বৃহস্পতিবার ২৭ জুন, ২০১৯

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব গণবিরোধী ও বেআইনি: রফিউর রাব্বি

শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ২০:১৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: এখতিয়ার বহির্ভূত গণশুনানি ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পায়তারা করছে সরকার উল্লেখ করে প্রতিবাদে নগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

শুক্রবার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর ডিআইটি এলাকায় অবস্থিত আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের মূল সড়ক প্রদক্ষিণ করে চাষাড়া স্মৃতিস্তম্ভের সামনে এসে শেষ হয়।

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে ও নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এড. এবি সিদ্দিক, সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য এড. মন্টু ঘোষ, বাসদের জেলা সংগঠক আবু নাইম খান বিপ্লব, জেলা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস ও ন্যাপের জেলা সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির জন্য সরকার গণশুনানির আয়োজন করেছে। সরকারের এই শুনানি লোক দেখানো ছাড়া আর কিছু না। শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায়, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। যেখানে বিল হয় না কিন্তু গ্যাসের দাম ঠিকই নিচ্ছে। এই অনিয়মের কারণে ওইসব অসাধু ব্যক্তিদের কারণে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করার প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু এসবের দায়ভার সাধারণ মানুষ নেবে না। যেখানে গ্যাসের দাম কমানো যায় সেখানে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করার চিন্তা ভাবনা করছে সরকার।

সভাপতির বক্তব্যে রফিউর রাব্বি বলেন, ‘গ্যাসের অপব্যবহার হচ্ছে। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান একটি বৈধ, একটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে আসছে। যার কোনো হিসেব নেই। এটি কারা করছে? সরকারের ও গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় অসাধু ব্যক্তিরা করছে। সুতরাই এর দায় অবশ্যই সরকার ও কোম্পানিগুলোকে নিতে হবে, বিইআরসিকে নিতে হবে। এই দায় জনগণ নেবে না।’

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে গণবিরোধী ও অন্যদিকে বেআইনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন অনুয়ায়ী বছরে একবার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা যাবে। কিন্তু গত অক্টোবর মাসে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ বছর মার্চের ১১ তারিখ আবার মূল্যবৃদ্ধির শুনানি শুরু করেছে। গ্যাস বিতরণকারী ৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধু সুন্দরবন ছাড়া বাকি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। তারপরও মূল্য বৃদ্ধি করছে। এর কারণ হিসেবে তারা কোনো যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। আমরা যা উপলব্ধি করছি তা হলো, গ্যাস আমদানির সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ত যে লুটেরা গোষ্ঠি, বাহিনী রয়েছে তাদের সুবিধা দেয়ার জন্যই তারা এসব করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিছুদিন আগে উচ্চ আদালতে একটি রিট দাখিল করা হয়েছে। আমদানির অনিয়মগুলো তুলে ধরা হয়। হাই কোর্ট তিতাসকে প্রশ্ন করেছে, আমদানি ক্ষেত্রে এ অব্যবস্থাপনা কেন? ভারতে যে গ্যাস আমদানিতে ৬ ডলার সেই একই জিনিস বাংলাদেশে ১০ ডলার কেন দেবে? আমাদের এটর্নি জেনারেল থেকে শুরু করে কেউ এর সদুত্তর দিতে পারেনি। তারা বলতে পারেননি এটা আমরা চুরি করবো। কিন্তু আমরা জনগণ সরকারের এই চুরির বিরুদ্ধে দাঁড়াবো। এবং গ্যাস বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।’

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ