শুক্রবার ০৫ মার্চ, ২০২১

গান বাজালে জানাজা না পড়ানোর ঘোষণায় প্রশাসনের তদন্ত কমিটি

রবিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:৩৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের বন্দরের একটি এলাকায় সামাজিক অনুষ্ঠানে গানবাজনা করলে তাদের পরিবারের সদস্যদের জানাজা ও বিয়ে না পড়ানোর ঘোষণায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (৩ জানুয়ারি) উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের এই কমিটিকে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার।

তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রধান এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও পল্লী উন্নয়ন অফিসারকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দুই কার্যদিবস পরে তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন। তদন্তের পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গত ১ জানুয়ারি জুমার নামাজের সময় বন্দর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবাগ এলাকায় বিয়ে, সুন্নতে খাৎনা, গায়ে হলুদের মতো অনুষ্ঠানগুলোতে গান-বাজনার আয়োজন করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেয়া হয়। ইসলাম ধর্মাবলম্বী কোনো পরিবার এই নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের বিয়ে পড়াতে বা দোয়ায় কোনো আলেম অংশগ্রহণ করবে না। এমনকি ওই পরিবারের কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার জানাজার নামাজ পড়াতেও মসজিদের ইমাম বা অন্য কেউ অংশগ্রহণ করবে না বলেও ঘোষণা দেয়া হয়। এই নির্দেশনা মসজিদের মাইকেও এলাকাবাসীদের জানানো হয়। গানবাজনা করলে বিয়েতে এবং জানাজার নামাজে মসজিদের ইমামের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে তা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়।

স্থানীয় পঞ্চায়েত ও মসজিদ কমিটির লোকজন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাব্বির আহম্মেদ ইমন। তিনি বলেন, ‘বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাগে জান্নাত জামে মসজিদ কমিটির লোকজন জুমার নামাজের খুতবার আগে বিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে গানবাজনার প্রসঙ্গটি তোলেন। পরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই নির্দেশ কেউ অমান্য করলে তার জানাজা ও বিয়েতে কোনো ইমাম বা আলেম যাবেন না। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টিও ঠিক।’

দুপুরে কলাবাগ এলাকার বাগে জান্নাত জামে মসজিদের ভেতরে কথা হয় মসজিদের ইমাম আবু বকরের সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবারও এই এলাকার দু’টি বাড়িতে বিকট আওয়াজে রাত দুইটা পর্যন্ত গান চলছে। উচ্চস্বরের গান বাজানো বন্ধ করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হইছে। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন কবির এলিন, মসজিদ কমিটির সহসভাপতি মজিবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ তাওলাত হোসেনও সে সময় উপস্থিত ছিলেন। তারাই উপস্থিত মুসুল্লিদের সামনে এই ঘোষণা দিছেন।’

ওই সময় মসজিদে উপস্থিত মসজিদ কমিটির সহসভাপতি মজিবুর রহমানও বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘এই এলাকার মধ্যে লাউড স্পিকারে সাউন্ড বক্স বাজানোর বিষয়ে আগেও নিষেধ করা হইসে। সর্বোচ্চ রাত দশটা পর্যন্ত চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরে দেখা গেছে রাত ২টা পর্যন্তও গান বাজানো হয়। এতে আশেপাশের লোকজন বিরক্ত হয়। পরে মসজিদ কমিটি, পঞ্চায়েত কমিটি ও মেম্বারের মত অনুযায়ী কিছু করা দরকার বলে সিদ্ধান্ত হয়। পরে ইমাম সাহেব কোরআনের আলোকে গান-বাজনা বাজানো নিয়ে কিছু বয়ান করেন। এরপর ওই ঘোষণা দেয়া হয়। তবে জানাজার নামাজ ও বিয়ে না পড়ানোর বিষয়টি ছিল কেবল ভয় দেখানোর মতো। এইগুলা বইলা যাতে তাদের গান-বাজনা থামানো যায়।’

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ