বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

জমি নিয়ে বিরোধ: মারধরের শিকার শ্রমিক লীগ নেত্রী

শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৪০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

সিমু ও তার ভাই

সিমু ও তার ভাই

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জেলা শ্রমিকলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নেত্রী হাসিনা রহমান সিমু ও তার পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় তার মা বন্দর থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছেন।

তবে ওই জমির ওয়ারিশ সূত্রে মালিক দাবি করে মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি নাজমুল হক রানা জানান, ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি দখল করতে আসে হাসিনা রহমান সিমু ও তার পরিবারের লোকজন। এসে জমিতে থাকা তাদের সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলে এবং সিমুদের সাইনবোর্ড লাগায়। সে সময় বন্দর ভূমি অফিসের কানুনগোর সামনেই এসব ঘটে। সেখানে মারধরের মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। হাসিনা রহমান সিমুর মা ফেরদৌসী রহমান শেলী তার দুসম্পর্কের ভাগ্নি হয় বলেও জানান রানা।

এদিকে মারধরের ঘটনা তার উপস্থিতিতে ঘটেনি জানিয়ে বন্দর ভূমি অফিসের কানুনগো মো. মামুন হোসেন বলেন, এসিল্যান্ড স্যারের নির্দেশে জমির অবস্থা জানতে সেখানে গিয়েছিলাম। ওই জমি একজনের নামজারী হলেও দাবি করছে অন্যপক্ষ। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। তবে সেখানে আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় কোন মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে মারধরের অভিযোগে করা মামলার বাদী শ্রমিকলীগ নেত্রী হাসিনা রহমান সিমুর মা ফেরদৌসী রহমান শেলী জানান, বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বন্দর বাগবাড়ি এলাকায় আমাদের সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে নারায়নগঞ্জ মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি রানা জোর করে দখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার আমাদের দেয়া সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলে দিয়ে আমাদের জমির উপর সাইনবোর্ড লাগাতে গেলে আমরা বাঁধা দেই। এ সময় রানা, রাজিব, মোস্তাক, মাইচ্ছাপাড়ার রানাসহ ভাড়াটিয়া গুন্ডারা আমাদের উপর হামলা করে। রানার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে আমার ছেলে মতিউর রহমান শান্তকে কপালে ও শরিরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে এবং রাজিবের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমার আরেক ছেলে মশিউর রহমান শুভকে আহত করে। মোছতাক ও মাইচ্ছাপাড়ার রানার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আমার মেয়ে হাসিনা রহমান শিমু ও মাজরিয়া মেহেজাবিনকে এলোপাথারি ভাবে পিটিয়ে আহত করে।

এদিকে এ বিষয়ে মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি নাজমুল হক রানা বলেন, ওই জমি আমার দাদার ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি। ওই জমির মালিকানা দাবি করতেছে সিমুর মা। পুরোটাই জবরদখলের পায়তারা তাদের। মারধরের কোন ঘটনাই ঘটেনি অথচ মামলা করে দিছে। বন্দরের সবাই সিমু ও তার পরিবার সম্পর্কে জানে। সিমুর বিভিন্ন জায়গায় লিংক আছে, তারই জোরে এই জমি দখল করতে চাচ্ছে তারা।

রানা বলেন, ১৯৪৯ সালে ক্রয় করার পর তার দাদার আমল থেকে ১৬ শতাংশ পরিমাণ ওই জমি ভোগ করছি। কিন্তু ৫ বছর আগে ওই জমির দাগে সিমুদের অংশ আছে বলে দাবি করে। তখন থেকেই তাদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ। কিন্তু জমির সকল কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। এমনকি জমির রেকর্ডও আমাদের নামে। আমি গত দুই মাস আগে মিটিশনের জন্য ভূমি অফিসে আবেদন করলে সিমুরা অবজেকশন দেয় যে, ওই জমি তাদের।

তিনি আরও বলেন, এমনিতেই বিএনপি করি তা নিয়ে অনেক ঝামেলায় আছি। তার উপরে আমাদের জমি দখলের জন্য আমাদের উপরেই মামলা করছে। আমি এই মামলার জামিন নিয়ে আপনাদের সবার সাথে কথা বলবো। প্রেস ক্লাবে কনফারেন্সও করবো আমি। সিমু ও তার পরিবারের তাদের প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জমি দখল করতে চাচ্ছে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ