বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২০

তিন দিনে ৫ মৃতদেহ সৎকারে কাউন্সিলর খোরশেদ

শুক্রবার, ২২ মে ২০২০, ১৯:১২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: করোনার এই দুর্যোগে হয়তো পরিস্থিতিই এমন হয়েছে যে স্বজনের মৃতদেহটাও যেন অছ্যুৎ। ঘন্টার পর ঘন্টা মৃতদেহ পড়ে থাকলেও সৎকারের ব্যবস্থা করবেন এমন লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। সে সময় কিছু স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে দল গঠন করে এগিয়ে এলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। গত তিনদিনে ৫ জনের মৃতদেহ সৎকার করেছে খোরশেদ ও তার দল (টিম খোরশেদ-১৩)। এখন পর্যন্ত ৫৪ মৃতদেহ সৎকার করেছে তারা। মৃতদের অধিকাংশই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিংবা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি। নিজে মুসলমান হলেও হিন্দু ব্যক্তিদের মুখাগ্নিও করেছেন খোরশেদ।

এই করোনাকালে সর্বশেষ শুক্রবার (২২ মে) বন্দরের লক্ষণখোলা এলাকার ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের দাফন সম্পন্ন করে খোরশেদ ও তার স্বেচ্ছাসেবী দল। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ৫২ ও ৫৩তম ব্যক্তির দাফনকার্য সম্পন্ন করেছে এই দল।

৫১তম সৎকারের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খোরশেদ লিখেছেন, ২০ মে রাত ১১টায় নারায়ণগঞ্জের স্বনামধন্য শিল্পপতি পরিবারের মুরুব্বী (৭৮) ইন্তেকাল করেন। তিনি করোনা পজেটিভ হয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার পরিবারের আহবান ও ইচ্ছায় আল্লাহর রহমতে সাইক্লোন আম্পানের তুমুল ঝড় ও বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাত ২টায় মরহুমের গোসল, জানাযা ও দাফন সম্পন্ন করেছি। গত ২৪ ঘন্টায় তিন দাফনে টিমে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী হিরাশিকো, নাঈমুল খন্দকার, হাফেজ শিব্বির আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, লিটন মিয়া, সুমন দেওয়ান, রাফি, ইয়াসির ও নাঈম।

এর আগে ২০ মে ৫০তম দাফনকার্য সম্পন্ন করেন ৫৫ বছর বয়সী এক নারীর। তিনি করোনা আক্রান্ত না হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাফন কাজের জন্য কাউন্সিলর খোরশেদের টিমের সাথে যোগাযোগ করা হয়। পরে ওই নারীর জানাজা থেকে শুরু করে দাফন পর্যন্ত সবকিছুর ব্যবস্থা করে টিম খোরশেদ। মৃত নারীর গোসল করান টিমের স্বেচ্ছাসেবী ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রোজিনা বেগম।

গত ৩০ মার্চ নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, নাসিক মেয়র ও সিভিল সার্জনের কাছে মৃতদেহ সৎকারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আবেদন করেন মাকছুদুল আলম খোরশেদ। খোরশেদ জানান, ৮ এপ্রিল প্রথম করোনা সন্দেহে আফতাবউদ্দিনের দাফনের মাধ্যমে শুরু করে ২১ মে পর্যন্ত ৫৪ জনকে দাফন ও সৎকার করেন। এর মধ্যে ১৫ জন কোভিড-১৯ পজেটিভ, ২৯ জনের উপসর্গ ছিল এবং ১০ জনের হয়েছিল স্বাভাবিক মৃত্যু।

কাউন্সিলর খোরশেদ বলেন, এই করোনা দুর্যোগে মানুষের মধ্যে মানবিকতার প্রশ্ন উঠেছে। স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও তার সৎকারে বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে স্বজনদের। অনেক সময় স্বজনরাও এগিয়ে আসছেন না। শুরুর দিকে নিজ ওয়ার্ডে সৎকারের কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে অন্যান্য স্থানেও যেতে হয়েছে। ফতুল্লার ভূইগড় গিয়েও মৃতের গোসল ও দাফন করাতে হয়েছে। এই দুর্যোগে মানুষকে আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ