মঙ্গলবার ১৬ জুলাই, ২০১৯

চিকিৎসার এ সময়, কারাবাসের দুঃসময়

সোমবার, ৯ এপ্রিল ২০১৮, ১১:৪১

এটিএম জামাল

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: উচ্চতর চিকিৎসার প্রয়োজনে বড় ভাই এটিএম কামাল গতকাল (৮ এপ্রিল) রাতে চলে গেলেন মেয়ের কাছে সুদূর আমেরিকায়। গত এগারো মাস যাবত আমি হাসপাতাল, ডাক্তার, ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারের সদর দরজাগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমি জানি এখানে সবার ভাগ্যে চিকিৎসা জোটে না। ডাক্তার হাসপাতালের তুলনায় যেখানে রোগীর সংখ্যা কয়েক হাজারগুণ বেশি সেখানে চিকিৎসক যান্ত্রিক না হয়ে উপায়ই বা কি? আর যন্ত্র কি সব বোঝে কিংবা হতে পারে মানবিক? রোগীর প্রথমেই প্রয়োজন পড়ে দূর্ভাবনার নিরাময় বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুর জন্যও তার প্রবল মানসিক শক্তি যা রোবট কোনো ভাবেই দিতে পারে না। একজন মানব চিকিৎসকই পারেন অনেক জটিলতার মারপ্যাঁচগুলো খুলে দিতে। সহজ করে দিতে পারে অনেক কিছু। এমন কি আলোকিত করতে পারে মৃত্যুর মতো গাঢ় অন্ধকারকে।

সেদিন একজন ডাক্তার তিনি আমার ছোটো বোনের রিপোর্ট দেখলেন, রাত তিনটা কুড়ি মিনিটে! আমার পরেও রোগী ছিলো চেম্বারের ওয়েটিং রুমে ষোল সতেরজন! এ ঘটনা প্রতিদিনের। অনেক বড় ডাক্তার তিনি তবে তিনি এখন মানুষ নন বোধহয়, তাকে যন্ত্র বলা চলে। সামান্য মানবিক গুণ তার মধ্যে আছে কিনা আমার সন্দেহ আছে!

দুদিন পর রাত দুপুরে অর্ধেক অপারেশনের সময় মনে হলো তিনিতো আগে টাকা নেন নি। তিনি আমাকে অপারেশনের টেবিলের সামনে নিয়ে গেলেন, তার সহকারীর মাধ্যমে আমার থেকে গুণে নিলেন বত্রিশ হাজার টাকা! আমি দেখলাম আমার ছোটো বোন কয়েকটি মনিটরের তারে আর যন্ত্রে গাঁথা অসার পরে আছে টেবিলের উপর!

বছর দুয়েক আগে ভাইয়া বিনা অপরাধে জেলে ছিলেন আট মাস আট দিন! আমি দেখেছি তার কতটা ধকল গিয়েছে জেলে থাকাকালীন সময়ে। ননস্মোকার আমার বড় ভাই যে সেলে থাকতেন সেটি সন্ধ্যার পর থেকে হয়ে উঠতো একটি গ্যাস চেম্বার! আট মাস আট দিনে বড় ভাই ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক কঠিন অসুস্থ্য হয়ে পড়লেন। শেষের দিকে ভাইয়া আমাকে বলেছিলেন অনেক দাগী আসামী বের হয়ে যায় আর আমি বিনা অপরাধে দিনের পর দিন জেলে!

আমেরিকার ম্যারিল্যান্ডে বড় মেয়ে শমি এবং ছেলেসম শমির স্বামী কবিরের কাছে নিবিড় পরিচর্যায় ভাইয়া থাকবেন। চিকিৎসা নিবেন, বিশ্রাম নিবেন। দোয়া করি তিনি যেনো সুস্থ্য হয়ে ওঠেন দ্রুত।

 

সব খবর
সোশাল মিডিয়া বিভাগের সর্বশেষ