বৃহস্পতিবার ০২ এপ্রিল, ২০২০

চাষাঢ়ায় টর্চার সেল, ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পেতো না

সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:২৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় নির্মাণাধীন চারতলা ভবনটির অবস্থান। শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে নির্মাণাধীন এই ভবনটির দুই পাশে রয়েছে সুউচ্চ দু’টি ভবন- মার্ক টাওয়ার ও হক প্লাজা। বাইরে থেকে দেখতে নির্মাণাধীন ভবন মনে হলেও এর ভেতর তৈরি করা হয়েছে টর্চার সেল। গত রোববার রাতে নির্মাণাধীন এই ভবনটিতে শাহ্জাহান নামে এক ব্যক্তিকে ধরে এনে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছে। ভবনটির পাশের ফুটপাতে বসা হকার ও দোকানদারদের ভাষ্যমতে, প্রায় সময়ই ভবনটিতে এমন নির্যাতন চলে। মাদক গ্রহণের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এটি। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী একটি মহলের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা কিছু তরুণ ও যুবক এখানে আড্ডা দেয় নিয়মিত। আশেপাশের লোকজনের কাছে রীতিমতো টর্চার সেল বলেই পরিচিত পেয়েছে ভবনটি।

গত রোববার শহরের বাস টার্মিনালের সামনে থেকে শাহ্জাহান নামে এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে আসে কয়েকজন যুবক। এই শাহ্জাহান শহরে জুয়ার আসর চালানোর কারণে বেশ পরিচিত। দশ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে তাকে তুলে এনে চাষাঢ়ার ওই নির্মাণাধীন ভবনটির একটি কক্ষে নিয়ে কয়েক ঘন্টা যাবৎ চলে নির্যাতন। নির্যাতনের তিন ঘণ্টা পর জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ এ কল পেয়ে পুলিশ শাহ্জাহানকে উদ্ধার করে। আটক করে মো. সানি (২৮), হানিফ নাঈম নিপুণ (৩০) এবং রতন বিশ্বাস (২৯) নামে তিন যুবককে। তারা সবাই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী বলে পরিচয় দিতো। এই ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলাও হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী বন্ধন গাড়ীর ড্রাইভার। রবিবার ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখ রাত সাড়ে আট টার সময় নারায়ণগঞ্জ বাস ট্রার্মিনাল ভিআইপি গেইটের সামনে দিয়া যাওয়ার সময় সানি, রতন, হানিফ নাইমসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন ৪টি মোটর সাইকেল নিয়া বাদীর গতিরোধ করে কৌশলে মোটর সাইকেলে তুলে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়ার হক প্লাজা ও মার্ক টাওয়ারের মাঝামাঝি নির্মানাধীন বিল্ডিং এর ২য় তলায় মারপিট করে। এইসময় চিৎকার করলে আসামিরা জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা এলোপাথারিভাবে মারপিট করে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। আমি টাকার জন্য আমার বন্ধুকে ফোন দিলে কৌশলে সে পুলিশ নিয়া উপস্থিত হয়ে আহত অবস্থায় বাদীকে উদ্ধার করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ভবনটিতে সানি, নিপুণ এবং রতন বিশ্বাসসহ ছাত্রলীগের পদধারী একাধিক নেতাকে এখানে দেখা যেতো। তাদের আড্ডাস্থল হিসেবে ভবনটি ব্যবহার করা হতো। প্রায় প্রতি রাতেই এখানে আড্ডা চলতো। চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা যেতো। আশপাশের দোকানদার ও পথচারীরা শুনতে পেলেও ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পেতো না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দোকানদার বলেন, ‘অনেককেই এখানে ধরে আনা হতো। তারপর চলতো নির্যাতন। কান্নাকাটির আওয়াজ শোনা যেতো প্রায়ই। রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাধর ও পরিচিত অনেক ছাত্রনেতারও রোজকার যাতায়াত ছিল এখানে।’

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। এরকম হলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ