বুধবার ২১ এপ্রিল, ২০২১

ডিজিটাল আইনে কারাবন্দী লেখকের মৃত্যুর প্রতিবাদে গণসংহতির বিক্ষোভ

শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:২০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও ডিজিটাল আইনে কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছে গণসংহতি আন্দোলন। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে দলটির নেতা-কর্মীরা।

গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার ব্যানারে এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ। জেলা শাখার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস, জেলা নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক পপি রাণী সরকার, জেলা গণসংহতি আন্দোলনের নেতা মশিউর রহমান রিচার্ড, কেন্দ্রীয় ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন, জেলার সভাপতি শুভ দেব, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস জামান, মহানগরের আহ্বায়ক ফারহানা মানিক মুনা প্রমুখ।

আবুল হাসান রুবেল বলেন, ‘লেখক মুশতাক আহমেদ কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী ছিলেন। তার অপরাধ ছিল তিনি কার্টুনিস্ট কিশোরের আঁকা কার্টুন শেয়ার করেছিলেন। জেলের ভেতরে কেউ অসুস্থ হলে রাষ্ট্র তার চিকিৎসা খরচ বহন করে থাকে। অথচ সে জায়গায় রাষ্ট্র তার চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা না রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই কর্তৃত্ববাদী সরকারের এত নাজুক অবস্থা যে, সামান্য একটা কার্টুন শেয়ারের জন্য মানুষকে মৃত্যুবরণ করতে হয়। মানুষের বাকস্বাধীনতা, জীবনের নিরাপত্তার উপর কর্তৃত্ব চালানো হচ্ছে। এই সরকার রাতের আধারে ভোট ডাকাতি করে জনগণের উপর ফ্যাসিবাদী শাসন চালাচ্ছে। লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর বিচার চাই। এই ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে কালো আইন থেকে সাংবাদিক, চিকিৎসক, ডাক্তার এমনকি কিশোর শিক্ষার্থীও রেহাই পাচ্ছে না। সরকার কোনো সমালোচনা নিতে পারছে না। বরং দেশজুড়ে ভীতি ও লুন্ঠনের রাজত্ব কায়েম করেছে।’

ফিরোজ আহমেদ বলেন, প্রায় দশমাস কারাগারে ছিলেন লেখক মুশতাক আহমেদ। তার সাথে গ্রেফতার হয়েছিলেন রাষ্ট্রচিন্তার দিদার, কার্টুনিস্ট কিশোর। বাংলাদেশের লুটেরা শাসকগোষ্ঠী যেভাবে দেশকে লুন্ঠন করছে, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করছে তার প্রতিবাদে কিশোর কার্টুন এঁকেছিলেন। একজন জনগণের টাকা চুরি করে আরেকজন জনগণের পক্ষে কথা বলে, এই ধরনের কার্টুন এঁকে গ্রেফতার হয়েছিলেন কিশোর। এই রকম তুচ্ছ কারণে লেখক, কার্টুনিস্ট, রাজনৈতিক কর্মীকে জেলে থাকতে হয়। ছয়বার তাদের জামির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। এইরকম হাস্যকর এক শাসনব্যবস্থা চলছে এই দেশে।

তরিকুল সুজন বলেন, ‘আজকের সমাবেশের বিষয় ছিল চাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতির অবসানের দাবিতে। অথচ সে জায়গায় কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুবরণে সমাবেশ করতে হচ্ছে। আমাদের নারায়ণগঞ্জ শহর গুম খুনের শহর হিসেবে বেশ পরিচিত। আমরা চঞ্চল, বুলু, ত্বকী হত্যাকান্ডের বিচার হচ্ছে না। আজকে এই মুশতাক আহমেদের হত্যাকান্ডে এটি শেষ সমাবেশ, এ রকম ভাববার কোন কারণ নেই। আমাদের সাথে অন্যান্য দলগুলো ঐক্যমত পোষণ করেছে। এই সরকার জনগণের সরকার নয় বরং এই সরকার জালিমের সরকার। আজকে এই পরিস্থিতিতে জনগণের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোন প্রয়োজন নেই। বরং সেখানে জনগণের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও ন্যায্য অধিকার আদায় প্রয়োজন। সুতরাং জনগণ যদি তার অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শামিল না হয় তাহলে এই ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়।’

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ