শুক্রবার ২৯ মে, ২০২০

গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই , ৫ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২০, ২২:৫০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন

গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ইসমাইল হোসেন নামে এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে মারধর করে ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি পুলিশ। উল্টো ওই ছিনতাইকারীরা ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার ছোট ভাইকে মারধর করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

গত ২৬ এপ্রিল (রবিবার) মাউরাপট্টি এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন শহরের উত্তর চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা। সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার তল্লা এলাকায় মা গার্মেন্টস নামে তার একটি পোশাক কারখানা রয়েছে।

ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করে জানান, কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেয়ার জন্য ২৬ এপ্রিল তিনি বিভিন্নজনের কাছ থেকে পাওনা বাবদ ১ লাখ সাড়ে ৩৯ হাজার টাকা যোগাড় করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল পরদিন কারখানায় এসে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করবেন। তবে কারখানায় নগদ টাকা রাখা নিরাপদ নয় ভেবে রাত দশটায় সেই টাকা পকেটে নিয়ে কারখানা থেকে বের হন শহরের উত্তর চাষাঢ়ার বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে। যাত্রাপথে মাউরাপট্টি এলাকায় ৭/৮ জনের একটি ছিনতাইকারী দল তার পথরোধ করে। এসময় ছুরি ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকাগুলো ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এসময় তিনি বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে পুরো ১ লাখ সাড়ে ৩৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি ফতুল্লা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ছিনতাইকারীদের ধরতে মাউড়াপট্টি এলাকায় গেলেও কাউকে পায়নি। তবে পুলিশ আসার খবর পেয়ে ছিনতাইকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন দল বেঁধে প্রায় ১৫/২০ জন তার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালায়। তার ছোট ভাই ইশাকে বাসার সামনে পেয়ে বেধম মারধর করলে ইশা গুরুতর আহত হন।

ইসমাইল হোসেন বলেন, এসময় বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা গেইট লাগিয়ে দিলে সন্ত্রাসীরা গেইটে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে তাদের ছোঁড়া ইট পাটকেল গেইট থেকে ফিরে এসে আরিফ নামের এক ছিনতাইকারীর মাথায় লেগে তার মাথা ফেটে যায়। এ ঘটনায় ছিনতাইকারীরা উল্টো আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়ে চলে যায়। তার অভিযোগ, এ ঘটনার এলাকায় আতংক দেখা দিলেও পুলিশ ৫ দিনেও মামলা গ্রহণ করেনি এবং কোন ধরণের ব্যবস্থা নেয়নি। মামলা না নেয়ার ব্যাপারে পুলিশের আচরণেও অনীহা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ইসমাইল হোসেন।

এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইসচার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরণের ঘটনা ঘটছে। একেক ঘটনা একেক অফিসার তদন্ত করছেন। স্পর্শকাতর ঘটনাগুলো আমি নিজে তদারকি করি। তবে ভুক্তভোগী আমার সাথে যোগাযোগ না করায় এই বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। যে অফিসার তদন্ত করছেন তাকে বলে দেব যেন সুষ্ঠু তদন্তসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়। ভুক্তভোগী আমার সাথে দেখা করলে তার কাছ থেকে বিস্তারিত জানব এবং তিনি যেন ন্যায়বিচার পান সে বিষয়টিও দেখব।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ