রবিবার ২১ জুলাই, ২০১৯

চাষাড়ায় আ’লীগ অফিসে বোমা হামলা, ১৮ বছরেও বিচার হয়নি

শনিবার, ১৫ জুন ২০১৯, ২১:৫২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জ বোমা হামলা ট্রাজেডি দিবস। ২০০১ সালের এই দিনে নগরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে নৃশংস বোমা হামলায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও মহিলাসহ ২০ জন নিহত হয়। আহত হয় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ শতাধিক নেতাকর্মী। ঘটনার ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এ হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি। প্রাণে বেঁচে যাওয়া আহতরা পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো দিন কাটাচ্ছে অর্থ সংকটে । আজও নারকীয় এ হত্যাযজ্ঞের বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে নিহতদের পরিবারের স্বজনদের মধ্যে।

২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভের পাশে আওয়ামী লীগ অফিসে শক্তিশালী বোমা হামলায় ৪ নারীসহ ২০ জন প্রাণ হারায়। আহত হয় শামীম ওসমানসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে। বোমা হামলার ঘটনার পরদিনই শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামী করে হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চুড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। অন্যদিকে বোমা হামলায় নিহত ফুটপাতের পিঠা বিক্রেতা হালিমা বেগমের ছেলে কালাম বাদী হয়ে শামীম ওসমান ও তার দুই ভাইসহ অনেককে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নিদের্শে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৩ সালে বিস্ফোরক মামলায় ২৭ জনকে ও ২০১৪ সলে হত্যা মামলায় তদন্তকারী সংস্থা ২২ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে । এ মামলায় গ্রেফতার হয়েছে চারদলীয় জোট সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার আরিফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল নেতা শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ১০ জন। আসামীদের মধ্যে বৃটিশ হাই কমিশনারের উপর বোমা হামলার মামলায় মুফতি হান্নানের মত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। কারাগারে রয়েছে আদালতে একমাত্র স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেওয়া শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল ও আব্দুস সালাম পিন্টু। ভারতে গ্রেফতার রয়েছে সহোদর আনিসুল মোরছালিন ও মাহাবুবুল মুত্তাকিম। জামিনে রয়েছে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু ও ওবায়দুল হক। বাকী আসামীর পলাতক রয়েছে। ১০২ জন স্বাক্ষীর মধ্যে বাদী ব্যতিত কোন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন সম্ভব হয়নি। এতে সংশয় ও ক্ষোভ সৃস্টি হয়েছে বিচার নিয়ে ।

মাত্র ৩৩ মাসে ৭ খুন মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হলেও দীর্ঘ ১৮ বছরেও ২০ হত্যা মামলার বিচার না পাওয়া ও জামিনে থাকা আসামীদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোতে বিচার নিয়ে শংকা প্রকাশ করে নিহতের স্বজনরা। ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার নানা আশ্বাস দিলেও তা বাস্তসায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে দ্রুত বিচারের দাবী করেন তারা।

বিভিন্ন কারনে মামলার আসামী ও স্বাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে না পাড়ায় বিচার বিলম্বিত হচ্ছে উল্লেখ করে মামলার বাদী নিজেও বিচার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ