বৃহস্পতিবার ২৭ জুন, ২০১৯

তরুণদের পছন্দ আফগানী টুপি

বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০১৯, ২২:১৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

ইশতিয়াক আহমেদ (প্রেস নারায়ণগঞ্জ): মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাকি আর কয়েকটা দিন। তাই শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সব শ্রেণির মানুষ। শেষ সময়ে কেনাকাটায় ভিড় জমেছে টুপি, জায়নামাজ, তসবিহ আর আতরের দোকানে। বেচাকেনা চলবে চাদঁ রাত পর্যন্ত।

ক্রেতাদের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নগরীর মার্কেটগুলোর পাশাপাশি ফুটপাত ও অলিগলিতেও বসেছে টুপি, তসবিহ, জায়নামাজ ও সুরমা-আতরের দোকান। সব বয়সের ক্রেতার চাহিদাকে মাথায় রেখেই নিজেদের সম্ভার সাজিয়েছেন দোকানিরা। শেষ সময়ে টুপি, জায়নামাজ ও আতর বেচা-কেনার হিড়িক দেখা গেছে। নগরীর ডিআইটি মসজিদ মার্কেট ও নূর মসজিদের ফুটপাত প্রাঙ্গনে সরেজমিনে ঘুরে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এসেছে কিস্তি টুপি, জালি টুপি, হজ্বি টুপি, ইন্দোনেশিয়ান টুপি, পাকিস্তানি টুপি, তুর্কি টুপি, গোল টুপি, আফগানী টুপিসহ আরো অনেক ধরনের টুপি। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০ টাকা মূল্যের টুপি রয়েছে বাজারে।

জান্নাত ক্যাপ হাউজের মালিক শিহাব উদ্দিন বলেন, ক্রেতাদের মধ্যে গোল, কিস্তি টুপির চাহিদা বেশি কিন্তু তরুণদের মধ্যে আফগানী টুপির জনপ্রিয়তা বেশি।

এদিকে সারা বছর আতরের তেমন চাহিদা না থাকলেও ঈদের সময় আতর বিক্রি বেশি হয় বলে জানিয়েছেন নূর মসজিদের সামনের ফুটপাতের আতর বিক্রেতা মোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে রমজানের সময় দেশী-বিদেশী আতর দোকানে রাখার চেষ্টা করি। বেশির ভাগ দোকানে আতর বিক্রি হয় তোলা ও শিশি হিসাবে।

বিভিন্ন দেশ ও ব্র্যান্ডের ভিন্নতার ক্ষেত্রে আতরের দামেও কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। সুগন্ধি আতরের মধ্যে জান্নাতুল ফেরদৌস, জেসমিন, রোজ ও দিলরুবা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০, রেড রোজের তোলা ১৪৫০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দরবার, এনজেল ও জমজম আতর বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকায়। ভারতীয় কাঁচা বেলি ৫৫০-৭০০, কুলম্যান ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়। দেশী আতরের মধ্যে হাসনাহেনা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, বেলি, নাইট ফ্লাওয়ার, জান্নাতুল ফেরদৌস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকা দরে।

ঈদের দিন নামাজের জামাতগুলো সাধারণত খোলা মাঠ, ঈদগাহ বা অন্য কোনো ফাঁকা স্থানে হয়ে থাকে। সে জন্য মুসল্লিদের ভিড় জায়নামাজ বিক্রির দোকানগুলোতেও।

খিলমার্কেটের বাসিন্দা মোকছেদ আলী জায়নামাজ কিনতে এসেছেন ডিআইটি মসজিদের পাশের একটি দোকানে। তিনি বলেন, ঈদগাহে জায়নামাজ নিয়ে নামাজ পড়তে গেলে ঝামেলায় পড়তে হয় না। ঈদগাহের যে কোনো স্থানে নামাজ পড়া যায় জায়নামাজ দিয়ে।

দেশ ও মানের ওপর ভিত্তি করে জায়নামাজের দামের পার্থক্য লক্ষ করা গেছে বিভিন্ন দোকান ঘুরে। দেশী জায়নামাজের চেয়ে বিদেশী জায়নামাজের দাম তুলনামূলক বেশি। দেশি জায়নামাজ ২০০ থেকে ৫শ’ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বিদেশী জায়নামাজের মধ্যে সৌদি আরব ও পাকিস্তানী জায়নামাজের দাম সবচেয়ে বেশি। এগুলোর দাম ৮০০ থেকে ২০০০ হাজার টাকা। অন্যান্য দেশের জায়নামাজের দাম ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা।

নানা পদের তসবিহও আছে বাজারে। কাঠের তৈরি, পাথরের তৈরি ও ক্রিস্টালের তৈরি তসবিহ। দাম পড়বে ৫০ থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা। ক্রিস্টাল ১০০ থেকে ২০০ টাকা, চন্দন দেড় হাজার টাকা, জয়তুন ১ হাজার ২০০ টাকা, টাইগর তসবিহ ২ হাজার টাকা, কাঠের তৈরি তসবিহ ৫০ থেকে দেড় হাজার টাকা।

সব খবর
ধর্ম ও নৈতিকতা বিভাগের সর্বশেষ