (ভিডিওসহ)

রবিবার, ৩১ মার্চ ২০১৯, ০০:৪৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজারে থানায় ঢুকে পুলিশকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা৷ এ ঘটনার ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ৷ এমনকি এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত করা হয়নি৷
 
শুক্রবার (২৯ মার্চ) রাত ৯টার দিকে আড়াইহাজার থানার ভেতর এ ঘটনা ঘটে৷
 
আড়াইহাজার থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে জিডি সংক্রান্ত একটি বিষয়ে আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগের নেতাকর্মী থানায় আসেন৷ এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশ সদস্যদের তর্কবিতর্ক শুরু হয়৷ এক পর্যায়ে উত্তেজিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশকে শাসায় এবং মেরে ফেলারও হুমকি দেয়৷
 
গণমাধ্যমে আসা মোবাইলে ধারণকৃত ওই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রথমে এএসআই শরিফ ও পরে এসআই ফায়জুর রহমানের সঙ্গে প্রচন্ড বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এসআই মোস্তাফিজ, এসআই হেলাল, এএসআই আউয়াল ও এএসআই মোস্তফা এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওতে আঙুল উচিয়ে পুলিশকে শাসাতে দেখা যায় এক ছাত্রলীগ কর্মীকে৷
 
শুক্রবার রাতে ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে থাকা এএসআই শরিফ জানান, রাতে আল-আমিন একটি জিডি খোঁজ করছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজেই জিডি লিপিবদ্ধের খাতা হাতে নিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। পরে তাতে তিনি বাধা দেন৷ এতে তারা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমি তখন থানাতে ছিলাম না৷ ঢাকাতে ডিআইজি সাহেবের সাথে মিটিংয়ের জন্য বিকেল ৪টাতে চলে গিয়েছিলাম৷ তখন দায়িত্বে ছিলেন পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম৷ আমি শুনেছি কথা কাটাকাটি হয়েছে৷ এক কথা দু কথায় ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছে৷
 
এদিকে পুরো ঘটনার জন্য পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলামকে দায়ী করেছেন ওসি আক্তার হোসেন৷ তিনি বলেন, এ ঘটনার পুরো গিল্টি (দোষী) হলো আমার তদন্ত৷ নাটক কইরা সেই করাইছে এই ঘটনা৷ সামান্য তর্কাতর্কির ঘটনায় সে আইসা সামনে দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেই তো সব ঠান্ডা হয়ে যায়৷ যেসব পোলাপান এ ঘটনা ঘটাইছে তারা তো আমার সামনে দিয়াও হাটে না৷
 
শুক্রবার রাতে থানার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, থানায় ঢুকে হুমকি দেয় নাই৷ সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে৷
 
‘পরিদর্শক (তদন্ত) দায়িত্বে অবহেলা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ওসি’ এর জবাবে তিনি বলেন, এ রকম কথা থানার ওসি বলতে পারেন না৷ এ ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, এর ব্যবস্থা নিবে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা৷
 
এদিকে এ ঘটনা জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে এসপির নির্দেশে ওই রাতেই সহকারি উপ পরিদর্শক (এএসআই) শরীফকে ক্লোজড করে থানা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়৷
 
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের থানায় ঢুকে অন ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের প্রকাশ্যে শাসানোর ঘটনার ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ৷
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এমপি মহাদয় ওরে (আল আমিন) ছাত্রলীগের পার্টি থেকে বহিষ্কার করে দিছে৷ আমি এমপি সাহেবকে জানাইছি নইলে নিজেই মামলা দিতাম৷
 
তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা কিংবা জিডি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ওসি আক্তার হোসেন৷
সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ