সোমবার ১৭ জুন, ২০১৯

চাষাড়ায় বিআরটিসি কাউন্টার ভাঙচুরে জড়িতদের গ্রেফতার দাবি

সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৬:৩৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি’র নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী এসি বাসের চাষাড়া কাউন্টার ভাঙচুর করে সরিয়ে দেওয়ার সাথে জড়িত লোকেদের গ্রেফতার না করায় জেলা পুলিশ সুপারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলা যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের নেতৃবৃন্দ।

সোমবার (২৭ মে) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সংগঠনটির আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, ‘সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া মানে হচ্ছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। যারা রাষ্ট্রবিরোধী এই কাজের সাথে যুক্ত ছিল আপনি পুলিশ সুপার কেন সেই চাঁদাবাজ, মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। সেই চাঁদাবাজদের নাম গণমাধ্যমে এসেছে সেই নামগুলো জানার পরেও তাদের গ্রেফতার করলেন না। আমাদের মনে প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, আপনি যেই ঘোষণা দিয়েছিলেন সেই জায়গায় আপনি কতোটা আছেন।

তিনি আরো বলেন, দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ২২ মে যখন বিআরটিসির পরিবহনটি আবার চালু হল তখন কাউন্টারগুলো ভেঙ্গে উঠিয়ে দিয়েছে সেই চিহ্নিত মাফিয়া চাঁদাবাজ গোষ্ঠী। সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া মানে হচ্ছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। এটি সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়, এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান। এটি রাষ্ট্রদ্রোহীতা। গণবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী একটি কার্যক্রম।

রফিউর রাব্বি বলেন, বিআরটিসির বাস কাউন্টার যেই জায়গায় বসানো হয়েছে সেটি এত দূরে যে কেউ হেঁটে যায় না। আমরা দাবি জানাচ্ছি বিআরটিসি কাউন্টার আরো কাছাকাছি এনে কাউন্টার জিয়া হলের সামনে বা রাইফেলস ক্লাবের সামনে বসাতে হবে। এতে কোন গডফাদার টিকে থাকলো কি থাকলো না তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। যদি তাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে না পারেন তাহলে এই প্রশাসন থাকার কোন কারণ নাই। প্রশাসনের কাজ হচ্ছে জনগণের সেবা করা। গডফাদারদের কাছে নতজানু হওয়া প্রশাসনের কাজ না।

তিনি বলেন, লক্ষাধিক নারায়ণগঞ্জবাসী ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে যাতায়াত করে। সেই জায়গায় সরকারের গণপরিবহন সংস্থার কত নিদারুণ অবহেলা; এই নারায়ণগঞ্জে আমরা তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। বিআরটিসি সরকারের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এই বিআরটিসি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে সবসময় তাদের সেবা প্রদান করে না। কারণ, নারায়ণগঞ্জে যে জিম্মি গোষ্ঠীটি রয়েছে যারা বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি করে, বিআরটিসি তাদের সাথে আঁতাত করে চলছে বলে আমি মনে করি।

মানববন্ধনে বিআরটিসি বাসের ভাড়া কমিয়ে এসি ৪৫ ও নন এসি ৩০ টাকা করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। চাষাড়ায় বিআরটিসির কাউন্টার ভাঙচুর করে সরিয়ে দেওয়া দূর্বৃত্তদের অতি দ্রুত গ্রেফতারের দাবিও জানানো হয়।

সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু সাহা, নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, জেলা নারী সংহতির সভাপতি পপি রাণী সরকার প্রমুখ।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ