শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

জিকে শামীম ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জে আ’লীগের রাজনীতিতে তোলপাড়

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: রাজধানীর প্রভাবশালী ঠিকাদার নারায়ণগঞ্জের জিকে শামীম বিপুল পরিমাণ টাকা ও এফডিআরসহ আটক হয়ে যতটা না আলোচিত হয়েছেন তার থেকে বেশি আলোচনা চলছে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে। আলোচনার ঢেউ এসে পড়েছে নারায়ণগঞ্জেও। তাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে রীতিমতো তোলপাড় চলছে।

জানা যায়, জিকে শামীম সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম। আফসার উদ্দিন মাস্টার ছিলেন হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিন ছেলের মধ্যে জিকে শামীম মেজো। বড় ছেলে গোলাম হাবিব নাসিম ঢাকায় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেন। এক সময় বিএনপির ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদক ছিলেন। পরে দল বদলে যোগ দেন যুবলীগে। শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বলে পরিচিত ছিলেন তিনি।

সর্বত্র নিজেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা পরিচয় দিলেও র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর জিকে শামীমকে যুবলীগের নেতা বলে অস্বীকার করেন দলটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। একই সাথে ওমর ফারুক মন্তব্য করেন, জিকে শামীম নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। এদিকে যুবলীগের চেয়ারম্যানের এমন তথ্যের বিরোধীতা করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই জানান, জিকে শামীম জেলা আওয়ামী লীগের কেউ নন।

সভাপতি অস্বীকার করলেও জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির এক সভায় শূণ্য থাকা সহ সভাপতির পদটিতে জিকে শামীমের নাম প্রস্তাব করেছিলেন সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। এ নিয়ে ওই সভায় হই হট্টগোলের মতো ঘটনাও ঘটে। পরে কমিটির নেতৃবৃন্দের তোপের মুখে প্রস্তাবনাটি আর সিদ্ধান্তে রূপ নিতে পারেনি। যদিও জিকে শামীমের নামের প্রস্তাবনার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে জিকে শামীমের সাথে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যায়। ইতিমধ্যে সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে জিকে শামীমের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। ওই ছবিতে দেখা যায়, সাংসদ শামীম ওসমান ও জিকে শামীমসহ কয়েকজন জিকে শামীমের অফিসে বসে খাওয়া-দাওয়া করছেন।

জিকে শামীমের আরও একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। ওই ছবিতে জিকে শামীমকে দেখা যায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত বাদলের সাথে। ওই ছবিতে দেখা যায়, সেক্রেটারি বাদল অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার সাথে দেখা করতে যান জিকে শামীম এবং আব্দুল হাই।

এখানেই শেষ নয় জিকে শামীমের সাথে নারায়ণগঞ্জের একাধিক ঠিকাদারেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকা মিডিয়াতে আছে। সেখানে কোথাও জিকে শামীমের নাম নেই।’

জেলা আওয়ামী লীগের শূণ্য থাকা একটি পদে জিকে শামীমের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল বলে শোনা যাচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তার নাম প্রস্তাব করা হলে তো কেন্দ্র থেকে এতোদিনে এপ্রুভাল চলেই আসতো। নাম প্রস্তাবের দায়িত্ব আমার, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, সেক্রেটারি আবু হাসনাত শহীদ বাদলের। আমরা কেউই তার নাম প্রস্তাব করিনি। সুতরাং সে জেলা আওয়ামী লীগের কেউ না।’

এদিকে গণমাধ্যমে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘জিকে শামীম যুবলীগের কেউ নন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।’

জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সূত্রে জানা যায়, গত বছর ২৯ জুলাই জিকে শামীমকে সহ-সভাপতি করার প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। তখন এর বিরোধীতা করেছিলেন দলটির সদস্য অ্যাডভোকেট শাসমসুল ইসলাম ভূইয়াসহ বেশ কয়েকজন। এ নিয়ে ওই সভায় বাকবিতন্ডা ও হইচইও হয়েছিলো।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা জিকে শামীমকে চিনি না। চিনতামও না। সেদিন আমাদের সেক্রেটারি জিকে শামীমের নাম প্রস্তাব করেন। তার সাথে সভাপতিরও মত ছিলো। কিন্তু না চেনার কারণে এ নিয়ে আমি, শাসমুল ইসলাম ভূইয়া, বাচ্চু ভাই, মেয়রসহ আরও অনেকেই জোরালো প্রতিবাদ করেছিলাম।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের ৮টি পদ পূরণের লক্ষ্যে সভায় সদস্য হিসেবে জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান দিপুর নাম সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ