বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই, ২০২০

চা খাবার পর তিনজন মিলে গলা কাটল রিকশাচালকের

রবিবার, ১৪ জুন ২০২০, ২২:৪৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজারে অটোরিক্সা চালক জামান (৪৫) হত্যার ঘটনায় মূল হত্যাকারীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে আড়াইহাজার থানার নাগেরচর এলাকা থেকে মূল হত্যাকারী সাইফুল ইসলামকে (৩২) গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী আরেক আসামী বাদশা (৩০) কে ঐদিনই রাতে আড়াইহাজারের বগাদি বাজার থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলামের বাড়ী আড়াইহাজার থানার নাগেরচর এলাকায় ও বাদশার বাড়ী বগাদি এলাকায়।

রবিবার (১৪ জুন) র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল ইমরান উল্লাহ সরকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, গত ১৯ মার্চ জামান (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজের ঘটনার প্রেক্ষিতে তার ছোট ভাই জাকির হোসেন(৪২) নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সাধারণ ডায়েরি করার ৩ দিন পর সকালে আড়াইহাজার থানার মাওরাদী এলাকায় হাত-পা বাঁধা ও দুই চোখ উপড়ে ফেলা অবস্থায় জামানের লাশ পাওয়া যায়। এরপর নিহত জামানের ছোট ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০২।

র‌্যাব আরো জানায়, উক্ত হত্যাকান্ডের পর প্রায় আড়াই মাস তদন্তের পর বেশ কয়েকটি স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে আড়াইহাজার থানার নাগেরচর এলাকা থেকে মূল হত্যাকারী সাইফুল ইসলামকে (৩২) গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী আরেক আসামী বাদশা (৩০) কে ঐদিনই রাতে আড়াইহাজারের বগাদি বাজার থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহত জামান পেশায় ছিলেন একজন অটোরিক্সা চালক। গ্রেফতারকৃত আসামী সাইফুল ইসলাম ও বাদশার সাথে ভিকটিম নিহত জামানের অটোরিক্সা নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিরোধ ছিল।

তাছাড়া ঘটনার এক মাস পূর্বে পাওনা টাকা নিয়ে নিহত জামানের ভাই জাকির হোসেন সাইফুলকে রাস্তায় অপদস্থ ও অপব্যবহার করে। তার জের ধরে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে সাইফুল ইসলাম, আক্তার ও বাদশাহকে নিয়ে জামানকে খুন করার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন জামানকে সাথে নিয়ে সাইফুল, আক্তার ও বাদশাহ একসাথে বাজারে যায় এবং সাইফুল বাজারে গিয়ে আক্তারকে গামছা কিনার জন্য ৪৫ টাকা দেয়। আক্তার গামছা কিনে নিয়ে আসার পর তারা তিনজন জামানকে সাথে নিয়ে নাগেরচর চৌরাস্তায় চা খায়। চা খাওয়ার পর তারা সবাই চৌরাস্তা ব্রীজের কাছে যায়। ব্রীজে পৌছার পর বাদশা মাফ চাওয়ার কৌশলে জামানের পা ধরে টান দিয়ে জামানকে মাটিতে ফেলে দেয়। তারপর মূলহত্যাকারী সাইফুল ইসলাম জামানের গলা চেপে ধরে। তখন আক্তার বলে গলা চেপে ধরলে শব্দ হবে তার পরিবর্তে আক্তার গামছা দিয়ে মুখে ও গলায় প্যাচিয়ে ধরার পর ছুরি দিয়ে গলায় খুচিয়ে খুচিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরবর্তীতে তারা জামানের মৃত দেহ পাশের কলাবাগানের ভিতরে ফেলে দিয়ে নিজ নিজ বাড়ীতে চলে যায়। গ্রেফতারকৃতদের আড়াইহাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ