শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

তরুণদের মনে ভালোবাসার মানে

বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৫৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণঞ্জ: ভালোবাসা। নরম তুলোর মত আবেগে মোড়ানো, ভাষায় প্রকাশ না করতে পারা স্পর্শকাতর এক তীব্র অনুভূতি। যে অনুভুতি দুটি মানুষকে আবদ্ধ করে মায়ার এক অটুট বন্ধনে। বলা হয়, ভালোবাসা উদযাপনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন হয় না। ভালোবাসার মানুষটি সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই উৎসব। তারপরও ভালোবাসা দিবস পালনে আয়োজনের কমতি নেই।

তরুণ-তরুণী, মাঝবয়সি এমনকি প্রবীণদের মাঝেও বেড়েছে এই দিনটির জনপ্রিয়তা। তবে তরুণ প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কথা হয় কয়েকজন তরুণের সাথে। তাদের কাছে ভালোবাসা একজন নারী ও একজন পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনুভূতির ডানা ছড়িয়ে প্রতিটি মানব সম্পর্কের মধ্যে ঘটেছে এর বিস্তার। তাই অনেকেই দিনটিকে সাজিয়ে নিয়েছেন নিজেদের মতো করে। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির স্থানে আসীন করেছেন বাবা-মা, বন্ধু, দেশপ্রেমকে। প্রাণীর প্রতিও রয়েছে তাদের অগাধ ভালোবাসা। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস নিয়ে তরুণদের এমন কিছু ভাবনা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

ভালোবাসা ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের সরকারি কদম রসূল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আমানুর রহমান বলেন, ‘প্লেটোর কাছে ভালোবাসা একটি মানসিক ব্যধি, নজরুলের মতে ভালোবাসা একটি প্রশান্ত ও চিরন্তর, হুমায়ূন আহমেদের অনুভূতিতে ভালোবাসা একখানা অত্যাচার, যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয় অনুভব করতে হয়। তবে তরুণ হিসেবে ভালোবাসা আমার কাছে এমন একটি পবিত্র অনুভূতি। যেখানে অবহেলা, অপমান কিংবা অসম্মানের লেশমাত্র নেই, সেটাই ভালোবাসা। আমার অনুভূতিতে স্বপ্ন দেখার হাতিয়ার হচ্ছে ভালোবাসা। যা আমাকে আগামীতে বাঁচার যোগান দেন। বেঁচে থাকার জন্য দেহের যেমন খাদ্য আবশ্যক, তেমনিই মনের জন্য ভালোবাসা অপরিহার্য।’

আমানুর আরো বলেন, ‘আমি বরাবরই আমার ভালোবাসার স্থান দিয়েছি সৃষ্টিকর্তা, অসহায় মানুষ ও প্রাণীদেরকে। অর্থাৎ রাস্তায় যখন কোনো অসুস্থ মানুষ, এতিম, বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ প্রাণী দেখি তখন আমার মন থেকে এক অদ্ভুত প্রকৃতির ভালোবাসা তাদের জন্য চলে আসে। এক মূহুর্তের জন্যে নিজের স্বার্থের কথা ত্যাগ করে ব্যস্ত হয়ে যাই তাদের সেবা করতে। তাই আমার জীবনকালে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে করেছি সেবাধর্মী অনেক কাজ। যখনই সময় পাই প্রাণীসেবায় মগ্ন থাকি। কারণ এরা প্রকৃত ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। এদেরকে ভালোবাসতে পারলে মন থেকেই তৃপ্তি অনুভব করি।’

নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার কাছে ভালোবাসা মানে প্রিয়জনকে ভালো রাখা। ভালোবাসা মানে যাকে নিজের সবটুকু দিয়ে ভালোবাসা যায়। ভালোবাসা সম্পূর্ণটাই অনুভবের বিষয়। ভালোবাসা! চার অক্ষরের এই শব্দটা একেকজন একেকভাবে উপলব্ধি করে। তবে আমার কাছে ভালোবাসা হলো- আমার মুখটা দেখে মায়ের বুঝতে পারা আমি না খেয়ে ছিলাম। কারণে অকারণে মা সবসময় আমার পাশে ছিলেন এবং আছেন। আমার সকল কাজে প্রেরণা যোগানো ব্যক্তির তালিকায় প্রথম অবস্থান তার। আমার জীবনে আমার মা হচ্ছেন আমার ভালবাসার মানুষ। তবে প্রতিটি মানুষের জীবনে এমন একজন মানুষ থাকে, যার হাতটা পরম বিশ্বাসের সাথে ধরে সারাজীবন একসাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। আমার মতে, শেষ পর্যন্ত পাশে থাকাটাই হলো সত্যিকারের ভালোবাসার উদাহরণ। যদি ভালোবাসা দিবসটি উৎসর্গ করার প্রশ্ন আসে, তাহলে দিনটি আমি আমার মায়ের জন্য উৎসর্গ করতে চাই। ভালোবাসি কথাটা না বলেও ভালোবেসেছি মাকে। কিন্তু আমরা যাদেরই ভালোবাসি না কেন, মাঝে মাঝেই তাদের বলা উচিৎ- ভালোবাসি। এতে সম্পর্কের প্রতি ভরসা বাড়ে।’

সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অর্নাস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমার কাছে ভালোবাসা হলো, প্রিয় মানুষটিকে সম্মান করা। সবার জীবনেই ভালোবাসার গুরুত্ব অপরিসীম। ভালোবাসা না থাকলে মানুষের জীবনে আনন্দের ছিটেফোটাও থাকতো না। মানুষের ভালোবাসাই মানুষকে সুখে রাখে। পরিবারের ভালোবাসা, বন্ধুদের ভালোবাসা। আমার কাছে আমার ভালোবাসার মানুষ আমার বন্ধু নাইম। নাইম বিপদে আমার পাশে থাকে, আমাকে পাশে রাখে। আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়, সাহস জোগায়। এই ভালোবাসা দিবসটি আমি আমার বন্ধু নাইমকে উৎসর্গ করছি।’

শহরের মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা নিপা আক্তার বলেন, ‘ভালোবাসা বলতে আমার কাছে আমার মায়ের মুখের হাসি আর বাবার অফুরন্ত আদর। আর যখন কেউ আমার জীবনে আসবে তখন একে অপরকে বুঝতে পারা, সবসময় সপোর্ট করাই ভালোবাসা। নারী-পুরুষের ভালোবাসা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা প্রতিটি মানুষই চায় কেউ ভালোবাসতে এবং কারো থেকে ভালোবাসা পেতে। সব সময় আগলে রাখুক, বুঝুক। তবে, আমার মতে, ভালোবাসা দিবসটি শুধু নারী আর পুরুষের মধ্যকার আবেগকেই বুঝায় না এই দিনটি সবার মঝে ভালোবাসা বিলিয়ে দেয়ার জন্য। ধরুণ, এই দিন প্রেমিক প্রেমিকাকে ফুল দিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তারা প্রকাশ করছে- তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু আমরা যাদের ছোট্টবেলা থেকে ভালোবেসে আসছি তাদের কখনো বলি না ‘বাবা-মা তোমাদের ভালোবাসি’। আমি সবাইকে বলবো, ভালোবাসা দিবসে বেশি বেশি ভালোবাসো। তাকে যাকে তুমি সত্যিই ভালোবাসো।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ