সোমবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮

না.গঞ্জে ভোটের হাওয়া

টার্গেট ২ লাখ ৩৪ হাজার নতুন ভোটার

বৃহস্পতিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি সংসদীয় আসনের জয় পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে তরুণ ভোটাররা। গত পাঁচ বছরে এই জেলায় নতুন ভোটার হয়েছেন প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলে কাছে টানতে চাইছেন তাদের। তবে তরুণ ভোটাররা বলছেন-যারা এলাকার উন্নয়ন করতে পারবে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বিরুদ্ধে থাকবেন ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করবে এমন প্রার্থীকেই বেছে নেবেন তারা। আর তাই প্রার্থীদের টার্গেটও থাকবে এই নতুন ভোটারদের ম্যানেজ করার।

নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, এবার পাঁচটি সংসদীয় আসনে নতুর ভোটার বেড়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৩৯ জন। ভোট কেন্দ্র বেড়েছে ৭৮টি। নতুন ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২০ হাজার ৪৫৯ জন ও নারী ১ লাখ ২২ হাজার ৪৮০ জন।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা আচরনবিধি লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলার প্রতিটি আসনে নির্বার্হী ম্যাজিস্ট্রেট প্রার্থীদের আচরণবিধি পর্যবেক্ষন করছেন।’ তিনি সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ৪০ হাজার ৭৬৭ জন। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে ৩৯ হাজার ৫৮১ জন। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে ৪১ হাজার ৬২২ জন। নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ১৭ হাজার ৮১০ জন। নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে ১ লাখ ৩ হাজার ১৫৯ জন নতুন ভোটার হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর বন্দর আসনে এবার সবচেয়ে বেশি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। আর সবচেয়ে কম নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে মহাজোটের প্রার্থী কারা তা নিশ্চিত হওয়া গেলেও এখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী কারা। শুধু নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে বিএনপির একক প্রার্থী রয়েছে। বাকি চারটি আসনেই বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন এবং মানোনয়নপত্র জমা দিয়ে কাজ করছেন।

নির্বাচনে ভোট টানতে ভোটারদের বিভিন্ন কৌশলে কাছে টানার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, বেকার ভাতা প্রদান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ নানা উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।

নগরীর চাষাঢ়া শহীদ মিনারে কথা হয় নতুন ভোটার সাবিনা ইয়াছমিন, শান্তা মারিয়ামসহ কয়েকজনে সঙ্গে। তারা জানান, যে প্রার্থীর মাধ্যমে নারীর সামজিক সুরক্ষা সৃষ্টি হবে, ইভটিজিং, সংহিসতা বন্ধ হবে এমন প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, ‘এই নির্বাচন তরুণ প্রজম্মের ভবিষ্যত। আমি কী করবো বা তারা কী করবে সেই দিকে তাকিয়ে থেকে লাভ নেই। তরুণ প্রজন্মকেই চিন্তা করতে হবে দেশ কোন পথে যাচ্ছে। তারাই বুঝতে পারবে অর্থনীতি কী? তরুন প্রজন্ম যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তবে দেশ পিছিয়ে যাবে।’

তরুণ প্রজন্মকে ভেবে চিন্তে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস তরুণ প্রজন্ম উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনাকে বেছে নেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। মানুষ বলে অনেক উন্নয়ন কাজ হয়েছে কিন্তু আমি সন্তুষ্ট নই। কারণ এখনও অনেক কাজ বাকি আছে।

এসময় শামীম ওসমান বলেন, ‘সারা দেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যাতে করে দেশের তরুণ প্রজন্ম নারায়ণগঞ্জকে বেছে নেয়। আমি আশা করি, তরুণ প্রজন্ম সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী মামুন মাহমুদ বলেন, ‘এই সরকারের ব্যাংক লুট, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে বিদেশি বিনোয়োগ না হওয়ায় তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বেকার। নুতন কোনও বিনিয়োগ হয়নি। আমাদের দলের নির্বাচনি ইশতেহারে তরুণ প্রজন্মের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব থাকবে। বেকার ভাতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ নানা উন্নয়ন ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার তরুণ প্রজন্মসহ সবার বাক স্বাধীনতা হরণ করে নিয়েছে। এই নির্বাচন হচ্ছে একটি আন্দোলন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বাক স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার জন্য তরুণ প্রজন্ম জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসাবে।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ