শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

জেলা কমিটি, যত ক্ষোভ তৃণমূলে

সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৭, ২১:০৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সাড়ে তের মাস পর জেলা আওয়ামীলীগের ঘোষিত কমিটি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষন চলছে তৃণমূলে। কমিটি ঘোষনার পর যতটা উচ্ছাস-উদ্দীপনা দেখা যাওয়ার কথা তার কিছুই হয়নি। বরং কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেককে নিয়েই ক্ষোভ রয়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। মজার বিষয় হলো কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেকেই অনেককে চিনেন না। অপরদিকে ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটিতে স্থান পেয়েছেন এমন ১০জন একই সঙ্গে মহানগর কমিটিতেও আছেন। এক ব্যক্তি দুটি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ায় অনেকেই কমিটিতে স্থান পাননি। এছাড়া জেলা কমিটিতে এমন অনেকে স্থান পেয়েছেন যাদের চেয়ে যারা স্থান পাননি তাদের যোগ্যতা বেশি। আবার এমন কিছু সদস্য জেলা কমিটিতে স্থান পেয়েছে যা দেখে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হতবাক। ব্যক্তির জয়গান করা ছাড়া তাদের নিজস্ব কোন সাংগঠনিক তৎপরতা ছিল না কখনোই। আবার অনেকে ‘ওয়ানম্যান শো’ নেতা হিসেবেও পরিচিত। নিজ উদ্যোগে ৫০ জন কর্মী নিয়ে একটি মিছিল করারও ক্ষমতা নাই তাদের। তারাও জেলা কমিটিতে স্থান পেয়েছে। একদিকে টাকা আর লবিং অন্যদিকে স্থানীয় শীর্ষ নেতানেত্রীর তোষামদ, এখানে মুখ্য ভুমিকা পালন করেছে। জেলা আওয়ামীলীগের নব নির্বাচিত কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য সম্পর্কে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগযোগ করে এমন তথ্যই দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তো আর কথা বলা যাবে না। কারণ দলের হাইকমান্ডের কিছু করার নেই। যারা নিজেদের পকেটভারী আর নিজের বলয় সৃষ্টি করার জন্যর খসড়া কমিটিতে যাকে তাকে ঢুকিয়ে দিয়েছে তারাই এ জন্য দায়ী। এদের কারণে প্রকৃত নেতাকর্মীরা দলের ভেতর জায়গা পায় না। সদস্য পদে এমন একজন স্থান পেয়েছেন যিনি সেভেন মার্ডারের মুল হোতা ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী নুর হোসেনের সঙ্গে থেকে চিটাগাং রোডের ফুটপাত থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলেছেন। আবার কখনো দলের কোন পদে না থেকেও জেলা কমিটিতে স্থান পেয়েছেন কেউ। এছাড়া নেতার বন্ধনা করা ছাড়া যাদের কোন কাজ নেই, তারাও কমিটিতে পদ পেয়েছেন। ফতুল্লা নয়ামাটি এলাকার ত্রাস নিহত শফিকুর রহমান মেছের এর বড় ভাই আরেক ত্রাস মোহাম্মদ সিকদার গোলাম রসুল। সেও জেলা কমিটিতে ১০ নং সহ-সভাপতির পদ পেয়েছে। এ নিয়ে ওই অঞ্চলে ক্ষোভ রয়েছে।

যদিও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আশা প্রকাশ করেছেন যে, ঘোষিত জেলা কমিটির নব নির্বাচিত সকল সদস্য নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হবেন এবং সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগকে আরো সুদৃঢ়, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। এখন দেখার বিষয় এই কমিটি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কতটা পথ পাড়ি দিতে পারে। কারণ নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক ইতিহাসের সমীকরন অনেক জটিল। সব সময় দুই ধারায় বিভক্ত থেকেছে এখানকার আওয়ামীলীগ। যা এখনো অব্যাহত।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ