মঙ্গলবার ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯

ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেও ছাড় পেলেন শিক্ষক!

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ২২:১১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগের পর সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন বন্দরের নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক আল-আমিন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এসে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান। স্কুলটি সাংসদের মা ভাষা সৈনিক নাগিনা জোহার নামে নির্মিত।

এদিকে যৌন হয়রানির অভিযোগের পরও তার বিরুদ্ধে কেন আইনগত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হলো না এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্কুলটির অভিভাবক মহল ও শিক্ষার্থীরা। সাময়িক বরখাস্ত করে তাকে আরো বড় ধরণের অপরাধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তারা। তবে এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানালেও তা কতদূর এগোবে সে নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। সাময়িক বরখাস্তের মাধ্যমে ছাড় পেয়ে গেলেন কিনা সে প্রশ্নও উঠেছে।

গত সোমবার (২১ জুলাই) সকালে সাংসদ সেলিম ওসমানের অর্থায়নে নির্মিত নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক আল-আমিনের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ করে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বুধবার (২৪ জুলাই) সকালে স্কুলে উপস্থিত হন সাংসদ সেলিম ওসমান। এ সময় ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেন তিনি। যৌন হয়রানির প্রতিবাদে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের মরাধর করার অভিযোগে শিক্ষক কাউসারকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। যদিও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মারধর করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এদিকে স্কুলটির বর্তমান পরিচালনা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে এডহক কমিটি গঠন করতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে অনুরোধ করেছেন সাংসদ সেলিম ওসমান।

এ সময় বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান এমএ রশিদ, জেলা জাতীয় পার্র্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকম নুরুল আমিন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, স্কুল পরিচালনা কমিটি গোলাপ হোসেন, ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেনসহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবুও আমরা স্বপ্রনোদিতভাবে তদন্ত চালিয়েছি। আমরা এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংবা ভুক্তভোগীর কারো কাছ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো। অপরাধ করলে কেউ ছাড় পাবে না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিন্টু ব্যাপারী বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। সরাসরি কোন ছাত্রী এখনো এ বিষয়ে অভিযোগ করছে না। তদন্ত সাপেক্ষে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ