সোমবার ২০ আগস্ট, ২০১৮

ডিবির এসআই মফিজুলের সাহসিকতায় রক্ষা পেলো বাবা-মেয়ে

শুক্রবার, ১০ আগস্ট ২০১৮, ১৭:০৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

সৌরভ হোসেন সিয়াম (প্রেস নারায়ণগঞ্জ): রাত তখন দেড়টা। কর্মস্থল ত্যাগ করে কুমুদিনী এলাকা হয়ে বাড়ির পথে রওয়ানা দিচ্ছিলেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম, পিপিএম। এমন সময় একটি মেয়ের আর্তনাদের শব্দ শোনেন। মেয়েটি বলছিল, ‘আমার বাবাকে বাচান’। অন্য সব সাধারণ মানুষের মতো আর্তনাদের স্বরটি উপেক্ষা করে যেতে পারতেন এসআই মফিজুল। কিন্তু বাধ সাধলো তার দায়িত্ব, বাধ সাধলো তার মানবতা। তাই নিরস্ত্র অবস্থাতেই আর্তনাদের স্বরটিকে অনুসরণ করে এগিয়ে গেলেন। গিয়ে দেখেন এক ব্যক্তি এক ছিনতাইকারীর সাথে ধস্তাধস্তি করছেন আর তার পাশেই অসুস্থ একটি মেয়ে চিৎকার করছেন। এসআই মফিজুল এগিয়ে আসাতে সাহস পেয়ে তার সাথে কয়েকজন রিকশাওয়ালাও এগিয়ে আসলেন। এগিয়ে আসা সেই রিকশাওয়ালাদের সাহায্যে আটক করলেন কুমুদিনী এলাকার কুখ্যাত ছিনতাইকারী সিআইডি মাসুমের ভাই খোকনকে। পরবর্তীতে এসআই মফিজুল কন্ট্রোলরুমে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করলে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছায়। তাদের সহযোগিতায় পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও তার মেয়েকে পার্শ্ববর্তী ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) শহরের কুমুদিনী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ডিবির এসআই মফিজুলের সাহসিকতায় রক্ষা পায় বাবা ও মেয়ে, ধৃত হয় কুখ্যাত ছিনতাইকারী।

জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যক্তি মো. আমানউল্লাহ আমান (৫৩) যিনি জাতীয় দলের একজন ফুটবলার ছিলেন। তিনি তার অসুস্থ মেয়ে ফাতেমা জান্নাত লোভা ওরফে অর্পিকে (১৮) নিয়ে হাসাপাতালের দিকে যাচ্ছিলেন। কুমুদিনী মাঠের নিকট আসার পর ছিনতাইকারী খোকন তাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। ছিনতাইকারী খোকনের সাথে মো. আমানের ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে খোকন আমানের পায়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তবে হাসপাতালে চিকিৎসার পর তিনি এখন সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।

যেকোন দুঃসময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা। পুলিশ আছে বলেই রাতে আমরা শান্তিতে চলাফেরা করতে পারি, বাড়িতে নিরাপদে ঘুমাতে পারি। তবে মুদ্রার ওপিঠও কিন্তু রয়েছে। আমরা প্রায়ই শুনি চেকপোস্টে পুলিশের হয়রানি কিংবা পুলিশের বেশ কিছু কর্মকর্তার দুর্নীতির কথা। এসব কারণে পুলিশের উপর মানুষ আবার বিরক্তও কম নয়। কতিপয় কিছু পুলিশের কারণে মানুষ সমগ্র পুলিশ সদস্যদের উপর এক প্রকার জেদ উগরে দেন। যার প্রতিফলন আমরা কয়েকদিন পূর্বে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পুলিশকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল প্ল্যাকার্ডেই দেখেছি। কিন্তু এসবের উর্ধ্বে অনেক পুলিশ সদস্য আছেন যাদের জন্য আসলেই গর্ব হয়। তাদেরই একজন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম, পিপিএম। গতকাল তিনি না থাকলে কুখ্যাত ওই ছিনতাইকারীর হাতে খুনও হতে পারতেন মো. আমানউল্লাহ আমান।

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম, পিপিএম বলেন, ‘আমার সাহসীকতার চেয়ে ওই লোকের সাহসীকতার প্রশংসা করতে হয়। ৫৩ বছর বয়সী একজন লোক এই রকম এক কুখ্যাত ছিনতাইকতারীর সাথে একা লড়ে গেছেন তাই তার প্রশংসা পাওয়া উচিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সবসময়ই চাই মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করুক। মানুষের নিরাপত্তা দিতে আমরা সবসময় সচেষ্ট। মানুষ যখন বলে আমাদের কারণে তারা নিরাপদ বোধ করে তখনই আমরা আমাদের কাজের স্বার্থকতা খুজে পাই।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ