সোমবার ২০ আগস্ট, ২০১৮

ডিএনডিতে জনদুর্ভোগ চরমে (ভিডিওসহ)

শুক্রবার, ২৭ জুলাই ২০১৮, ১৯:৩১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: কয়েক দিনের হালকা ও বর্ষণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধের ভেতরে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, শিল্পকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। রান্না ঘরও ডুবে গেছে অনেকের। বাঁধের ভেতরের শিল্পকারখানার বিষাক্ত ক্যামিকেলযুক্ত পানি বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে আছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বৃষ্টিতে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ডিএনডি পাম্প হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিএনডির প্রধান খালে পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কোতালেরবাগ এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেনের বাড়ির ৪টি ঘরেই পানি। রান্নাঘরও তলিয়ে গেছে। ইট দিয়ে ঘরের আসবার উঁচু করলেও শেষ রক্ষা হয় নি। আমির হোসেন জানান, জলাবদ্ধতায় ঘরের অনেক মূল্যবান মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। ডাইং কারখানার বর্জ্য মিশ্রিত নোংরা পানিতে কতদিন বন্দী হয়ে থাকতে হবে কে জানে।

দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, এর আগে এই ভাড়া বাড়িতে বহুবার জলাবদ্ধতা হলেও এবার স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি পানি উঠেছে। ঘরের ভিতরেই হাঁটু পানি। বাড়িওয়ালার ঘরেও পানি। পানির কারণে ঘর ছেড়ে দিতে চাইলেও উপায় নেই। সব জায়গাতেই তো পানি। ভোগান্তি হলেও পরিবার-পরিজন নিয়ে মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে।

পূর্ব ইসদাইর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী রাজীব আহম্মেদ বলেন, ‘ আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট সারা বছরই পানিতে তলিয়ে থাকে। কিন্তু গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে রাস্তাঘাট, বাড়িঘরসহ সব স্থাপনা ডুবে গেছে। এবারের জলাবদ্ধতা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। পানিবন্দী থাকায় অফিস-আদালত ও স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার মাসদাইর, গলাচিপা ধোপাপট্টি, গাবতলী, টাগারপাড়, পূর্ব মাসদাইর, সেহাচর, লাল খাঁ, পিলকুনি, নন্দলালপুর, লামাপাড়া, রামারবাগ, সস্তাপুর, সুধন্ধা আবাসিক, চাদমারী, তল্লাসহ বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর, শিল্পকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। এছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে জেলা পরিষদ, স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়, ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনাও তলিয়ে গেছে।

সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি, পাইনাদী, নতুন মহল্লা, হীরাঝিল, দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া, পশ্চিম সানারপাড়, কদমতলী, জালকুড়িসহ বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে আছে। ভোগান্তিতে পড়েছে ওই সব এলাকার মানুষ।

জলাবদ্ধতার বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ডিএনডি পাম্প হাউজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবদুল জব্বার বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ডিএনডি পাম্প হাউসের উচ্চতা ৩ দশমিক ৪৫ মিটার। বর্তমানে পাম্প হাউস থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। আরও দুটি পাম্প লাগানো হবে। আর বৃষ্টি না হলে আগামী ৩-৪ দিনে পানি কমে যাবে।

ডিএনডি জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী আবদুল আউয়াল জানান, এ বছর ডিএনডিবাসীকে একটু কষ্ট করতে হবে। প্রকল্পের কাজ চলছে। নভেম্বরে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। আগামী বছর ডিএনডিবাসীকে আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ