বৃহস্পতিবার ২২ এপ্রিল, ২০২১

জামালের সাজায় কামালের কারাভোগ

বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১, ১২:৪০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: জামাল হোসেন নামে দন্ডপ্রাপ্ত এক অপরাধীর জায়গায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে কামাল হোসেন নামে অপর এক ব্যক্তিকে। আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানায় জামাল নাম ঘষামাজা করে কামাল লিখে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আনা হলে পুলিশকে ঘটনা তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে আদালতের আদেশের দুই দিন পরও নির্দেশের কোনো কাগজ পাননি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার।

বুধবার (৩ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কামাল হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তিনি সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর কুমিল্লার একটি আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কুমিল্লার দাউদকান্দির মো. আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন ও নারায়ণগঞ্জের চর সৈয়দপুরের সুরুজ মিয়ার ছেলে জামাল হোসেন নামের দুই ব্যক্তির দুই বছর করে সশ্রম কারাদন্ড এবং ২ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। রায় ঘোষণার সময় দন্ডিত জামাল হোসেন পলাতক ছিল। তাকে গ্রেফতারের জন্য কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো হয়।

কামাল হোসেনের বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় পাঠানো গ্রেফতারি পরোয়ানায় ‘জামাল’ এর নাম ঘষামাজা করে ‘কামাল’ লিখে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হলে আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট যাচাই করে দেখতে পান গ্রেফতার আসামি কামাল হোসেন। অথচ মাদক আইনে সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম ব্যক্তির নাম জামাল হোসেন। তবে জামাল হোসেন ও কামাল হোসেন উভয়ের বাবার নামই সুরুজ মিয়া। আদালত মামলা ও রায়ের নথিপত্র ও কামাল হোসেনের পাসপোর্ট যাচাই করেন। সেখানে দেখা যায়, কুমিল্লার ওই মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত কামাল হোসেন নন। তাছাড়া ২০০৯ সালের ২১ এপ্রিল যখন কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার অরণ্যপুর এলাকা থেকে ৯৫০ কেজি ভারতীয় গাঁজাসহ আলমগীরকে গ্রেফতার করা হয়, ওই সময় কামাল হোসেন দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবাসী ছিলেন।

এদিকে সদর থানা পুলিশ কামাল হোসেনকে গ্রেফতারের পর তাকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুল মোহসীনের আদালতে সোপর্দ করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের কপিতে উল্লেখ রয়েছে, রাষ্ট্র বনাম জামাল হোসেন গং। কিন্তু একই আদেশের নিচের অংশে আসামি হিসেবে কামাল হোসেনের নাম লেখা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে কুমিল্লার যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক তাকে জামিন প্রদান করেন। তবে এই ঘটনার মধ্যে ৯ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে কামাল হোসেনকে।

আদালত কামালের জামিনের আদেশে বলেছেন, কামাল হোসেন নামের কোনো আসামি এই মামলায় নেই। কিন্তু জামাল হোসেনের নাম ঘষামাজা করে কামাল হোসেন করা হয়েছে। তাই গ্রেফতার কামাল হোসেনকে এই মামলার দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। কেন জামাল হোসেনকে গ্রেফতার না করে কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগী কামাল হোসেনের অভিযোগ, আসন্ন গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি মেম্বার পদপ্রার্থী। এই কারণে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান মেম্বার রফিকুল ইসলাম সদর থানার ওসি শাহ্ জামানকে ম্যানেজ করে তাকে গ্রেফতার করিয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। ওসি শাহ জামানকে সহযোগিতা করেছেন পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান, এসআই ওয়ালী উল্লাহ ও মনিরুল।

অভিযোগ সম্পর্ক জানতে চাইলে গোগনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা বা প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ জামান সংবাদকে বলেন, এমনটা ঠিক কী কারণে হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, এ বিষয়ে এখনও তিনি আদালতের কোনো চিঠি বা আদেশ পাননি। চিঠি পেলে তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ