সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

জেলা আ’লীগের শূন্য ৬ পদ ভাগাভাগি, অতপর...

সোমবার, ৬ আগস্ট ২০১৮, ২২:০২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: মুখ থুবড়ে পড়েছে জেলা আওয়ামীলীগের চেইন অব কমান্ড। শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ, আভ্যন্তরি কোন্দল, রেষারেষি, লবিং, গ্রপিং, টাকায় আর তববিয়ে পদ মিলে এসব কিছুর চিত্রই ফুটে উঠেছে ৩১ জুলাই বিকালে জেলা আওয়ামীলীগের মূলতবি হওয়া সভায়। তাছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে, শূন্য ৬ পদে জেলা আলীগের সভাপতি, সিনির সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের নিজস্ব লোক ঢুকানোর মিশনে ছিল। এবং নিজেরাই পদগুলো ভাগাভাগি করে নেয়। এই বিষয়টি সভা শুরু হওয়ার আগেই অনেকটা ফাঁস হয়ে যায়। ফলে ২৯ জুলাইয়ের সভায় নাম প্রস্তাবের সাথে সাথেই হট্টোগোল শুরু হয়। তার প্রমান পাওয়া যায়, আনিসুর রহমান দিপুকে সদস্য করার প্রস্তাব করা হলে কেউ আপত্তি করেনি। আপত্তি বাঁধে আইভী, আব্দুল হাই ও বাদলের সদস্যদের নিয়ে। কারণ সহ-সভাপতি খাজা রহমত উল্লাহ মারা যাওয়ার পর ওই পদে আইভীর সিলেকটেড একজন অর্ন্তভুক্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ খাজা রহমত উল্লাহ আইভীর কোটায় কমিটিতে স্থান পেয়েছিলেন। ফলে বাকী থাকে ৫টি পদ। সেখানে আইভীর পক্ষে দুইজন (জসিম ও কাজল), আব্দুল হাইয়ের পক্ষে দুইজন (কাদির ও জিকে শামীম) ও বাদলের পক্ষে দুইজনের (শরফুদ্দিন ও জাহেদ আলী) নাম প্রস্তাব করা হয়। মানে তারা তিনজনই আগ থেকে পদ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন।

এদিকে সভায় সামছুল ইসলাম ভুইয়া হাইয়ের প্রস্তাবিত জিকে শামীমকে নিয়ে আপত্তি করলেও বাদল ও আইভীর সদস্যদের নিয়ে আপত্তি করেননি। তেমনিভাবে গাজী গোলাম দস্তগীর হাইয়ের উপর চড়াও হলেও আইভী ও বাদলের সঙ্গে বিরোধ করেননি। তাহলে কি দাঁড়ালো, হাইয়ের একজন ছুটে যাবে। তাহলে টিকে যাবে আইভীর ২, হাইয়ের এক ও বাদলের এক। এমন অংক চিন্তা করেই তারা তিন শীর্ষ নেতানেত্রী একাধিকজনের নাম প্রস্তাব করিয়েছেন।

অন্যদিকে হৈ চৈয়ের মধ্যে আইভীর একজন ছুটে গেলে সেখানে হয়তো গাজী গোলাম দস্তগীর তাার পক্ষে একজনকে ঢুকানোর মিশনে ছিলেন। কিন্তু তিন নেতানেত্রীর প্রস্তাবিত নাম নিয়ে হট্টোগোল বেঁধে যাওয়ায় অন্যরা আর নিজেদের নাম প্রস্তাব করার সুযোগ পাননি। এক পর্যায়ে সভা মূলতবি হলেও বিরোধের রেষ থেকে যায়।

যার রেষ এই ৩১ জুলাইয়ের সভাতেও ছিল। ফলে জেলা আওয়ামীলীগ শূন্য ৬ পদ পুরণে ঐক্যমত্যে পৌছাতে পারলেন না। আগামী সেপ্টেম্বরের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে শূণ্য পদ পুরনের সময় সীমা। হয়তো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই পদগুলো শূন্যই থেকে যেতে পারে। কারণ পদ পূরণ নিয়ে নতুন করে বিভেদ সৃষ্টি হলে তা নির্বাচনের উপর প্রভাব ফেলবে। তাছাড়া কেন্দ্র থেকেও নির্দেশনা রয়েছে নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন প্রকার দলীয় বিভেদ বাড়ানো যাবে না।

এদিকে সর্বসম্মতিক্রমে শূন্যপদ পুরনের জন্য জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো: বাদলের উপর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারাই সিদ্ধান্ত নিবেন এই পদগুলোতে কারা আসবেন। পরে আসন্ন ১৫ আগস্ট ঘটা করে উদযাপনের উপর জোর দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। সভা শেষে আব্দুল হাই গনমাধ্যমকে জানান, আমরা আগামী সেপ্টেম্বরের দিকে শূন্যপদ পুরনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো। মাঝে আগষ্ট মাস। সভায় মূলত এ মাসের কর্মসূচীকে সফল করার ব্যাপারেই বেশি আলোচনা হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আগষ্টের ১ তারিখ থেকে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত জেলার প্রত্যেকটি থানায় আমরা জেলা কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারি, সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ অংশগ্রহণ করবো। এছাড়া প্রয়োজন অনুসারে অন্যান্য নেতারাও অংশগ্রহণ করবে। আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায়ও আমরা জেলা কমিটির নেতারা অংশগ্রহণ করবো তবে সেটি অনেক পরের বিষয়।

গত রোববার (২৯ জলাই) শহরের ২নং রেলগেটস্থ আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে জেলা কমিটির দ্বিতীয় কার্যকরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এক পর্যায়ে শূণ্য ৬টি পদ পুরণ নিয়ে হৈ চৈ হট্টোগোলের মধ্যে সভা ৩১ জুলাই বিকাল ৪টা পর্যন্ত মূলতবি করা হয়। এরপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে মূলতবি সভা শুরু। তবে আগের মিটিংয়ের চেয়ে মঙ্গলবারের মিটিংয়ে কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি ছিল বেশি। এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছিল। নিরাপত্তা রক্ষায় জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয় প্রাঙ্গণে ফোর্স নিয়ে উপস্থিত ছিলেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু, সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, আরজু রহমান ভূঁইয়া, আব্দুল কাদির, য্গ্মু সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ইকবাল পারভেজ, ডা.আবু জাফর চৌধুরী বীরু, সাংগঠনিক সম্পাদক সুন্দর আলী, মীর সোহেল আলী, একেএম আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আব্দুল হাইকে সভাপতি, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ-সভাপতি ও আবু হাসনাত বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩ সদস্যের জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়। কিন্তু কমিটির ৭নং সহ-সভাপতির পদ, ১৮ নং পদ কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক, ২৫ নং পদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, এবং ৩৫ ও ৩৬ নং সদন্য পদ খালি রাখা হয়। এরমধ্যে ১২নং পদে থাকা সহ-সভাপতি খাজা রহমত উল্লার মৃত্যুর পর ওই পদটিও খালি হয়। এ নিয়ে শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ এ।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ