রবিবার ২৯ মার্চ, ২০২০

ডাক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:০০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে বর্তমানে অনেক আলোচনার মধ্যে একটি ডাক্তারের বিরুদ্ধে রোগী ধর্ষণের অভিযোগ। রোগীকে দিনের পর দিন জনাকীর্ণ নিজ চেম্বারে ডাক্তার ধর্ষণ করেছে কীনা তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। ডাক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ অভিযোগটি সত্য নাকি ডাক্তার ব্লাকমেইলের শিকার হয়েছেন তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসার প্রত্যাশা করেছে সচেতন মহল।

তবে, এ ঘটনায় ডাক্তার আমিনুল ইসলাম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, আমি ব্লাকমেইলের শিকার। সঠিক তদন্তে প্রকৃত তথ্য সামনে এলে আমার সম্পর্কে প্রচারিত ভ্রান্ত ধারণার অবসান হবে।’

এদিকে, একটি সূত্র থেকে নিশ্চিত করেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ওই রোগী ও ডাক্তার আমিনুলের সাথে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি আপসনামা হয়। তাতে নিজেদের মধ্যকার ঘটনাকে সামান্য ত্রুটিবিচ্যুতি এবং ভুল বুঝাবুঝি ছাড়া আর কিছুই নয় উল্লেখ করে উভয়পক্ষ এই মর্মে সম্মত হয় যে, ভবিষ্যতে কেউ কারও বিরুদ্ধে কোন মামলা বা অভিযোগ করতে পারবে না।

তারপরও গত ১২ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ওই নারী নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের ডাক্তার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার আবেদন করেন। পরে শুনানী শেষে বিচারক মো. শাহীন উদ্দিন তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো ইনভিস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।

আপসনামায় ওই নারীর পিতা ও স্বামীর নাম যা আছে মামলার আবেদনে তা নেই। মামলায় পিতা ও স্বামীর নাম ভিন্ন। নামের এই অমিল থাকায় ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ আরও প্রবল হয়েছে।

মামলার আবেদনে বলা হয়, ফতুল্লার কাশীপুর এলাকার এক নারী দীর্ঘদিন ধরে থাইরোয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিল। ওই নারী তার চিকিৎসার জন্য ডা. আমিনুল ইসলামের চেম্বারে যান। প্রাথমিক পর্যায়ে ডা. আমিনুল ওই নারীকে কিছু টেস্ট ও ওষুধপত্র দেন। ওই নারী ডা. আমিনুলের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে থাকেন। চিকিৎসার একপর্যায়ে ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই সন্ধ্যায় নগরীর খানপুর জোড়া টাংকি এলাকার ইউনিক ক্লিনিকে ইনজেকশন পুশ করে ওই নারীর শরীর অবস করে ধর্ষণ করে ডা. আমিনুল। পরবর্তীতে আরও একবার ওই নারীকে ধর্ষণ করে আমিনুল। প্রথম দফায় তাকে অচেতন করে ধর্ষণের পর সেই ভিডিও ধারণ করে; সেটার ভয় দেখিয়ে পরবর্তীকে একাধিকবার চেকআপের নামে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা নিতে না চাইলে ওই নারী আদালতের শরনাপন্ন হন।

এ বিষয়ে ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কোন প্রতারক চক্রের সদস্য হিসেবে ওই নারী মিথ্যা সাজানো মামলার অভিযোগে সম্মতি দিয়েছে শুধুমাত্র আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য। শিক্ষিত সমাজের লোকদেরকে ব্লাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করাই ওই নারীর পেশা। ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে এমন ভিত্তিহীন, কল্পকাহিনী বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ করার আমি সামাজিক, আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। প্রকৃতপক্ষে এমন প্রতারক চক্র চিকিৎসককে সমাজে হেয় করে চিকিৎসক সমাজ তথা চিকিৎসা পেশাকে নীচ করছে এবং মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি অনীহা স্থাপন করছে। পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা বিনষ্ট করছে। চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে আমি রোগীদের সঙ্গে বন্ধু বৎসল আচরণসহ সরলভাবে খোলামেলা আলাপ করতে অভ্যস্ত যা একজন জটিল রোগীর চিকিৎসার জন্য মানসিক সান্ত¦না হিসেবে মেডিকেল এথিকস অনুমোদন করে। আমার এমন সরলতার সুযোগ নিয়ে উক্ত রোগী ধীরে ধীরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কল্পকাহিনী তৈরি করে আদালতে যে অভিযোগ দাখিল করেছে তা আমি মোটেই অনুমান করতে পারিনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে পড়লে আমার সম্পর্কে প্রচারিত ভ্রান্ত ধারণার অবসান হবে।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ