বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯

জীবনের ঝুঁকি কিংবা ভোগান্তি তবু বাড়ি ফেরা চাই

শনিবার, ১০ আগস্ট ২০১৯, ২২:৪৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: জীবিকার তাগিদে প্রতি বছর শহরে আসে শত শত মানুষ। জীবিকা ও উন্নত জীবনের পিছনে ছুটতে থাকা এইসব মানুষ সারা বছর নিজ গ্রামের প্রিয়জনের কাছে যেতে না পারলেও বিভিন্ন উৎসবে শতকষ্টেও ফিরে যান নাড়ির টানে। তেমনি ঈদ-উল-আযহায় টানা ছুটিতে প্রিয়জনের কাছে যাবার সুযোগ ছাড়ছেন না কেউ। ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাকেও পাত্তা দিচ্ছেন না, যাত্রাপথের সকল ভোগান্তি উপেক্ষা করে রওয়ানা হয়েছেন নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে।

শনিবার (১০ আগস্ট) নগরীর বাস, লঞ্চ টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টশন সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি স্থানেই ঘরে ফেরা মানুষের ভিড়। সকলের চোখে মুখে বাড়ি ফেরার অপেক্ষা। ভিড় ঠেলে, ব্যাগ হাতে পরিবার নিয়ে দাঁড়িয়ে পরিবহনের অপেক্ষায়। অনেক অপেক্ষার পর সিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বাড়ি ফিরতে দেখা যায় তাদের। ভোগান্তি ও ঝুঁকির সঙ্গে আরেক মাত্রা যোগ করেছে অতিরিক্ত ভাড়া। স্বাভাবিকের তুলনায় নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ, তিনগুন ভাড়া। তবে কিছুই দমাতে পারছে না তাদের। ছুটছেন নিজ পথে।

বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ও চাষাঢ়া রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ঘরমুখী মানুষের ভিড়। সিট না পেয়ে ট্রেনের ছাদেও যাত্রা করছেন তারা। রংপুর নিজ বাড়ি যাচ্ছেন যাত্রী মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, প্রতি বছরই বাড়ি ফেরার সময় তাদের পড়তে হয় পরিবহন সংকটে। এ বছর সে সমস্যাটা একটু বেশিই হচ্ছে। দু’দিন চেষ্টা করার পর পেয়েছেন বাস টিকেট।’

দু’বছর পর নিজ গ্রাম কুড়িগ্রামে যাচ্ছেন মো. আসলাম। তিনি বলেন, ‘গত দু’বছর বাবা মার সাথে দেখা হয় না। ঈদ ছাড়া ছুটি পাই না। তবে গত দুই বছর যাওয়া হয়নি। বাবা-মা এখনো জানে না আমি বাড়ি যাচ্ছি। গিয়ে তাদের চমকে দেবো।’

নৌ-পথে চাঁদপুর যাচ্ছেন হামিদা আক্তার। পড়াশোনার জন্য গত ৩ বছর যাবৎ নারায়ণগঞ্জে বসবাস করে আসছে সে। হামিদা বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বিপনী বিতানে চাকরি করি। ঈদে সব সময় ছুটি হয় না। পরিবারের সঙ্গে শেষ ঈদ উদযাপন ৩ বছর আগে কাটিয়েছিলাম। অনেক কষ্টে এ বছর ছুটি নিয়েছি। এখন যাচ্ছি, খুব ভালো লাগছে। তবে ভাড়াটা অনেক বেশি। ঈদের আগে ভাড়া এতবেশি হবে কল্পনা করতে পারিনি।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ