শুক্রবার ২৯ মে, ২০২০

চোখের জলে ছেলে হত্যার বিচার চাইলেন মা

সোমবার, ৪ মে ২০২০, ১৯:৪১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: চোখের জলে ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতল্লার দেওভোগ আদর্শনগর এলাকার নিহত যুবক শরীফ মাতবরের মা রহিমা বেগম ও বাবা আলাল মাতবর।

লকডাউনের মধ্যেই সোমবার (৪ মে) সকালে আদর্শনগর এলাকাবাসীর ব্যানারে শরীফ হত্যার দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে নিহত শরীফের পরিবারের স্বজনরাসহ স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা অংশ নেন।

বক্তব্য রাখেন আদর্শনগর সমাজকল্যান সংসদের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন ভুইয়া, নিহত শরীফের বাবা আলাল মাতবর ও মা রহিমা বেগম। এ সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত শরীফের বাবা-মা ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের দাবিও জানান তারা।

কাঁদতে কাঁদতে মা বলেন, ‘কী অপরাধ করেছিলো আমার ছেলে? কেন তাকে এইভাবে হত্যা করা হইলো? ছেলের বউটারে দুই মাস ধইরা আনছি। ছেলের বউয়ের ভবিষ্যতটাও ওরা নষ্ট কইরা দিলো। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। প্রধানমন্ত্রী যদি স্বজনহারা হয়ে থাকেন তাহলে তিনি এই বিচার করবেন।’

দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১৭ আসামীকে গ্রেফতার করায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নিহত শরিফ মাদবরের পিতা আলাল মাদবার। তিনি বলেন, যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই। আর যারা নির্দোষ তারা যেন হয়রানীর শিকার না হয়। প্রকৃত হত্যাকারীদের যেন বিচার হয়, আমি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

গত ১ এপ্রিল সকাল ১১টায় নিজ বাড়ির সামনেই কুপিয়ে হত্যা করা হয় শরীফ মাতবরকে (৩০)। বছরখানেক পূর্বে সৌদিফেরত শরীফের বৃষ্টি ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচার নামে একটি দোকান ছিল। গত জানুয়ারিতে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তার। শরীফ হত্যার ঘটানয় নিহতের পিতা বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার বর্তমান অবস্থা জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহাদাত হোসেনের যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, এই মামলার মূল আসামি শাকিল, লালন, শাহীনসহ ১৭ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিরা ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এজাহারনামীয় দুইজন আসামি পলাতক আছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। অতি দ্রুত মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ