বৃহস্পতিবার ০২ এপ্রিল, ২০২০

ছাত্রলীগ নেতার যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ভেজাল কয়েল তৈরির কারখানা

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:১০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহমীদ ইসলাম আকিব ও তার ভাই তাওহীদ ইসলাম আশরাফুল মালিকানাধীন কারখানায় নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজন সিরাপ তৈরি করা হয়। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কারখানা দু’টিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজন সিরাপ ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মশার কয়েল জব্দ করে র‌্যাব। গ্রেফতার করা হয়- ছাত্রলীগ নেতা আকিব ও তার ভাই আশরাফুলসহ আরও ১০ জনকে।

র‌্যাব জানায়, এমকে ফুডস্ ও এমএম কনজ্যুমার নামে কারখানা দু’টির যৌথ মালিক গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতা তাহমীদ ইসলাম আকিব ও তার ভাই তাওহীদ ইসলাম আশরাফুল। মাদারীপুরের শিবচর এলাকার মতিন ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোক্তার হোসেন নামে আরও দু’জন মালিক রয়েছেন এই কারখানার। তবে কারখানার জমির মালিক তাহমীদ ইসলাম আকিব ও তার ভাই আশরাফুল।

সোমবার সকালে সোনারগাঁয়ের কুতুবপুর এলাকার এমকে ফুডস্ ও এমএম কনজ্যুমার নামে কারখানা দু’টিতে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় কারখানা দুটি হতে ৭,৩০০ বোতল নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক সিরাপ ও বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কয়েল এবং পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ১টি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার করা হয়- সুমন মোল্লা (১৯), রকিবুল ইসলাম (২২), ফয়সাল আহম্মেদ (১৯), রাজু বেপারী (২৪), খায়রুল আলম (৪৭), হাবু বেপারী (৫০), রাকিব হোসাইন (২৪), আব্দুর রহমান (২৭), তাওহীদ ইসলাম আশরাফুল (২৫), তাহমীদ ইসলাম আকিব (২৩), আনোয়ার হোসেন (২২) এবং রাশেদ গাজী (২৩) নামে ১২ জনকে।

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কারখানা দুটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে অননুমোদিত যৌন উত্তেজক শরবত এবং ভেজাল কয়েল উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। এমএম কনজ্যুমার দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জাম্বু, গাংচিল, ইগলু, ম্যাক্স, নাইট মাস্টার ইত্যাদি বিভিন্ন খ্যাতিসম্পন্ন ব্র্যান্ডের নামে কয়েল তৈরি ও প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করে আসছে। এমকে ফুডস্ এর উৎপাদনকৃত যৌন উত্তেজক লায়ন ফুডস সিরাপগুলো ১৬টি ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, তিতাস গ্যাস কোম্পানির টেকনিশিয়ান জানায় কারখানা দুটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতি মাসে ৩০ লাখ ২৪ হাজার টাকার গ্যাস চুরি করে আসছে। পরবর্তীতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

জসিম উদ্দিন বলেন, কারখানার মালিক তাহমীদ ইসলাম আকিব ও তার ভাই তাওহীদ ইসলাম আশরাফুল। কারখানার আরও দুইজন মালিকের নাম তারা জানিয়েছে। তাদের পলাতক আসামি হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কারখানার জমির মালিক তাহমীদ ইসলাম আকিব ও তার ভাই তাওহীদ ইসলাম আশরাফুল।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ