সোমবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮

তোলারাম কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

শনিবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের স্নাতক ও মাস্টার্সের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় স্নাতক ও মাস্টার্সের ১শ ১১জন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ নভেম্বর) বেলা ১২টায় উক্ত সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. মোল্লা জালাল উদ্দিনের কাছে দুটি আবেদন জানায় কলেজের শিক্ষার্থীরা। অনুরোধগুলো হলো, কলেজে আরো তিন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের ব্যবস্থা করতে হবে ও উচ্চ মাধ্যমিকে আইসিটি শিক্ষকপদ সৃষ্টি করা।

নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বেলা রানী সিংহের সভাপতিত্বে ও অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ জাকিয়া নূরের সঞ্চালনায় এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনডি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রাণালয় অতিরিক্ত সচিব ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মো. শামছুল হুদা। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর শাহ মো. আমিনুর ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের কৃতি শিক্ষার্থী ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান রিয়াদ, কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ।

এনডি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আজ যারা কৃতি শিক্ষার্থী তাদের মনে রাখতে হবে এটাই শেষ নয়, এটা সবে শুরু। তাদের আগামীতে আরো এগিয়ে যেতে হবে। শুধু পড়াশোনায় নয় সব কিছুতেই অলরাউন্ডার হতে হবে। কখনো কলেজ আর ক্লাস এক করবেন না। আমার এক শিক্ষক বলেছিলেন, যে শিক্ষার্থী কখনো ক্লাস করেনি, পরীক্সা দেয়নি কিন্তু প্রতিদিন কলেজে এসছে, ক্যাম্পাসে ঘুরাঘুরি করেছে তাকে একটি থার্ডক্লাস ডিগ্রি দেয়া যায়। কেননা সে পুথিগত বিদ্যা না নিক , সে কলেজের পরিবেশ থেকে একটি চরিত্র নিয়ে যাচ্ছে। আজকাল শিক্ষার্থীরা কলেজে না এসে কোচিং এ শেখে, পরীক্ষা দেয়। তারা ভালো রেজাল্ট করে কিন্ত কারো কাছে নিজিকে উপস্থাপন করতে পারে না। বিশ্ব বাজারে নিজেকে সেল করতে পারে না। কেননা সে পুথিগত বিধ্যা নিয়েছে কিন্তু এক্সট্রা কারিকুলামের দিয়ে সে বিধ্যাি জ্বালাই করতে পারেনি। আমি শিক্ষকদের বলবো, আপনরা যে পণ্য তৈরি করছেন তার মার্কেটিং করা আপনার দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে একজন জিঞ্জেস করেছিলেন, আপনাকে আগে ফাইলের জন্য দেখা যেতো না। আপনার সেই ফাইলগুলো কোথায় গেল? আমি তখন বলেছিলাম সব ফাইল এখন ফোনে। এটা হচ্ছে আমাদের বর্তমান অবস্থান। এ হচ্ছে ডিজিটালাইজেশন। এক সময় জ্যামের কারণে গাড়িতে বসে জিমাতে হতো আর এখন জ্যামে বসে মোবাইলে সব কাজ করে ফেলতে পারছি। যখন কোনো কলেজের অধক্ষ্যের পোস্ট খালি হয় তখন আমার মধ্যে চাপ অনুভব করি। কেননা একটি কলেজ অভিভাবক শূণ্য। শেষে যখন অধক্ষ্য নিয়োগ দেই তখন তাকে সব দায়িত্ব বুজিয়ে দেই এবং দায়মুক্ত হই। কোনো কলেজে কিছু হলে তা আমার বেশি রটে। যখন দেখি কোনো কলেজের বিরুদ্ধে কোনো রির্পোট আমার টেবিলে আসে না। তখস আমি ধরে নেই সেই কলেজটি ভালোভাবে চলছে। আর এমনই একটি কলেজ নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ।

কলেজের তিনটি অনুরোধ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করবো মার্কেটিং, ফিনেন্স ও ইতিহাস এ তিনটি বিষয়ে স্নাতক কোর্স শুরু করার। বাকি রইল শিক্ষক পদ সৃষ্টির বিষয়টি। সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। সরকারিভাবেই শিক্ষকপদ সৃষ্টি করা হবে। তখন আর কলেজে শিক্ষকদের অভাব থাকবে না।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মো. শামছুল হুদা বলেন, ‘আজ রবিন্দ্রনাথের সেই কথাটি মনে পরছে - চাঁদের হাসির বাধ ভেঙ্গেছে, উচ্ছলে পড়ে আলো ও রজনীগন্ধা তোমার গন্ধ শুধা ঢালো। যেনো মনে হয় চাঁদ দেখতে এসে আমি তোমায় দেখে ফেলেছি। দেখতে এসে কৃতি শিক্ষার্থী, বিশাল বড় সাংস্কৃতীক মঞ্চের সাংস্কৃতীক যে সমস্ত কৃতী শিক্ষার্থী তাদের অনুষ্ঠান ও দেখে ফেলালাম। মনে হচ্ছে ষোলো কলা পূর্ন হলো আমার। নারায়ণগঞ্জের মধ্যে এটি একটি সম্পূর্ন ড্রিম কলেজ একটি সপ্নের কলেজ এটুকুন বললে কি কম বলা হবে এবং সেই সাথে বলব যে ওর কথা অনুযায়ী এটি একটি শিক্ষা বান্ধব কলেজ, এটি একটি শিক্ষক বান্ধব কলেজ, এটি একটি শিক্ষার্থী বান্ধব কলেজ। এই কথা গুলো কিন্তু এসছে তার কথা থেকে, আমি মুগ্ধ হয়েছি যে এ ধরনের একটি তেইশ হাজার শিক্ষার্থীসহ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার ক্ষেত্রে যে তরুন উদিয়মান যে সমস্ত শিক্ষার্থী যারা সহযোগীতা করেছে এটি আমাকে বিস্মিত করেছে। এখানকার নানা রকমের চ্যালেঞ্জ থাকা সত্বেও এর ফলাফল ইশ^নীয় বিশেষ করে আজকে যখন আমরা সম্মান এবং মার্স্টাস পর্যায়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের প্রায় ১০১ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে আমরা পুরষ্কৃত করছি। এই কৃতীত্ব শুধু তাদের একার না। এ কৃতীত্বের ভাগ সম্পূর্ন দিতে চাই পুরো তেইশ হাজার শিক্ষার্থী সবাইকে এবং প্রশাসনের সবাইকে। কারন এদেরকে সামনে রেখেই কিন্তু যারা এই কৃতীত্ব অর্জন করতে পারেনি তারা উৎসাহিত হবে অনুপ্রানীত হবে তারাও আগামীতে এরকম কৃতী শিক্ষার্থী হিসেবে মেডেল গ্রহন করবে।’

সব খবর
শিক্ষাঙ্গন বিভাগের সর্বশেষ