বুধবার ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

ছোট ভাই শামীম ওসমানের কাছে হারলেন সেলিম ওসমান!

শনিবার, ২২ জুন ২০১৯, ২১:৫৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: দীর্ঘ সাতবছর পর অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের সুতা ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে এম সোলায়মান ও লিটন সাহা নেতৃত্বাধীন দুই প্যানেল অংশগ্রহণ করে। সাবেক সভাপতি এম সোলায়মানের প্যানেলকে সমর্থন দেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান। অন্যদিকে লিটন সাহার প্যানেলকে সমর্থন দেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। নির্বাচনের ফলাফলে ছোট ভাই শামীম ওসমানের কাছে হেরে গেলেন সেলিম ওসমান। লিটন সাহা নেতৃত্বাধীন প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ী হয়েছে।

বিগত সময়ে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব নির্বাচন, বিএমএ নির্বাচন কিংবা যেকোন ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে ওসমান পরিবারের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। ওসমান পরিবারের পক্ষ থেকে যে প্যানেল কিংবা ব্যক্তিকে সমর্থন দেওয়া হয় নির্বাচনী ফলাফল তাদের অনুকূলে যাওয়ার অনেক ইতিহাস রয়েছে। তবে ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের নির্বাচনে ওসমান পরিবারের দুই সাংসদ সমর্থন দেন বিপরীত দুই প্যানেলকে।

শনিবার (২২ জুন) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শহরের নিতাইগঞ্জে অবস্থিত ইয়ার্ন মার্চেন্ট কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এ নির্বাচন। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সম্পূর্ন বিষয় তদারকি করেন ব্যবসায়ী নেতা ও সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান। নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত কার্যালয়ে অবস্থান করেন তিনি। তার পূর্ণ সমর্থন ও আত্মবিশ্বাস ছিল এম সোলায়মানের প্যানেলের উপর।

গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাতে গ্রান্ড হল রেস্টুরেন্টে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এম সোলায়মান নেতৃত্বাধীন ‘সম্মিলিত সুতা-রং ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরাম’ প্যানেলের সকল প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে ‘বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্টস এসোসিয়েশন’কে বাঁচানোর জন্য আহ্বান জানান সেলিম ওসমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সাথে আছি। পায়ে ধরা লোককে ভোট দেবেন না। যোগ্য লোককে ভোট দেবেন। আমি কানে কানে আপনাদের বলতে পারতাম, সোলেমান ভাইকে ভোট দেন। আমি জীবনে প্রথম এসেছি ইয়ার্ন মার্চেন্টস এ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে ভোট চাইতে। পাপ ও প্রেম কখনো চাপা থাকে না! ধোঁয়া হয়ে বের হয়ে যাবে।’

এদিকে নির্বাচনের দিন দুপুরে নির্বাচন পরিদর্শনে আসেন সাংসদ শামীম ওসমান। নির্বাচনী প্রার্থী ও ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষন করেন শামীম ওসমান। নির্বাচনী পরিবেশ তদারকি করতে পরিদর্শনে যান জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদও।

পুরো নির্বাচনী আমেজ ছিল সোলায়মান প্যানেলের পক্ষে। কিন্তু শেষ সময়ে ফলাফলে চমক দেখিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নেয় লিটন সাহা প্যানেল। সাধারণ গ্রুপের বারো জনের মধ্যে বিজয়ী এগারোজনই লিটন সাহা প্যানেলের। কেবল একজন বিজয়ী হয়েছেন সোলায়মান প্যানেল থেকে। তবে এসোসিয়েট গ্রুপের ছয়জনই নির্বাচিত হয়েছে সোলায়মান প্যানেল থেকে।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ