শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

চরম অব্যবস্থাপনায় লাশ কাটা ঘর, এসি নষ্ট, ভরসা বরফ

বুধবার, ২৯ আগস্ট ২০১৮, ২০:৩৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ জেলার একমাত্র লাশ কাটা (মর্গ) ঘর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের অবস্থিত। পুরো জেলার লাশের ময়না তদন্তের মর্গটির ব্যবস্থাপনায় রয়েছে চরম ত্রুটি। লাশ রাখার নেই কোন পরিপূর্ণ ব্যবস্থা। মর্গের চারটি এসিই নষ্ট। ময়নাতদেন্তর জন্য আনা লাশকে ময়লা ও অপরিচ্ছন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়। লাশ সংরক্ষণেরও নেই পর্যাপ্ত কোন ব্যবস্থা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চলে লাশের ময়নাতদন্ত। যে সকল লাশের পরিবার-পরিজন একটু প্রভাবশালী তারা হয়তো একটু ভাল পরিবেশ পায়। আর অসহায়, গরীবদের কষ্টের শেষ নেই। আদরের স্বজন লাশ হয়ে নোংরা জায়গায় পড়ে থাকলেও তাদের কিছুই করার নেই।

বুধবার (২৯ আগষ্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুই কক্ষ বিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে লাশ আছে। দুইটা করে মোট ৪টি এসি থাকলেও বর্তমানে চারটি এসিই নষ্ট। অপরিচ্ছন্নতার মাঝে পড়ে আছে লাশ। দুইটি লাশের স্থানে পড়ে পড়ে রয়েছে আরো কয়েকটি লাশ।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রয়াত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাসিম ওসমান শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক মর্গ হাউজটি উদ্বোধন করেন। তবে এখানে লাশ ঘন্টার পর ঘন্টা আবার কখনো দিনের পর দিন হাসপাতালের মর্গে ও ফ্লোরে পড়ে থাকে। প্রায় সময় ডাক্তাররা সময়মত লাশের ময়নাতদন্তের জন্য আসেন না। ফলে সেই লাশের ময়নাতদন্ত করতে কখনো ঘন্টা আবার কখনো দিন পেরিয়ে যায়। তবে একজন ডাক্তার করে ৪-৫ মিনিটের মধ্যে সেই কাজটি করে থাকে। লাশ রাখার যথেষ্ট ব্যবস্থা না থাকার কারণে লাশে পচন শুরু হয়ে যায়। এসব ঘটনা দেখে লাশের অভিভাবকরা আক্ষেপের সুরে বলেন, মরেও কষ্ট শেষ হয় নাই।

১৬ আগষ্ট দেওভোগ এলাকার আমহাট্টা এলাকার ৪ বছরের শিশু শিহাব উদ্দিন আলিফকে হত্যা করা হলে তার লাশটি সেইদিন বিকালে হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসা হয়। পরের দিন (১৭ আগষ্ট) দুপুরে ময়নাতদন্তের কাজ করা হয়। তিনদিন পূর্বের আরও দুইটি লাশ থাকার কারণে শিশুটির লাশ নিচে ফেলে রাখা হয়। সময়ের কারণে লাশটি পঁচে যায়। এই ঘটনায় তার পরিবার আক্ষেপ করে বলেন, এজন্যই চাই নাই আলিফরে এখানে আনতে। আলিফের চাচা বলেন, এর চেয়ে আমাদের গাড়িতে বক্সে রাখলেও এমন অবস্থা হইত না আমাগো ছেলেটার।

ময়নাতদন্তের সময় লাশ অব্যবস্থাপনার মাঝে রাখা হয়। যার জন্য লাশের অভিভাবকরা মনে করেন, লাশের উপর ময়নাতদন্তের নামে চলে একধরনের নির্যাতন। এজন্য অনেক সময় লাশের অভিভাবকগণ লাশকে ময়নাতদন্ত করতে দিতে ইচ্ছা পোষন করেন না।

মর্গের তত্তাবধায়নকারী দরবন বলেন, লাশ এখানে বেশি রাখার কথা না। কিন্তু মাঝে মধ্যে দেরী হইয়া যায়। ডাক্তার আসতে লেট হইলে নয়ত বেশি লাশ হইয়া গেলে। দুইটা লাশ রাখার জায়গা আছে, বাকি লাশ নিচে রাখতে হয়। এসি আছে চারটা, চারটাই নষ্ট। ফ্যান ছাইড়া রাখি। ফ্যানগুলাও নষ্ট হইয়া যায় কয়েকদিন পরপর। এইজন্যই লাশ পঁচে। পরে বরফ দিয়া লাশ মাটিতে রাখি, ঘরটা এজন্যই পানি আর বালুতে কাঁদা কাঁদা হইয়া যায়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মর্গের এসি ঠিক করার জন্য প্রায় এক মাস পূর্বে আমরা গণপূর্ত বিভাগে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। এছাড়া লাশ রাখার জন্য নারায়ণগঞ্জে কোন মরচুয়ারি নাই। লাশ সংরক্ষণের জন্য একটি মরচুয়ারি তৈরীর জন্য আবেদন করেছি।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান বলেন, আমরা হাসপাতাল থেকে আবেদনটি পেয়েছি। আবেদনটি ঢাকায় প্রধান অফিসে পাঠায় দিবো। টাকা আসতে আসতে আগামী বছরের মার্চ- এপ্রিল লাগবে। টাকা পেলেই কাজ হয়ে যাবে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ