শনিবার ২৪ আগস্ট, ২০১৯

তীব্র দাবদাহে শহরের বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা

শনিবার, ১১ মে ২০১৯, ১৭:৪৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: তাপদাহ, ভ্যাপসা গরমের কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। গরমে শিশুদের শরীর ঘন ঘন ঘামানোর কারণে ঠান্ডা, জ্বর, ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তার পাশাপাশি এই মৌসুমে শিশুদের খাদ্য হজমে সমস্যা হওয়ায় ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের পেটের অসুখে ভুগছে। ফলে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে অধিকাংশ শিশুরা এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে মনে করছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (১১ মে) সকালে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই বহিঃবিভাগে রোগীদের ভিড়। চিকিৎসা নিতে এসেছেন অনেকেই। হাসপাতালে শিশু রোগীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক বেশি। অভিভাবদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ শিশুই ঠান্ডা, জ্বরে আক্রান্ত। অনেক শিশুই ৫-৬ দিন যাবত ভুগছে। এছাড়াও ছিল ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগী। এদিকে হাসপাতালের শিশু বিভাগে ঘুরে দেখা যায়, সেখানেও রোগীদের ভিড়। ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডে রোগী। অধিকাংশ শিশুই ৫ বছরের নিচের বয়সের।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞের কক্ষের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন ফতুল্লার কাইয়ুমপুর এলাকার গৃহবধূ মরিয়ম বেগম। তার কোলে ৫ বছরের ছোট্ট লামিয়া। মরিয়ম বেগমের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘আজ ৪-৫ দিন লামিয়ার জ¦র। তারপাশপাশি ঠান্ডা, জ্বর ও কাশি। এলাকার ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ খাইয়েছি কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। তাই আজ হাসপাতালে আসলাম।’

চিকিৎসকের কক্ষের বাইরে লাইনের শেষ প্রান্তে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কাঁদছিল জহুরা। ৯ বছর বয়সি জহুরা একটু পরপরই খকখক করে কাঁশছে। ৫ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট জহুরা। জহুরার মা মাহমুদা বলেন, ‘আমার ছোট মেয়ে সবাইকে মাতিয়ে রাখে। সারাক্ষণ মুখে হাসি থাকে কিন্তু এই ঠান্ডায় সে একদম নিস্তেজ হয়ে পরেছে। ওর বুকে কফ জমে গেছে। কিছু খেতেও চায় না।’

নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ও জেলা স্বাচিপের সাধারণ সম্পাদক বিধান চন্দ্র পোদ্দার প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘বছরের এই সময়ে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে এটা স্বাভাবিক, বিশেষ করে ভাইরাল জ¦রে। কিন্তু এ বছর রোগীর সংখ্যা একটু বেশি। দাবদাহ, ভ্যাপসা গরম ও ক্লাইমেট চেঞ্জ হওয়ায় শিশুরা বিভিন্ন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। আর ভাইরাল জ্বর হলে ৪ থেকে ৫ দিন থাকবে।’

অভিভাবদের জন্য পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে প্যারাসিটামল সিরাপ, ঘরোয়া ঔষধ দিতে পারে। যেমন তুলসি, বাসক পাতার রস। শিশুকে ধুলা-বালি থেকে দূরে রাখুন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, আলো-বাতাশযুক্ত ঘরে রাখুন। তবে বদ্ধ ঘরে রাখবেন না। জ্বর, ঠান্ড দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ