সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯

‘ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে ’

বুধবার, ২৫ জুলাই ২০১৮, ২০:০০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বুধবার (২৫ জুলাই) বেলা ১২টা। সরজমিনে দেখা যায়, ফতুল্লার উকিল বাড়ির মোড়, ইয়াদ-আলী মসজিদ রোড সংলগ্ন এলাকা, ফতুল্লা রেল ষ্টেশন এলাকার বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে আছে। শুধু তাই নয় বাড়ি-ঘরে এমনকি রান্না ঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। র্দুভোগ পোহাচ্ছে পানিবন্দি মানুষ। শিল্প-কারখানার ক্যামিকেলযুক্ত বিষাক্ত পানি বৃষ্টির পানির সাথে মিশে একাকার। র্দুগন্ধযুক্ত দিয়েই এলাকাবাসীকে চলাচল করতে হচ্ছে। মোটকথা সামান্য বৃষ্টি এলেই জলাবদ্ধতা, এই এলাকার জন্য কোন নতুন ঘটনা নয়। গত তিনদিনের হালকা ও ভারী বর্ষণে এই পরিস্থিতির সৃস্টি হয়েছে ওই সব এলাকায়।

ইয়াদ আলী মসজিদ এলাকার শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, আমাদের এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ গুলো সব সময় সচল রাখা প্রয়োজন, শুধুমাত্র বর্ষা মৌসুমের জন্য নয়। বর্ষা মৌসুমে ড্রেন পরিষ্কার থাকে না। পলিথিন, প্লাস্টিক সহ অপচনশীল বস্তু ড্রেনে ফেলে ড্রেনে পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে ড্রেন পরিষ্কারের যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহন করে না। এজন্য বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানি জমে যায়।

অসহায় জীবনের এক দৃশ্য দেখা যায় উকিল বাড়ি মোড় এলাকায়। নিচু এক বাড়িতে তিন ছেলে-মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে ভাড়া থাকে রিমা বেগম। যে ঘরটিতে থাকেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার ঘরে বৃষ্টির পানিতে ডুকে পড়েছে আর নিচের জিনিসপত্রগুলো পানিতে ভাসছে। নিজেরের পরিবারের অবস্থার কথা বলতে গিয়ে বলেন, টেকা-পয়সা কম, নিচা বাড়িত থাকি। পরশু রাইতে বৃষ্টি হইছে আর ঘরে পানি ঢুইকা গেছে। ঘরে যাই আছে, কোন রকম ইট দিয়া উঁচা কইরা রাখছি। দুই দিন এই পানির মধ্যেই আছি। পাকের (রান্না) ঘর ডুইবা গেছে, অন্য বাড়িতে গিয়া রাইন্ধা আনি।

দুপুর পৌনে ২টা। গার্মেন্টস কর্মীরা দুপুরের খাবারের সময় শেষে সিসিয়ালে সব গার্মেন্টসকর্মীরা কাজে ফিরছেন। রেল ষ্টেশন এলাকারবাসিন্ধা গার্মেন্টসকর্মী জমিলা বলেন, এমনেই এই এলাকার রাস্তা ভালা না, হের উপরে পানি থাকলে এই রাস্তা দিয়া কি চলন যায়। রাস্তার পানি দেখলে মনে অয়, পানিগুলি কাটা গায়ে নুনের ছিটা। কি যে বলমু কাইলকা রাইতে রাস্তায় গর্তে পইরা গেছি । কি ব্যাথাটা পাইছি! ব্যাথা লইয়াই আবার এখন কামে যাইতাছি। কোন সুযোগ নাই কাম আছে কপালে।

জলাবদ্ধতা সমস্যার কোন স্থায়ী সমাধান দেখছে না এলাকাবাসী। তাদের মতে সড়ক ঠিক করা হয় কিন্তু জলাবদ্ধতার কোন সমাধান করা হয় না। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি করা হচ্ছে না।

জলাবদ্ধতা, পানি নিষ্কাশন সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কুতুবপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার হান্নানুর রফিক রঞ্জু বলেন, দ্রুত এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের কিছুু প্রজেক্ট নেওয়া আছে। প্রজেক্টগুলো পাশ হলে জলাবদ্ধতার সমস্যা কমে যাবে। এই মাসের ৩০ তারিখের পরেই ফতুল্লা স্টেডিয়ামের দক্ষিন পাশ দিয়ে ড্রেনেরজের ব্যবস্থা করা হবে। এর পূর্বেও স্টেডিয়ামের ড্রেনের সাথে এই ওয়ার্ডের পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেনের সংযোগ ছিল। পরবর্তীতে স্টেডিয়ামের কতৃপক্ষ বন্ধ করে দেয়। আমরা পানি নিষ্কাশনের প্রজেক্ট হাতে নিচ্ছি। এটা করা হলেই এই এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যার সমাধান হবে।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ