সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯

জলাবদ্ধতা: কোনটা পুকুর আর কোনটা রাস্তা বুঝা মুশকিল

বুধবার, ২৫ জুলাই ২০১৮, ১৯:১৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ‘কোনটা পুকুর আর কোনটা রাস্তা তা বোঝা যায় না। সকালে আমার পোলাডা (ছেলে) স্কুলে যাইতে লইয়া পুকুরে পইরা গেসে। ভাগ্য ভালো যে সাঁতার জানে। কবের থেইকা সুনতাছি রাস্তা ঠিক করবো কিন্তু এই রাস্তা আর ঠিক হয় না।’ জালকুড়ি মাঝপাড়ার ঈদগাঁহ রোড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এমন কথা বলেছেন রাসিদা বেগম। দীর্ঘদিন ধরে জালকুড়ি মাঝপাড়ার ঈদগাঁহ রোড নিয়ে নানা ক্ষোভ এলাকাবাসীর।

বুধবার সকালে (২৫ জুলাই) সরেজমিনে মাঝপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, মাঝপাড়া ট্রান্সমিটার থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশা। রাস্তার পাশে ৩টি বড় বড় পুকুর রয়েছে। যার ফলে বৃষ্টি হলেই পুকুর আর রাস্তা সমান হয়ে যায়। বোঝা যায় না রাস্তা আর পুকুরের সীমানা টা কোথায়? রাস্তার পাশে ড্রেনের বেশ কিছু গর্ত রয়েছে যা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রায়ই দেখা যায় কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে। কখনো রিকশার চাঁকা বা কখনো মানুষের পা ড্রেনে আটকে নানা বিপাকে পড়তে হচ্ছে। পাঁকা এবং চওড়া রাস্তা হলেও তার ভঙ্গুর দশা। চওড়া রাস্তা হলেও ভাঙ্গার কারণে রিকশা চলাচল করতে হয় অনেক সাবধানে। বৃষ্টি হলে এই রাস্তায় রিকশা ভাড়া বাড়িয়ে দেয় রিকশাচালকরা এমন অভিযোগও রয়েছে এলাকাবাসীর।

আয়শা নামে এক কলেজ ছাত্রী বলেন, ‘প্রতিদিন ভাড়া দেই ১৫ টাকা আর একটু বৃষ্টি হইলেই ভাড়া হয়ে যায় ২০ থেকে ২৫ টাকা। দুই এক টাকা কম হইলেও আসতে চায় না।’

এর প্রেক্ষিতে সুমন নামের এক রিকশাচালক বলেন, ‘শুকনার (শুষ্ক মৌসুমে) দিনে গর্ত গুলা দেখা যায়, তো ভালোভাবে রাস্তা পাড় করা যায়। কিন্তু বৃষ্টির দিনে অনেক সাবধানে গাড়ি চালাইতে হয়। তাই কষ্টও বেশি হয়। তখন একটু বেশি টাকা না নিলে কি হয়?

ফাতেমা বেগম নামের এক গৃহিণী বলেন, ‘সেই তিন, চার বছর ধইরা আমার স্বামী কয় রাস্তা বলে চওড়া করবো, তো একে বারেই রাস্তা ঠিক করবো। কিন্তু সেই কবে থেকে দেখতাছি রাস্তা মাপে অথচ এখন পর্যন্ত কাজই শুরু হয় নাই।’

এলাকাবাসী আরো জানান, রাস্তা চওড়া হবে বলে রাস্তার পাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙতে হবে। এবং প্রায় ৩-৪ মাস আগে রাস্তা মেপে কোন বাড়ি কতটুকু ভাঙতে হবে তা বাড়ির দেয়ালে লিখে দেয়া হয়েছে অথচ ভাঙ্গার কাজও এখনো শুরু হয় নি।

এই প্রসঙ্গে ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইসরাফিল প্রধানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায় নি।

পরবর্তীতে ওয়ার্ড সচিব মো. রনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সিকদার বাড়ির পুল থেকে ঈদগাঁহ রোড পর্যন্ত আশেপাশের রাস্তার কাজগুলো একই কন্ট্রাকটারকে দেয়া হয়েছে। সিকদার বাড়ির পুলে ড্রেনের কাজটা আপাতত হচ্ছে। সিকদার বাড়ির পুলে ড্রেনের কাজটা পুরোপুরি শেষ হলে ঈদগাঁহ রোডের কাজটাও শুরু হবে। আর ২ মাসের মধ্যে ঈদঁগাহ রোডের কাজটাও শেষ হবে বলে আশা করছি। তবে বৃষ্টির জন্য কাজটা একটু দেরি হয়ে আছে।’

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ