সোমবার ২০ আগস্ট, ২০১৮

ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় প্রথম, সোনারগাঁয়ে শান্তকে সংবর্ধনা

শুক্রবার, ৩ আগস্ট ২০১৮, ২১:৪৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সোনারগাঁয়ের ললাটি গ্রামে সুবর্ণগ্রাম আইডিয়াল স্কুলে ঢাকা বোর্ডে এইচএসসি ২০১৮ মেধা তালিকায় প্রথম হওয়ায় মো. আবু মুছা শান্তকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ আগস্ট) বিকালে সুবর্ণগ্রাম আইডিয়াল স্কুল, সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন, ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অব সোনারগাঁ, সোনারগাঁ প্রেস ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সুবর্ণগ্রাম আইডিয়াল স্কুলের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।

কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ-এর পরে সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। প্রথমেই শান্ত এবং অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। মো. মোরশেদ আলম শিশিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুবর্ণগ্রাম আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দ্র ঢালী। এরপর বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট টিভি নাট্য ব্যক্তিত্ব লুৎফুন্নাহার লতা, লেখক সাহিত্যিক ও গবেষক শামসু্দ্েদৗহা চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট-এর সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, এডভোকেট জিয়া হায়দার ডিপটি, কবি রহমান মুজিব, সোনারগাঁ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার (সোনারগাঁ) আল আমিন তুষার, সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন-এর কার্যকরী সদস্য লেখক শঙ্কর দাস, ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অব সোনারগাঁ-এর সভাপতি মো. আবু সালেহ, দৈনিক কালের কন্ঠের বিজনেস রিপোর্টার এম সায়েম টিপু, কাঁচপুর ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম, সুবর্ণগ্রাম আইডিয়াল স্কুলের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম (সাইদুল), আবৃত্তিকার কাজী মনির, জাহাঙ্গীর আলম ইমন ও আতিকুর রহমান মিঠু প্রমুখ।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি তার বক্তব্যে বলেন, শাহেদ কায়েস-এর উদ্যোগে সোনারগাঁয়ে যে সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন-এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তা আজ ডালপালা মেলে অনেক দূর বিস্তৃত হয়েছে। শান্তর মত একজন রতœ বেরিয়ে এসেছে, আমরা চাই এই অঞ্চল থেকে আরও অনেক শান্ত বেরিয়ে আসুক, যারা দেশ ও জাতির মুখ উজ্জ্বল করবে একদিন। শান্ত তোমাকে অনেক দূর যেতে হবে, কিন্তু তুমি কখনোই তোমার নিজের গ্রাম, শিকড়কে ভুলে যেও না, তুমিও অন্যদের কিছু না কিছু দেয়ার চেষ্টা কর, তোমার জন্য মঙ্গল কামনা করছি।

নাট্য ব্যক্তিত্ব লুৎফুন্নাহার লতা বলেন, আমি খুবই বিস্মিত এবং আনন্দিত সুবর্ণগ্রামের কার্যক্রম দেখে। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসার আগে আমি সুবর্ণগ্রামের আরেকটি স্কুল ‘ঋষিপাড়া মন্দির পাঠশালা’র শিশুদের দেখতে গিয়েছিলাম, যেটা পানাম নগরীর বাগমুছা গ্রামে অবস্থিত। কী দারুণ সব অসাধারণ ছেলেমেয়ে! আমি শান্তকে বলতে চাই, আমি তোমার জন্য প্রাণভরে দোয়া করি তুমি জীবনে অনেক বড় হও। এতো সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তুমি যে এতো ভালো রেজাল্ট করেছ, আমি এক কথায় মুগ্ধ!

কথা-সাহিত্যিক ও গবেষক শামসু্দ্েদৗহা চৌধুরী বলেন, শান্ত আমরা আশাবাদী তোমার মত ছেলেকে দেখে। তোমরাই একদিন আমাদের এই সোনারগাঁ, এই বাংলাদেশকে সোনালী ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে। এমনভাবে জীবনটাকে গড় যেন তোমাকে দেখে দেখে আরও দশটা ছেলেমেয়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে সামনে এগিয়ে আসে।

অনুষ্ঠানে সুবর্ণগ্রাম আইডিয়াল স্কুল ও সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কবি শাহেদ কায়েসের পক্ষে কৃতি শিক্ষার্থী মো. আবু মুছা শান্তকে সম্মাননা ক্রেষ্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করেন শাহেদ কায়েসের মা মিসেস শামসুন্নাহার বেগম লিলি, শিল্পী রফিউর রাব্বী, টিভি নাট্য ব্যক্তিত্ব লুৎফুন্নাহার লতা ও কথা-সাহিত্যিক শামসু্দ্েদৗহা চৌধুরী।

মো. আবু মুছা শান্ত সংবর্ধনা পরবর্তী তার বক্তব্যে তার ভালোলাগা অনুভূতি ব্যক্ত করে বলে, আমি খুবই আনন্দিত যে আপনারা, আমার শ্রদ্ধেয় গুরুজনেরা আমাকে এতো সম্মানিত করলেন। আমার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছে এই সুবর্ণগ্রাম স্কুল থেকে, আমি সব সময়ই স্কুলকে মনে রাখবো। আমি আমার শিক্ষক, বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই, যেন ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারি। আমার ইচ্ছে মেডিকেলে পড়াশুনা করার এবং ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করার। শান্ত স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলে, তোমরা আমার ছোট ভাই-বোন, ভবিষ্যতে যখনই শিক্ষা-সংক্রান্ত কোন সহযোগিতা প্রয়োজন হবে তোমাদের, নির্দ্বিধায় আমার কাছে আসবে। আমি আমার সাধ্যমত তোমাদের সহযোগিতা করব।

এরপর সুবর্ণগ্রাম স্কুল-এর শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বিগত বছরে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া ১৮ জন শিক্ষার্থীদের বই উপহার দেয়া হয়।

সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা কবি শাহেদ কায়েস এবং প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক স্বর্গীয় রঘু নন্দন ঢালীকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তার সমাপনী বক্তব্য রেখে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে মো. আবু মুছা শান্ত’র জন্ম সোনারগাঁয়ের বাঘরী গ্রামে। এই গ্রামের আলো-হাওয়াতেই বেড়ে উঠেছে শান্ত। পাশের গ্রাম ললাটিতে সুবর্ণগ্রাম আইডিয়াল স্কুলের ছাত্র ছিল শান্ত, এই স্কুলটি জুনিয়র হাই স্কুল, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। শান্ত শিশু শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সুবর্ণগ্রাম স্কুলে পড়েছে। তার মা মোসাম্মৎ শামীমা আক্তার সুবর্ণগ্রাম স্কুলের একজন শিক্ষক, বাবা মো. ইসমাইল হোসেন চাকুরীজীবী।

শান্ত শিশু শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সুবর্ণগ্রাম স্কুলে পড়েছে, এরপর নবম শ্রেণী থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ-এর গিয়াসুদ্দিন মডেল স্কুলে, সেখান থেকেই এসএসসি, এবং নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছে। ২০১৩ সালে জেএসসি-তে শান্ত’র রেজাল্ট ছিল “গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ এন্ড ট্যালেন্টফুল স্কলারশিপ”, ২০১৬ সালে এসএসসি-তেও গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ (এন্ড ট্যালেন্টফুল স্কলারশিপ) এবং ২০১৮ সালে ঢাকা বোর্ডে সম্মিলিত মেধা-তালিকায় প্রথম হয়েছে।

সব খবর
শিক্ষাঙ্গন বিভাগের সর্বশেষ